অভিমন্যু মাহাত

এক
শীত এসো, একটু খুচরো হোক উষ্ণতা। গুনে দেখি…
নুন ও হলুদের দ্রবতা আর পাই না।
গন্ধ নেই। ধোঁয়া উপরে ওঠা কোন তাপ নেই
অথচ এই পাথুরে ইকো ড্যামে কতবার অস্ত্র খুঁজেছি, ক্ষুধা খুঁজেছি…
এবার শীতে যাওয়া হল না ইকোতে। রক্তাভ পূর্ণিমার চাঁদকে শিকল দেওয়া হল না

তোমার আঙুলের আংটি গুলি ‘এসো’ ডাকে না আর
ডাউরি খালের মৃত স্থাপত্য ছুঁয়ে আসি।
বুনোপাতা তৈরির প্রণালীতে তুমিও অন্ধকার খুঁজে এলে,
বটের গাছবাড়িতে একদিন রাত্রিযাপন অধরা থেকে গেল।
তুমি তো নির্দিষ্ট রঙে থেকে গেলে
তাই যতো আক্রোশে ছিন্নভিন্ন করে ফেলি হ্রদ, শীত, পাথর, ফুলঘর

দুই
বয়ে আনা জলে গলা ভেজালাম
ডাউরি খালে নাগাল পেলাম এক বীজাণু মুলুক…
ছোটোমাপে আমরা আমিষভোজী।
ভাসমান পাথরকে ঠেস দিয়ে চুম্বন-রিপু
চাদর পাতব বলে জাতকের গল্প নিলাম,
জামাইদাদা বট চারার উঠোন দিয়ে গেল
পৌষ পরবের উন্ধি পিঠে তর্কহীন থেকে যায়
তুমি তখনও বিষণ্ণ পাহাড় মাপছ…
ঋতুমতী হয়েও ইকো ড্যামের কিশলয় খুঁজছ
এই মানভূমে সঙ্গমহীন থেকেও রেঁধে দিচ্ছ শ্রাবণ
যাতে আর না ভাঙে কিছু….

তিন
সুতরাং তুমি আমায় নির্বাসন দাও,
ঢেউকণিকার রাত দাবি করিনি।
দেওয়াল হাতড়ে হাতড়ে নিজস্ব এপিটাফে আসি
লেখার মতো বেআব্রু দাম্পত্য… আর নুনভাত নেই।
তুমি ছিলে, হাহাকারে স্পর্শ করি নুড়িপাড়ায়
নিষেধ অগ্রাহ্য করে বাঁটা হলুদের প্রবণতা খুঁজি।
আর কতদিন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বেঁচে থাকবো?
সুতরাং তুমি আমায় নির্বাসন দাও,
জড়ুলচিহ্ন দাবি করিনি।
নষ্ট জলের ঘোর ধ্বনিত হচ্ছে,
ওলটপালোট বিকেল আসছে।
এই চোখ পোড়াবো বলে অনাত্মীয়তা খুঁজি,
সকলের সাথে আড়ি।
আর্দ্র বাতাসে বুকের ভেতর পাতাল ঝরছে,
দিকে দিকে চক্রব্যূহ…..

চার
তোমার শব্দ আজ লিরিকে দুর্ভাবনা ছড়াল
প্রহরের পর প্রহর কপালে ব্যথার কর্ষণ চিহ্ন
জানি না কোন গ্রহে আজ পথের জ্বর এলো
শীতের সন্ধ্যায় ভূমিই কথাবার্তা স্থির রেখেছিল
অলীক যানজটে তোমাদের বাড়ি যাওয়া হবে না
তবু বুঝবো ঘোর ভুল ছিল না, শস্যস্বাদ শুদ্ধ হতে চায়…
দুই মাস প্রতীক্ষা শেষে, এই গৃহ ফের নিজেকে নিংড়ে নিল
পায়ের আঙুলে গেঁথে উঠল শ্লোক, সাইকেল কাহিনী তীর্থহীন

পাঁচ
আমার কুৎসিত মুখ। তাই শব্দেরা কখনো কখনো ঈশ্বর খোঁজে
তোমায় খুশি করতে পারি না। তুমি বেশির ভাগ সময় বধির ও অন্ধ থাকো
আমায় ‘নির্বোধ’ বলে দ্রুত বাড়ি চলে যাও
আমি প্রতিটি রাতে লুকানো কবজ রাখি হাতে
আত্মার বিনিময়ে তোমার দৃষ্টিশক্তি চাই
আলো আসে না। তবে খেলা পাই বিনামূল্যে
যে খেলা আমায় জীবিত রাখে মরণকূপে
একটি সক্ষম শিশু জন্মানোর আগেই তুমি মাংসের কোষে পোড়া নুন ছিটাও
যে নোনতায় ভাঙা শেল পেয়ে যায় ক্রসচিহ্ন…