সোমবার, নভেম্বর ১৮

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের যিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাঁর বাড়িতে তালা

  • 27
  •  
  •  
    27
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো : জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ পাওয়ার পরে এই প্রথমবার সেখানে গেলেন বিদেশের প্রতিনিধিরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ই-মেল পাঠিয়েছিলেন মাডি শর্মা নামে এক মহিলা। টুইটারে তিনি নিজের সম্পর্কে লেখেন ‘সোশ্যাল ক্যাপিটালিস্ট, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ব্রোকার অ্যান্ড এডুকেশন অঁত্রেপ্রেনর’। বিদেশের প্রতিনিধিদের কাশ্মীর সফরকে বলা হয়েছিল ‘বেসরকারি’। তার খরচ দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নন অ্যালায়েড স্টাডিজ নামে এক সংস্থা। মাডি শর্মা ই-মেলে একথা জানিয়েছেন। কিন্তু বুধবার দিল্লিতে তাঁর অফিসে গিয়ে দেখা গিয়েছে তালা দেওয়া।

সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে মাডি শর্মা উপস্থিত ছিলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের লিবারাল ডেমোক্র্যাট এমপি ক্রিস ডেভিসকে প্রথমে মাডি শর্মা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ক্রিস ডেভিস দাবি করেন, তাঁকে কাশ্মীরের কোনও অঞ্চলে যেতে যেন বাধা না দেওয়া হয়। তখন তাঁর আমন্ত্রণপত্র ফিরিয়ে নেওয়া হয়। মাডি যে ই-মেল করেছিলেন, ক্রিস তা প্রকাশ্যে এনেছেন। তাতে দেখা যায়, মাডি লিখেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ভিআইপি-দের সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়ার আয়োজন করছি। আপনাকেও আমি মোদীর সঙ্গে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

পরে মোদী সম্পর্কে মাডি লিখেছেন, তিনি সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন নির্বাচনে বিরাট ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তিনি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাঁরা বিভিন্ন জরুরি সিদ্ধান্ত নেন, তাঁদের সঙ্গে তিনি দেখা করতে চান।

৭ অক্টোবর মাডি ওই ই-মেল লিখেছিলেন। তাতে বলা হয়েছিল, ২৮ অক্টোবর মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়েছে। ২৯ অক্টোবর বিদেশের প্রতিনিধিরা কাশ্মীরে যাবেন। তার পরের দিন হবে সাংবাদিক বৈঠক।

ই-মেল পাওয়ার পরদিন ক্রিস লেখেন, আমি আমন্ত্রণ পেয়ে আনন্দিত হয়েছি। একটি শর্তে কাশ্মীরে যেতে পারি। আমি কাশ্মীরের যেখানে খুশি যাব। যার সঙ্গে খুশি কথা বলব। আমার সঙ্গে মিলিটারি, পুলিশ আর অপর কোনও নিরাপত্তারক্ষী থাকবে না। তার বদলে থাকবেন সাংবাদিক ও টিভি চ্যানেলের কর্মীরা।
মাডি শর্মা বলেন, কাশ্মীর সফরের সময় ‘সামান্য নিরাপত্তা’ প্রয়োজন হতে পারে। ক্রিসের সঙ্গে দেখা করে তিনি বিষয়টি আলোচনা করতে চান। পরে তাঁকে জানানো হয়, ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে প্রতিনিধিরা আসছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি থাকছেন না।

Comments are closed.