মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১১

একদল মোহনবাগান সমর্থকের ‘অসভ্যতা’, নিগৃহীত রেনবো কোচের মেয়ে এবং তাঁর দুই বন্ধু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেনবোর বিরুদ্ধে জয়ের আনন্দ ফিকে হয়ে গেল মোহন সমর্থকদের একাংশের জন্যই। অন্ধ সমর্থন থেকে গ্যালারির উত্তাপ ছড়ালো মারধর, রক্তপাতে। শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হলো গোটা ঘটনার।

মঙ্গলবার মোহনবাগান মাঠে খেলা দেখতে গিয়েছিলেন রেনবোর কোচ তড়িৎ ঘোষের মেয়ে ও তাঁর দুই বন্ধু। ৪১ মিনিটের মাথায় রেনবো অধিনায়ক অভিজিৎ সরকার ফ্রিকিক থেকে গোল করলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রেনবো কোচের মেয়ের এক বন্ধু বেলেঘাটার বাসিন্দা ঋচিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই উচ্ছ্বাস প্রকাশকে ভালোভাবে নেননি সেখানে উপস্থিত বেশ কিছু মোহন সমর্থক। তাঁরা গ্যালারির মধ্যেই মারধর করেন ঋচিককে। মুহুর্মুহু জোটে কিল, চর, লাথি। চশমা ভেঙে তাঁর চোখের নিচে কালশিটে পড়ে যায়। রক্তপাতও হয়। পরিস্থিতি এমন গড়ায় যে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে বের করে আনেন।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আদ্যোপান্ত মোহনবাগান সমর্থক তড়িৎ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, রেনবোর কোচিং করানো তাঁর কাজ। কিন্তু মন থেকে তো তিনি সবুজ-মেরুন সমর্থক। এদিনের ঘটনার পর আর কোনোদিন মেয়েকে মাঠে পাঠাবেন না বলেছেন তিনি।

প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ঋচিকের বান্ধবী ও তড়িৎ ঘোষের মেয়ে। তাঁর বক্তব্য, মোহনবাগানকে ছোটবেলা থেকে সাপোর্ট করেন তাঁরা। এটা তাঁদের ফ্যামিলির ভালবাসা। কিন্তু এই ঘটনায় ক্লাবের প্রতি ভালবাসাটাই চলে গেল বলে জানান তিনি। নিজের বাবার দলকে সমর্থন করা কি অপরাধ, প্রশ্ন করেন তিনি।

এই ঘটনার কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন মোহনবাগান কর্তারাও। তাঁদের বক্তব্য এটা কোনও সভ্য ক্লাবের সমর্থকের কাজ হতে পারে না। তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমর্থকদের চিহ্নিত করতে। তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কর্তারা।

Shares

Leave A Reply