রবিবার, নভেম্বর ১৭

নীরব দেশপ্রেম হারিয়ে দিল দেশভক্তির আস্ফালনকে, মোদীকে খোঁচা চিদম্বরমের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্নীতি মামলায় তিহাড় জেলে বন্দী ছিলেন তিনি। এখন রয়েছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হেফাজতে। কিন্তু তাতে কী! মোদী সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে ইদানীং নিয়ম করে খোঁচা দেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম।

বিষ্যুদবার হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র বিধানসভার ভোট ফলাফলে বিজেপি কিছুটা ধাক্কা দেওয়ায়, গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশে ফের তির্যক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী।

এ দিনই দিল্লির বিশেষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চিদম্বরমকে থাকতে হবে ইডি হেফাজতে। ওই আদালত থেকে বেরোনোর সময় বিধানসভা ভোটের ফলাফল নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী বলেন, “নীরব দেশপ্রেম হারিয়ে দিল দেশভক্তির আস্ফালনকে”।

প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতার মন্তব্য রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই অনেকে মনে করেন। উগ্র জাতীয়তাবাদ বরাবরই বিজেপির রাজনৈতিক অস্ত্র। তাতে সহজেই সংখ্যাগুরুর মেরুকরণ ঘটানো যায় বলে তাদের ধারণা।

এ বারও মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা ভোটের আগে সেটাই ছিল বিজেপির অন্যতম ভোট অস্ত্র। তাই কখনও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রসঙ্গ মোদী-অমিত শাহ তুলে এনেছেন প্রচারে। কখনও এনআরসি-র বাস্তবায়ন করে মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন। আবার ভোটগ্রহণ চব্বিশঘণ্টা আগে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এ সবের মধ্যে দিয়ে যে উগ্র জাতীয়তাবাদের মনোভাব মোদী-শাহ জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন, তাকেই দেশভক্তির আস্ফালন বলে কটাক্ষ করেছেন চিদম্বরম।

প্রসঙ্গত মহারাষ্ট্র ভোটে টেনেটুনে পাশ করেছে বিজেপি। হরিয়ানায় ফেল করেছে। জাঠ অধ্যুষিত রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, প্রতিটি নাগরিকই দেশকে ভালবাসে। সে হল নীরব দেশপ্রেম। বিজেপির লোক দেখানো দেশভক্তি দিয়ে তাদেরকেই বোকা বানাতে চেয়েছিল। মানুষ তা ধরে ফেলেছে।

Comments are closed.