দেড়শ ফুট গভীর বোর ওয়েল থেকে মৃত শিশুর দেহ তোলা হল ১০৯ ঘণ্টা বাদে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বৃহস্পতিবার বিকাল চারটে নাগাদ বাড়ির কাছে খেলা করছিল দু’বছরের ফতেবীর সিং। তার বাড়ি পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলার ভগবানপুরা গ্রামে। খেলতে খেলতে সে পড়ে যায় দেড়শ ফুট গভীর বোরওয়েলে। বোর ওয়েলের মুখ কাপড়ে ঢাকা ছিল। আচমকা ফতেবীর সিং-এর পা পড়ে তার ওপরে। সে গর্তের মধ্যে পড়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে তোলা হল তার দেহ। ততক্ষণে শিশুটি মারা গিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার প্রথমে ফতেবীরের মা তাকে গর্ত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু সে ১২৫ ফুট গভীরে পড়ে গিয়েছিল। পরে এনডিআরএফ এবং স্থানীয় প্রশাসন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। বোর ওয়েলের সমান্তরাল একটি গর্ত খোঁড়া হয়। পাঁচ  দিন ধরে তাকে খাবার বা জল দেওয়া যায়নি। কিন্তু গর্তে অক্সিজেন পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছিলেন, ত্রাণের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না। বিক্ষোভের মুখে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং টুইট করেন, তিনি নিজে ত্রাণের কাজ তদারক করছেন। সাঙ্গরুরের সাংসদ তথা পাঞ্জাবে আপের শীর্ষ নেতা ভগবন্ত সিং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন ত্রাণের কাজে অনাবশ্যক দেরি করেছে।

    মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় তার দেহটি বোর ওয়েল থেকে বার করা সম্ভব হয়। গর্ত থেকে উদ্ধার করেই যাতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়, সেজন্য কাছেই একটি হেলিকপ্টার রাখা ছিল। কিন্তু তাকে গাড়িতে করে ১৪০ কিলোমিটার দূরে চণ্ডীগড়ের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    তার পরে মুখ্যমন্ত্রী টুইট করেন, শিশুটির মৃত্যুর খবরে আমি শোকাহত। প্রার্থনা করি যাতে ওয়াগুরু তার পরিবারকে এই ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেন। পরে অমরিন্দর সিং লিখেছেন, আমি সব ডেপুটি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছি যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

     

    এর আগে একাধিকবার বোর ওয়েলে শিশুদের পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০০৬ সালে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রের হলদিহেরি গ্রামে বোর ওয়েলে পড়ে গিয়েছিল চার বছরের প্রিন্স। ৪৮ ঘণ্টা বাদে তাকে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More