বৃহস্পতিবার, জুন ২০

সাংবাদিক খুনে দোষী সাব্যস্ত রামরহিম, শাস্তির মেয়াদ জানা যাবে ১৭ ই

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ধর্ষণের মামলায় ইতিমধ্যেই তিনি জেল খাটছেন। এবার সাংবাদিক খুনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হলেন ডেরা সাচা সৌদার প্রধান গুরমিত রামরহিম। এজন্য তাঁর কী শাস্তি হবে, কোর্ট জানাবে ১৭ জানুয়ারি।

২০০২ সালে ‘পুরা সচ’ নামে এক পত্রিকায় জনৈক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির চিঠি ছাপা হয়। তাতে লেখা হয়েছিল, রামরহিমের আশ্রমে সাধ্বীরা নিয়মিত যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের শিকার হন। কয়েক মাস পরে ২৪ অক্টোবর ওই পত্রিকার সম্পাদক রামচন্দ্র ছত্রপতি সিরসায় নিজের বাড়ির কাছে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়।

তিন সপ্তাহ বাদে ছত্রপতি মারা যান। সিবিআই চার্জশিটে বলে, ডেরার কর্তা কিষেণলাল নিজের লাইসেন্সড রিভলভার ও একটি ওয়াকি টকি দিয়েছিলেন দুই খুনীকে। তাদের নাম কুলদীপ সিং ও নির্মল সিং। খুনের ষড়যন্ত্র করার সময় উপস্থিত থাকতেন গুরমিত স্বয়ং। কুলদীপ, নির্মল এবং কিষেণলালের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে মামলা চলছে।

খুনের অভিযোগে শুক্রবার পাঁচকুলায় বিশেষ সিবিআই আদালত গুরমিতকে দোষী সাব্যস্ত করে। শুনানির সময় ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে রামরহিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হত।

৫১ বছরের রামরহিম ২০১৭ সালের আগস্টে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তার পরে হরিয়ানার পাঁচকুলা ও সিরসায় ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। নিহত হন ৪০ জন। আহত হন বহু মানুষ।

গত বছরের কথা মাথায় রেখে এদিন গুরমিতের মামলায় রায় ঘোষণার আগে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। সিরসায় মোতায়েন করা হয়েছিল ১২ কোম্পানি পুলিশ। তাদের মধ্যে যথেষ্ট সংখ্যক নারী পুলিশ ছিল। সিরসার ডিএসপি রবীন্দ্র তোমর জানান, যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য ১৪ টি জায়গায় পুলিশ পোস্টিং করা হয়েছে।

পুলিশের ডেপুটি কমিশনার প্রভজ্যোৎ সিং বলেন, ইতিমধ্যে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ডেরা সাচা সৌদার সদর দফতরের আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছে কম্যান্ডো বাহিনী। পাঁচকুলা কোর্টে চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে ৫০০ পুলিশকর্মী। আদালতের চারপাশে তৈরি হয়েছে ব্যারিকেড।

নিহত সাংবাদিক রামচন্দ্রের বড় ছেলে অংশুল ছত্রপতি বলেন, অপরাধীরা যাতে শাস্তি পায় সেজন্য আমরা ১৭ বছর ধরে লড়াই করছি। তিনি মারা যাওয়ার পরেও আমরা ‘পুরা সচ’ পত্রিকাটি চালু রেখেছিলাম। কিন্তু নানা কারণে ২০১৪ সালে বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

Comments are closed.