মোদী জমানায় রেলের আয়ও কমল, দশ বছরে এই প্রথম এতো খারাপ, জানাল সিএজি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রে সরকার গঠনের আগে নরেন্দ্র মোদী স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, পেশাদার ভাবে চলবে রেল। বাণিজ্যিক ভাবে সফল করে দেখাবেন ভারতীয় রেলকে।

    কিন্তু কোথায় কী!  দেখা যাচ্ছে, সেই স্বপ্নও ফেল!

    রেলের আয় ব্যয় খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিয়েছে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটার্স জেনারেল। তা আজ সংসদে পেশও করা হয়েছে। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে রেলের অপারেটিং রেশিও ৯৮.৪৪ শতাংশে এসে ঠেকেছে। অর্থাৎ রেলের আয় কমে ঠেকেছে তলানিতে। যার বৃহত্তর প্রভাব হতে পারে খুবই নেতিবাচক। বিশেষ করে, ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণ যখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে এবং সেজন্য বারবার সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের দাওয়াইয়ের কথা বলেও লগ্নির দেখা নেই, তখন রোজগারের এই বহর শুভ লক্ষ্মণ নয়।

    অপারেটিং রেশিও

    রেলের আয়ের সঙ্গে ব্যায়ের অনুপাতকেই অপারেটিং রেশিও বলা হয়। প্রতি একশ টাকা আয় করতে গিয়ে ভারতীয় রেলকে কত টাকা ব্যয় করতে হল সেটাই ওআর তথা অপারেটিং রেশি। ক্যাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে একশ টাকা আয় করতে গিয়ে ৯৮.৪৪ টাকা খরচ করতে হয়েছে রেলকে।

    ক্যাগের রিপোর্ট

    ক্যাগের রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছিল তাতে ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে রেল খাতায় কলমে কোনও লাভই দেখাতে পারত না। বরং ৫৬৭৬.২৯ কোটি টাকা লোকসান দেখাতে হত। কিন্তু এনটিপিসি এবং ইরকন ডিভিডেন্ড দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছে রেলকে। তার পরই ১৬৬৫.৬১ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত খাতায় দেখাতে পেরেছে রেল। নইলে রেলের প্রকৃত অপারেটিং রেশি দাঁড়াত ১০২.৬৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি একশ টাকা রোজগার করতে রেলকে ১০২ টাকা ৬৬ পয়সা খরচ করতে হত।

    প্রসঙ্গত, এর আগে রেল মন্ত্রকে লালু প্রসাদের জমানায় তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কমে গিয়েছিল রেলের অপারেটিং রেশিও। রেলের যাত্রী মাশুল লালু বাড়াননি। কিন্তু পণ্য পরিবহণের উপর জোর দিয়েছিলেন। তখন অপারেটিং রেশিও ছিল ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। ক্যাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এত খারাপ অবস্থা গত দশ বছরে রেলের হয়নি।

    প্রয়োজন সতর্কতা

    হিসেব করে ক্যাগ দেখিয়েছে কী ভাবে দ্রুত পড়ে গিয়েছে রেলের রাজস্ব উদ্বৃত্ত। ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরেও রেলের রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল ৪৯১৩ কোটি টাকা। সেটাই কমে ১৬৬৫ কোটি টাকা হয়েছে। ক্যাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, রেল যে নিজের রাজস্ব আদায়ের উপর নির্ভর করে চলবে সেই আত্মবিশ্বাসের জায়গাটাই এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। বরং বাজেট অনুদান ও অতিরিক্ত বাজেট অনুদানের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। তাই এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ভারতীয় রেলের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More