শনিবার, মার্চ ২৩

কুরুচিকর মন্তব্যে অভিযুক্ত অধ্যাপককে বরখাস্তের দাবিতে মিছিল যাদবপুরে, জমা পড়ল ডেপুটেশন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক কনক সরকার। কিন্তু তাঁর মন্তব্য মোটেই অধ্যাপকের মতো নয়। কুরুচিকর মন্তব্য আগেও অনেক করেছেন তিনি। এবারে নিজের সব রেকর্ডই ভেঙেছেন কনক।

ফেসবুকে তিনি একটি বিতর্কিত লিঙ্গবৈষম্যমূলক পোস্ট দেওয়ার পরেই, প্রতিবাদে তোলপাড় হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। গত কাল থেকেই এ নিয়ে ছাত্র-বিক্ষোভ দেখা গেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার ক্লাস বয়কট করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মিছিল করলেন ছাত্রীরা। দু’টি লিঙ্গ বৈষম্যবিরোধী সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই ডেপুটেশনে ৩০০ জনেরও বেশি সই করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে বেশ কিছু ক্ষণ পথ অবরোধও করেন বিক্ষোভকারীরা।

পড়ুয়াদের দাবি, ক্লাসে পড়াতে গিয়েও এর আগে একাধিক বার এ ধরনের মন্তব্য করেছেন ওই অধ্যাপক। বারবার প্রতিবাদও করেছে অনেকে, কোনও বদল হয়নি। বরং বারবারই নিজের মন্তব্যকে নিজেই হাসিমজা দিয়ে তরল করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে ওই অধ্যাপককে। যিনি একবিংশ শতকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন, তাঁর ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর কোনও অধিকারই নেই। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, বুধবার দুপুর ১২টায় অধ্যাপক, ছাত্রদের বৈঠক হবে। এর পরেই কনকবাবুকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যদিও এত কিছুর পরেও কনকের সাফাই, তিনি বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে আজকাল যে পরিস্থিতি দেখছেন, তাতে তাঁর যা মনে হয়েছে তিনি সেটাই বলেছেন। এই নিয়ে তাঁর কোনও অপরাধবোধ দূরের কথা, অনুতাপও নেই।

অধ্যাপক কনক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশনও। পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি-কে এই ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এমনকী তদন্ত করার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটাও জানাতে বলা হয়েছে মহিলা কমিশনের তরফে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ডিজিপি’র নেতৃত্বাধীন এক তদন্ত কমিটি।

কিন্তু কী বলেছিলেন যাদবপুরের ওই অধ্যাপক কনক সরকার?

কনক সরকার রবিবার দুপুরে ফেসবুক একটি পোস্ট করেন। তিনি সেই পোস্টের ক্যাপশন দিয়েছিলেন ‘ভার্জিন ব্রাইড—হোয়াই নট?’ কনকবাবুর কথায়, এখনও অনেক ছেলে রয়েছেন যাঁরা বোকা। তাঁরা কোনও কুমারী মেয়েকে বিয়ে করার কথা ভাবেন না। এর পরেই কনক সরকারের দাবি, কুমারী মেয়েরা হলো সিলড বোতল বা না খোলা বিস্কুটের প্যাকেটের মতো। তিনি লিখেছেন, সিল খোলা কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতল বা খোলা বিস্কুটের প্যাকেট কখনও কিনবেন?

তবে এখানেই শেষ নয়। কনকবাবু এর পরে লিখেছেন, একটি মেয়ে কুমারীত্ব নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। আর পরবর্তী কালে সেই কুমারী মেয়েই যখন কারও স্ত্রী হন তখন তিনি দেবদূতের সমান। এটাই নাকি মনে করেন অধিকাংশ ছেলেরা। এমনটাই দাবি করেছেন যাদবপুরের এই অধ্যাপক।

আর কনক সরকারের এই ফেসবুক পোস্টের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

Shares

Comments are closed.