একনায়ক ভয় পেয়েছেন, কম্পিউটারে নজরদারি নিয়ে মোদীকে কটাক্ষ রাহুলের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : এবার থেকে কম্পিউটারে আড়ি পাতবেন গোয়েন্দারা। কে কী ডাউনলোড করছে, কী স্টোর করে রাখছে, কাকে কোন মেসেজ পাঠাচ্ছে, সব ইচ্ছা করলেই দেখতে পাবে ইডি, সিবিআই, এনআইএ সহ মোট ১০টি সংস্থা। কেন্দ্রীয় সরকার বৃহস্পতিবার তাদের যে কারও কম্পিউটারে নজর রাখার ক্ষমতা দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রথমে মুখ খুলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে মুখ খুললেন কংগ্রেস সভাপতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কার্যত একনায়ক বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, একনায়ক ভয় পেয়েছেন। তাই দেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছেন। পালটা জবাব দিয়েছেন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহও।

রাহুল টুইটারে লিখেছেন, মোদীজি, ভারতকে পুলিশি রাষ্ট্র বানিয়ে আপনার কোনও সুবিধা হবে না। উলটে তাতে ১০০ কোটি দেশবাসীর কাছে প্রমাণিত হবে, ডিক্টেটর হিসাবে আপনি ভয় পাচ্ছেন।

প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পালটা টুইট করে জরুরি অবস্থার কথা টেনে আনেন অমিত শাহ। তিনি লেখেন, ভারতের ইতিহাসে দু’জন একনায়কের নাম পাওয়া যায়। তাঁরা নিজেদের নিরাপদ ভাবতেন না। তাঁদের একজন জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। আর একজন নাগরিকদের চিঠি খুলে পড়তে চেয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী কি বলতে পারেন, তাঁরা কারা?

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি, সার্ভিস প্রোভাইডার অথবা গ্রাহক যে কোনও তথ্য চাওয়ামাত্র দিতে বাধ্য থাকবেন। দরকার হলে প্রযুক্তিগত সাহায্যও করবেন। যদি না করেন, সাত বছরের জেল অথবা জরিমানা হবে।

কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে রাজ্যসভায় হইচই করে। তাদের অভিযোগ কেন্দ্র দেশকে নজরদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, ২০০৯ সালেই ওই অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার তার পুনরাবৃত্তি করেছে মাত্র। কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ বলেন, ২০০৯ সালের অর্ডারে কোথাও লেখা নেই, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবার কম্পিউটারে নজর রাখতে হবে। জেটলি জবাবে বলেন ২০০৯ সালের নির্দেশিকার ৬৯ নম্বর পয়েন্টে জাতীয় নিরাপত্তার কথা লেখা আছে। আপনারা দেশের সুরক্ষা নিয়ে খেলতে চাইছেন। আপনারা শূন্য থেকে একটা পাহাড় সৃষ্টি করছেন। যদিও বাস্তবে একটা উইয়ের ঢিপিও দেখা যাচ্ছে না।

আগামী দিনে কম্পিউটারে নজর রাখার নির্দেশিকা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো হইচই হবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বিরোধীরা অভিযোগ করবেন, দেশের সুরক্ষার নামে কার্যত তাঁদের ওপরেই নজর রাখার ব্যবস্থা করছে কেন্দ্র। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করবে, আরবান নকশাল, অন্যান্য দেশবিরোধী শক্তি ও বিদেশী চরদের ঠেকাতে ওই নজরদারি অত্যন্ত প্রয়োজন।

আরও পড়ুন-মোবাইল, কম্পিউটারে কেন্দ্রের নজরদারি: গর্জে উঠলেন মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More