বুধবার, মার্চ ২০

মেয়েকে ফেরাতে হাজির বাবা! পাশে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ, তাইল্যান্ডের আশ্রয়ে নিরাপদ সৌদি তরুণী রাহাফ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার তত্ত্বাবধানে তাইল্যান্ড ছাড়লেন সৌদি আরবের তরুণী রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনুন। তাইল্যান্ড পুলিশ প্রধান সোমবার একথা জানিয়েছেন। এদিকে রাহাফ বলেছেন, তাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা এবং এই শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর দেখভালে তিনি নিরাপদ বোধ করছেন।

কুনুনের কথা প্রথমে জানা যায় গত শনিবার। সে কুয়েত থেকে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পথে নেমেছিল ব্যাঙ্ককের সুবর্ণভূমি বিমান বন্দরে। সেখানেই থাকতে চেয়েছিল কিন্তু তাকে তাইল্যান্ডে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাইল্যান্ডের সৌদি দূতাবাস থেকেই  অনুরোধ করা হয়েছিল, কুনুনকে যেন এয়ারপোর্টেই গ্রেফতার করে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

রবিবারই তাকে কুয়েত এয়ারওয়েজের বিমানে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু কিছুতেই রাজি হননি কুনুন। হোটেলের ঘরের দরজাই খোলেননি। তিনি জানান, তিনি দেশে ফিরলে ভাইরা তাকে মেরে ফেলবে। তারা কুয়েতে সৌদির দূতাবাসে অপেক্ষা করছে। টুইটারে তিনি লেখেন, “আমি জীবনকে ভালোবাসি। কিন্তু আমার পরিবার আমাকে নিজের মতো বাঁচতে দিতে চায় না। কুনুনের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামে এক মানবাধিকার সংগঠনও। তাইল্যান্ডের কয়েক জন আইনজীবীও কোর্টে আর্জি জানিয়েছেন, কুনুনকে যেন কিছুতেই না সৌদিতে ফেরত পাঠানো হয়।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় কুনুনের কথা ভাইরাল হওয়ার পরেই কয়েক হাজার ফলোয়ার বেড়ে যায় তাঁর। মানবাধিকার সংগঠনগুলি তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় একের পর এক। অস্ট্রেলীয় সরকারের তরফেও জানানো হয়েছে, তারা খেয়াল রাখছেন বিষয়টা। কুনুনের তোলা অভিযোগগুলি নিয়ে তাঁরা গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন।

সোমবার সন্ধেয় তাইল্যান্ডের অভিবাসন দফতরের প্রধান পুলিশকর্তা সুরাচ্যাট হাকপার্ন নিশ্চিত করে দেন যে, কুনুনকে নিরাপদে রাখবেন তাঁরা। যতটা সম্ভব দেখভাল করবেন। কোনও দূতাবাসই জোর করে কোথাও পাঠাতে পারবে না তাঁকে। তিনি এখন তাই-সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলেন, “তাইল্যান্ড দেশটি খুবই হাশিখুশি। আমরা সেখান থেকে কাউকে মৃত্যুর মুখে পাঠাতে পারি না।” এ বিষয়ে তিনি সৌদি কূটনীতিকের সঙ্গে দেখা করে কথাও বলেবেন বলে জানিয়েছেন।

এর পরে কুনুন ফের টুইট করে জানান, তাঁর বাবা খবর পেয়ে এসে গিয়েছেন। এটাই তাঁর সব চেয়ে বেশি ভয়ের জায়গা। কিন্তু ইউএনএইচসিআর ও তাইল্যান্ডের যৌথ নিরাপত্তায় তিনি আপাতত সুরক্ষিত রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন একই সঙ্গে। দেখে নিন তাঁর টুইট।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো সমর্থনের ঝড় তুলেছেন কুনুন। তিনি সেখানে জানিয়েছেন, তিনি পড়াশোনা করতে চান, গাড়ি চালাতে চান, দেশে দেশে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন। এই ‘অপরাধে’ তাঁকে খুন করতে চেয়েছিল তাঁর বাড়ির লোকজন। তাই পালিয়ে এসেছেন তিনি। নিজের নামও গোপন করেননি, কারণ তাঁর দাবি, তাঁর আর কিছুই হারানোর নেই।

স্পষ্ট করে সব কথা লেখার পরে সারা বিশ্বের নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছেন কুনুন। এখন দেখার, সময় কী ভাবে নির্মিত করে তাঁর ভবিষ্যৎ। দেখার, পুরুষতন্ত্রের আঘাতে জর্জরিত সৌদি থেকে পালানোর পরে, মনের মতো করে বাঁচার সুযোগ পেলেন কি না তিনি।

Shares

Comments are closed.