শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

রানাঘাট স্টেশন থেকে মুম্বইয়ের স্টুডিও! হিমেশ রেশমিয়ার পরিচালনায় বলিউডে প্লে-ব্যাক করলেন রাণু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক দিন আগেই ফেসবুকের একটি ভাইরাল পোস্ট তামাম বঙ্গবাসীর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল তাঁকে। নেট দুনিয়া মুগ্ধ হয়ে শুনেছিল, রানাঘাটের ‘ভিখারিণী’ রাণু মণ্ডলের আশ্চর্য সুন্দর গান। সেই প্রতিভার জোরেই এবার মুম্বই পাড়ি জমালেন রাণু। ভবঘুরে, ভিখারিণী, স্টেশন-নিবাসী থেকে রাতারাতি হয়ে উঠলেন ‘প্লে ব্যাক সিঙ্গার’! জনপ্রিয় বলিউড সঙ্গীতশিল্পী হিমেশ রেশমিয়ার তত্বাবধানে রেকর্ড করে ফেললেন নতুন হিন্দি ছবির গান।

গত মাসের ২০ তারিখে প্রথম সামনে এসেছিল রাণু মণ্ডলের ভিডিও। লতা মঙ্গেশকরের ‘পেয়ার কা নাগমা’ গানটি গেয়ে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ার ‘সেনসেশন’ হয়ে উঠেছিলেন রানাঘাটের স্টেশন চত্বরের বাসিন্দা রাণু মারিয়া মণ্ডল। সংবাদমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছিল তাঁর কীর্তির কথা। পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন অনেকে। একটি পুজো কমিটির থিম সং-ও গেয়ে ফেলেন রাণু।

তবে শুধু বাংলাতেই নয়, সেই গান ভাইরাল হতেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে তাঁর কণ্ঠের প্রশংসার বন্যা বয়ে গিয়েছিল। দিল্লির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এগিয়ে এসেছিল, তাঁকে পেশাদারি ভাবে গান গাওয়ানোর জন্য। ইতিমধ্যে মুম্বইয়ের একটি টেলিভিশন প্রোডাকশন হাউস থেকেও কাজের জন্য ডাক পেয়েছিলেন রাণু।

তবে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাঁর পরিচয়পত্র না থাকা। বহু বছর ঘরছাড়া রাণু। পথেই ঘুরে বেড়ান গান গেয়ে। থাকেন স্টেশনে। ফলে তাঁর কাছে কিছুই ছিল না। খবর পেয়ে রাণুর মেয়ে আসেন, কিন্তু তিনিও সুরাহা করতে পারেননি। তাই অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল রাণুর মুম্বই যাওয়া। কিন্তু পরে এলাকার বিধায়ক এবং রানাঘাটের কিছু এগিয়ে আসা মানুষের সাহায্যে সে সমস্যা মেটে। মুম্বই পৌঁছন রাণু। রেকর্ড করেন গান।

সূত্রের খবর, ‘হ্যাপি হার্ডি অ্যান্ড হির’ নামে হিমেশ রেশমিয়া প্রযোজিত একটি ছবির জন্য গান গেয়েছেন রাণু মারিয়া মণ্ডল। গানের নাম ‘তেরি মেরি কাহানি’। ছবিটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মুক্তি পাবে। ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সলমন খান। অভিনয় করছেন প্রযোজক হিমেশ নিজেও। ছবির সঙ্গীত পরিচালকও হিমেশ নিজেই।

দেখুন ভিডিও।

রাণু মণ্ডল-হিমেশ রেশমিয়ার যুগলবন্দি

রাণাঘাট স্টেশনের সেই রাণু মণ্ডল আজ ‘প্লে ব্যাক সিঙ্গার’। শুনে নিন, রাণু মণ্ডল-হিমেশ রেশমিয়ার যুগলবন্দি।

The Wall এতে পোস্ট করেছেন শুক্রবার, 23 আগস্ট, 2019

জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় রাণুর গান শুনেই বেশ মনে ধরেছিল হিমেশের। তিনি তখনই প্রশংসা করেছিলেন গানের। এর পরে একটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘সুপারস্টার সিংগার’-এর মঞ্চে আনা হয়েছিল রাণুকে। সেখানে, তাঁকে দিয়ে গান রেকর্ড করানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন হিমেশ। সেই প্রতিশ্রুতিই পূরণ করলেন তিনি। তাঁর প্রযোজিত ছবিতে বাংলার রাণুকে দিয়ে গান রেকর্ড করালেন হিমেশ।

রাণু তো বটেই হিমেশ রেশমিয়া এই কাজটি করে নিজেও খুব খুশি। তিনি বলেন, “সলমন ভাইয়ের বাবা সেলিম আঙ্কেল আমায় এক বার বলেছিলেন, জীবনে প্রতিভাধর মানুষের সঙ্গে আলাপ হলে তাঁর পাশে দাঁড়াতে। তাঁকে সাধ্যমতো সাহায্য করতে। আমিও সেই চেষ্টাই করেছি।”

তবে রানাঘাটের স্টেশন চত্বর থেকে সোজা মুম্বইয়ের রেকর্ডিং স্টুডিও! এ যেন রাণুর কাছে খানিক স্বপ্নের মতোই। এত দিনের অনটন ও অনিশ্চিত জীবনের শেষে এবার হয়তো খুলে গেল তাঁর ভাগ্যের দরজা। যে দরজা খোলার চাবিকাঠি, রাণুর সঙ্গীত প্রতিভা।

Comments are closed.