শনিবার, ডিসেম্বর ১৪
TheWall
TheWall

১৫ জানুয়ারি শুরু হবে মন্দির নির্মাণ, চুপচাপ প্রচার অযোধ্যা নগরীতে

অযোধ্যা থেকে পিনাকপাণি ঘোষ

১৫ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি। অত্যন্ত শুভ দিন। গোটা দেশে উৎসব। সূর্য সেদিন মকর রাশিতে পড়বে। আর সেই দিনেই শুরু হবে নতুন রামমন্দির নির্মাণের কাজ। শেষটাও হবে এমনই এক মকরসংক্রান্তির দিনকে সামনে রেখে। চার বছর ধরে কাজ চলার পরে ২০২৪ সালের মকর সংক্রান্তিতেই হবে দ্বারোদ্ঘাটন। সেটা আবার পূর্ণ কুম্ভের বছর। তাই সেই মুহূর্ত আরও বেশি শুভ।

অযোধ্যায় পা রাখার পর থেকেই শুনছি এমন কর্মসূচির কথা। সবারই যেন সব জানা। ফি-বছর কার্তিক পূর্ণিমার মেলায় খুব ভিড় হয়। এবার ততটা হয়নি। কারণ এবার নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল, আর ছিল অনেকটাই ভয়। তবে যতটা কম ভিড় হবে বলে মনে করা হয়েছিল, ততটা কমও হয়নি। ফুল, বেলপাতা থেকে হোটেলের ব্যবসা– সবই হয়েছে মোটামুটি। তবে সেসব নিয়ে আর চিন্তা নেই। সামনেই তো মকর সংক্রান্তি। এক বার মন্দির নির্মাণ শুরু হয়ে গেলে আর দেখতে হবে না। সারা বছর সেই নির্মাণ দেখতেই ভিড় লেগে যাবে। সকলেই তাই তাকিয়ে ১৫ জানুয়ারির দিকে। আর তো মাত্র দুটো মাস!

অযোধ্যার জমি বিতর্কে সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে গত শনিবার। তার পর থেকেই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন, কবে রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হবে। মন্দির নির্মাণের প্রধান উদ্যোক্তা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তো পরিকল্পনা করেই রেখেছে। এখন সরকারের উপরে চাপ তৈরি করতে তা নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ভক্তদের মনে গেঁথে দেওয়া হচ্ছে সেই ধারণা।

পরিষদের নেতাদের বক্তব্য, যাতে আগামী বছর মকর সংক্রান্তি তিথিতেই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারে, সেই লক্ষ্য রেখে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারও। কারণ, এত গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কোনও শুভ মুহূর্ত ছাড়া সম্ভব নয়। আর মকর সংক্রান্তির মতো শুভ মুহূর্ত আর কিছু হয় না।

মন্দির নির্মাণের জন্য ট্রাস্ট গঠন করতে কেন্দ্রকে তিন মাস সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মন্দির নির্মাণের জন্য খুব দ্রুত ট্রাস্ট গঠন করবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই সেই উদ্যোগ শুরু হয়ে গিয়েছে। এ জন্য সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এগোতে চাইছে কেন্দ্র।

এই নিয়েই কথা হচ্ছিল অযোধ্যার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিষদ নেতা শরদ শর্মার সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘‘রামমন্দির নির্মাণ এমন একটা প্রকল্প, যার সঙ্গে গোটা দেশের ভাবাবেগ জড়িয়ে। তা শুরু করার জন্য সংক্রান্তি একটি শুভ দিন। তাই আমরা আশা করি তার আগেই কেন্দ্রীয় সরকার সব প্রক্রিয়া শেষ করে ফেলবে। এই মুহূর্ত সাধু–সন্তরা সেটাই ঠিক করেছেন।’’

কেমন হবে সেই মন্দির তা তো আগে থেকেই ঠিক হয়ে আছে। ১৯৮৯ সালেই সেই নকশা তৈরি হয়। তখন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রধান ছিলেন অশোক সিঙ্ঘল। তিনিই চন্দ্রকান্ত সোমপুরাকে দিয়ে মন্দিরের নকশা তৈরি করিয়েছিলেন। সেই মডেলকে সামনে রেখে তখন থেকেই রামমন্দিরের কাঠামো তৈরি করে চলেছে পরিষদেরই শাখা ‘রাম জন্মভূমি ন্যাস’। রাজস্থান থেকে অযোধ্যায় আনা গোলাপি পাথর কেটে, তার উপরে খোদাই করে কর্মশালায় ফলক ও স্তম্ভ নির্মাণ চলছে।

কিন্তু এত তাড়া কেন? মনে রাখতে হবে, ২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগে মন্দিরের কাজ অনেকটা এগিয়ে যাওয়া চাই। আর তার পরেই ২০২৪ সালে লোকসভা ভোট। তত দিনে তো গোটা মন্দিরটা চাই-ই চাই।

Comments are closed.