মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

গরিব উচ্চবর্ণের জন্য ১০ শতাংশ কোটার বিরুদ্ধে মামলা সুপ্রিম কোর্টে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দরিদ্র উচ্চবর্ণের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের বিল বুধবারই পাশ হয়ে গিয়েছে সংসদে। বেশিরভাগ বিরোধী দল বিজেপির সমালোচনা করেও সেই বিল সমর্থন করেছে। এবার উচ্চবর্ণের জন্য সংরক্ষণের বিরুদ্ধে আর্জি জমা পড়ল সুপ্রিম কোর্টে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট আগেই রায় দিয়েছে, ৫০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ করা যাবে না। কিন্তু সরকার ৫০ শতাংশের ওপরে আরও ১০ শতাংশ সংরক্ষণ করতে চাইছে যা সেই রায়ের বিরোধী।

ইউথ ফর ইকুয়ালিটি নামে এক সংগঠন ওই আবেদন করেছে। সংগঠনের পক্ষে কুশলকান্ত মিশ্র বলেন, সংবিধানে যে নতুন চারটি বিষয় ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে, তা সংবিধানের মূল ধারণার বিরোধী। তাতে অনুমতি দেওয়া ঠিক নয়। আগেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট করে বলেছিল, সংবিধানের কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য আছে। তা সংসদে সংশোধনী এনে কোনওভাবে বদলানো বা ধ্বংস করা যায় না।

সংবিধান সংশোধন বিলে বলা হয়েছে, তফসিলী জাতি-উপজাতি এবং অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণি বাদে অন্যান্য জাতির গরিব অংশের জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীরা বলেছেন, শুধুমাত্র জেনারেল কাস্টের গরিবদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা ঠিক নয়। সব সম্প্রদায়ের গরিবের জন্যই সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকা উচিত।

তিন দশক আগে আগে মণ্ডল কমিশনের রিপোর্ট কার্যকর করা হয়েছিল। তার পর গত বুধবার সংসদে সংবিধানের ১২৪ তম সংশোধনী বিল পাশ হয়। তাতে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য শিক্ষায় ও চাকরিতে ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে রাজ্যসভায় বিলটি অনুমোদিত হয়। তার আগের দিন বিল পাশ হয়েছিল লোকসভায়। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের কথা ভেবে তড়িঘড়ি বিলটি এনেছে সরকার। আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ বলেন, ক্রিকেট ম্যাচের স্লগ ওভারেই ছয় হাঁকাতে হয়। অপেক্ষা করুন, আরও ছয় মারব।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এই বিলটি যেভাবে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে, তাতে আমি খুশি। এতে সামাজিক ন্যায়ের জয় হল।

মোদীর সমালোচকরা বলেছেন, সম্প্রতি পাঁচ রাজ্যে ভোটে খারাপ ফল করার পরে বিজেপি বুঝেছে, উচ্চবর্ণের ভোটারদের এক বড় অংশ তাঁদের থেকে মুখ ঘুরিয়েছেন। লোকসভা ভোটের আগে তাঁদের খুশি করতে সংরক্ষণ বিল আনা জরুরি ছিল।

অনেকে বলছেন, চাকরিতে মোদী দরিদ্র উচ্চবর্ণের জন্য সংরক্ষণ করছেন ঠিকই কিন্তু কেউ তার সুবিধা নিতে পারবে না। কারণ দেশে অত চাকরিই নেই। মোদী সরকার গত চার বছরের বেশি সময়ে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি।

Shares

Comments are closed.