শনিবার, মে ২৫

বউয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে কিন্তু, রাগ করলে চলবে না: রাহুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোম, বিস্ফোরণ ও বালাকোটের বিমান হানার ঘটনাকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদী যখন আঠারো আনা মেরুকরণের পথে হাঁটছেন, তখন ধারাবাহিক ভাবে গরিবের হেঁসেলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কৌশল নিলেন রাহুল গান্ধী।

তা কী?
এক গরিব পরিবার পিছু বছরে ৭২ হাজার টাকা অনুদানের অঙ্গীকার। তার থেকে বড় কথা হল, সেই টাকা সরাসরি পরিবারের ঘরণীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো। যার উদ্দেশ্য– গরিব এবং বিশেষ করে মহিলাদের ভোটকে কংগ্রেসের অনুকূলে সঙ্ঘবদ্ধ করা। শুধু গ্রামের মহিলা নয়, শহর-মফস্বলের মহিলাদেরও কংগ্রেসের দিকে টানতে রাহুলের দাওয়াই রয়েছে, সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সরংক্ষণের প্রতিশ্রুতি।

বৃহস্পতিবার আজমেঢ়ে সভা ছিল রাহুল গান্ধীর। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, মোদী বলেছিলেন সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা করে পাঠাবেন। এক পয়সাও দেননি। কিন্তু কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার অপেক্ষা মাত্র। তার পরেই গরিবের অ্যাকাউন্টে খটাখট খটাখট প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা পৌঁছে যাবে। পাঁচ বছরে এক একটি গরিব পরিবার পাবে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।

এই প্রসঙ্গেই রাহুল এ দিন ভিড়ের উদ্দেশে বলেন, “আচ্ছা একটা কথা আগেভাগে বলে দিচ্ছি। পরে রাগ করবেন না কিন্তু। ওই টাকাটা আপনার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে যাবে। তার পরে আপনারা দু’জনে মিলে কী ঠিক করবেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার।” কংগ্রেস সভাপতির এই কথায় হাসির রোল ওঠে এদিন আজমেঢ়ের স্টেডিয়ামে।

প্রসঙ্গত, রাহুলের প্রস্তাবিত ন্যায় প্রকল্প তথা বছরে ৭২ হাজার টাকা গরিব পরিবারের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। এ দিন সে প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, “দেশে টাকা কম নেই। আর থাকুক বা না থাকুক, আকাশ ফেটে পড়ুক ক্ষমতায় এলেই ন্যায় প্রকল্প চালু হবে।”

প্রকল্পের প্রস্তাব করার আগে রাহুল যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, সে কথাও এ দিন জানান তিনি। সেই সঙ্গে বলেন, দেশের পাঁচ কোটি পরিবার তথা পঁচিশ কোটি মানুষের কাছে বছরে ৭২ হাজার পৌঁছে গেলে অর্থনীতির ইঞ্জিন কী ভাবে চালু হয়ে যাবে, শুধু তাকিয়ে দেখবেন। তাঁর কথায়, গরিব পরিবারগুলি যেই টাকা পাবে, তারা চাল, ডাল, রেশন, জামা কাপড়, জুতো কিনবে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়বে। স্বাভাবিক ভাবেই চাহিদা বাড়ার কারণে শিল্পোৎপাদন বাড়াতে হবে। তার মানে একটাই, অর্থনীতির ইঞ্জিন চালু হয়ে যাবে।

কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে ২২ লক্ষ শূণ্য পদে নিয়োগের কথাও এ দিন বলেন রাহুল। সেই সঙ্গে যুব সম্প্রদায়কে বার্তা দিতে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন, পঞ্চায়েতে দশ লক্ষ লোক কাজ পাবেন আগামী পাঁচ বছরে।

আজমেঢ় বরাবর কংগ্রেসি এলাকা। তার উপর রাজস্থানে এখন কংগ্রেস সরকার চলছে। তবে এ সব কার্যকারণ পাশে সরিয়ে রাখলেও এ দিন রাহুলের সভা নিয়ে দৃশ্যত প্রবল উচ্ছ্বাস ছিল গোলাপের শহরে। বিশেষ করে মহিলাদের উৎসাহ ছিল দেখার মতো। এমনকি স্লোগানে, চিৎকারে পুরুষদের দশ গোল দেয় তারা।

Shares

Comments are closed.