মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

আর আলোচনার সময় নেই, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, বললেন মোদী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আর কথাবার্তা বলতে চান না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা দেখিয়ে দিয়েছে, আর আলোচনার সময় নেই। এখন সারা বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এর আগে একাধিকবার ভারত আলোচনায় বসেছে পাকিস্তানের সঙ্গে। প্রতিবার যখনই মনে হয়েছে আলোচনা সফল, এবার দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, ঠিক তখনই নতুন করে বড় ধরনের জঙ্গি হামলা হয়েছে ভারতে। শান্তিপ্রক্রিয়া বানচাল হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় মোদী আর আলোচনা চান না বলে জানিয়েছেন।

সোমবার আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মরিসিও মাকরির সঙ্গে জঙ্গিদমন নিয়ে আলোচনা হয় মোদীর। তার পরে তিনি বলেন, সোমবার ভারত ও আর্জেন্টিনা সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে।

একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হামলা দেখিয়ে দেয়, আলোচনার সময় পার হয়ে গিয়েছে। এখন সারা বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যদি আমরা দ্বিধা করি, তাহলে তাদেরই উৎসাহ দেওয়া হবে। জি-২০ গোষ্ঠীভূক্ত দেশগুলির সদস্য হিসাবে আমাদের হামবুর্গ লিডারস স্টেটমেন্টের ১১ নম্বর ধারা রূপায়ন করা উচিত।

মাকরি জঙ্গিদমন নিয়ে মোদীর দৃষ্টিভঙ্গীর সঙ্গে সহমত হন। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে পুলওয়ামায় জঙ্গি হানায় যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি আমি সহানুভূতি জানাচ্ছি। আমরা সব রকমের জঙ্গি হানার বিরোধী। মানবজাতির এই অভিশাপকে দূর করার জন্য যদি অন্যদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে সত্যিই খুশি হব।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদের এক সদস্য বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে সিআরপিএফের কনভয়ে ধাক্কা মারে। বিরাট বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় কয়েকটি গাড়ি। ৪০ জনের বেশি সিআরপিএফ কর্মী নিহত হন। আহত হন অনেকে। বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে জইশ।

অন্যদিকে পাকিস্তান জঙ্গি হানার দায় অস্বীকার করে বলে, তদন্তের আগেই আমাদের দোষারোপ করা হচ্ছে। সেকথায় কান না দিয়ে আমেরিকা কড়া ভাষায় পাকিস্তানকে বলে, জঙ্গিদমনে তাদের সক্রিয় হতেই হবে। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীকে পুরো ক্ষমতা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সোমবার পুলওয়ামায় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর হাতে দুই জইশ জঙ্গি নিহত হয়। তাদের একজন ছিল পাকিস্তানের নাগরিক। সে কনভয়ে আক্রমণের পিছনে মূল চক্রী ছিল।

Shares

Comments are closed.