মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

দেবীর ভোগে হাঁসের ডিম, এবার পুজোয় দেখেই আসুন সোনার মা কনকদুর্গা

  • 84
  •  
  •  
    84
    Shares

বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম: এখানে দেবী নীলসরস্বতীরূপা। অশ্ববাহিনী চতুর্ভুজা। ভোগের থালায় আর যাই সাজিয়ে দেওয়া হোক, থাকবেই হাঁসের ডিমের গঞ্জভোগ। নগরজীবনের অনেকটা বাইরে। মহাষষ্ঠীর ভোরে জঙ্গলে ঘেরা চিল্কিগড়েও বেজে ওঠে বোধনের ঢাক। তারপর টানা চারদিন ধরে দেবী কনকদুর্গার আরাধনায় মেতে ওঠেন গোটা তল্লাটের মানুষ।
১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন জামবনি পরগনার সামন্তরাজা গোপীনাথ সিংহমত্ত গজ স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেবী কনকদুর্গার এই মন্দির। ডুলুং নদীর ধারে। কথিত, দেবীর মূর্তি তৈরি হয়েছিল রানি গোবিন্দমণির হাতের কঙ্কণ দিয়ে। তাই কনকদুর্গা। সেই সোনার বিগ্রহ চুরি হয়ে গেছে বহু শতাব্দী আগে। পরে যে অষ্টধাতুর বিগ্রহ তৈরি হয়েছিল, খোয়া গিয়েছে তাও। এখন যে বিগ্রহের অধিষ্ঠান সেটিও অষ্টধাতুরই। দেবী এখানে ত্রিনয়নী, নীলবস্ত্র পরিহিতা, অশ্বে সওয়ার। রাজা নেই। নেই রাজত্বও। তবে এখনও নিত্যপুজো হয় মন্দিরে। আর মহাষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বিশেষ আরাধনা।

কনকদুর্গার ভোগে থাকে আমিষেরই প্রাধান্য। ভাত, খিচুড়ি, পঞ্চব্যঞ্জন তো আছেই, দেবী দুর্গার ভোগে দেওয়া হয় হাঁসের ডিম। মনের ইচ্ছা পূরণ হলে দেবীকে হাঁসের ডিম উৎসর্গ করার রীতি রয়েছে এখানে। নিত্যপুজোতেও অন্নভোগে দেওয়া হয় হাঁসের ডিম। পুজোর ক’দিন বিশেষ আরাধ‌নাতেও বজায় থাকে সেই রীতি। পূজারি আতঙ্কভঞ্জন ষড়ঙ্গী, গৌতম ষড়ঙ্গী জানালেন, নৈবেদ্যে ফল-মিষ্টি যেমন থাকে, তেমনই দুপুরে অন্নভোগে ঘি-ভাত, খিচুড়ি, পঞ্চব্যঞ্জন, পায়েস, হাঁসের ডিম ও মাছ দেওয়া হয়। হাঁসের ডিমের ভোগকে বলা হয় গঞ্জভোগ। তাঁরা বলেন, “হাঁসের সেদ্ধ ডিম তন্ত্রমতে শোধন করে অন্নভোগের মাঝে দেবীকে নিবেদন করা হয়। অষ্টমীতে দেবীকে উৎসর্গ করা হয় কালো পাঁঠার মাংসের বিরামভোগ। মহানবমীতে মন্দির প্রাঙ্গণে হয় পাঁঠা, ভেড়া ও মোষ বলি।”


জামবনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা মন্দির উন্নয়ন কমিটির সহ সভাপতি সমীর ধল বলেন, “দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে সর্বসাধারণকে ভোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। দর্শনার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে দশমীর দিনে হাঁসের ডিমের ভোগের ব্যবস্থা করা হয়। সেই ভোগ পাওয়ার জন্য পঞ্চমী থেকে অগ্রিম বুকিং করতে হয়।’’
কনকদুর্গার সন্তুষ্টি বিধানে হাঁসের ডিমের ভোগ দেওয়ার প্রথাটি চলে আসছে কয়েকশো বছর ধরে । কালিকা পুরাণমতে ও তন্ত্রমতের মিশেলে দেবী আরাধনা হয় ডুলুং পাড়ের চিল্কিগড়ে। শুধু আশেপাশের মানুষই নন, দেবী মাহাত্ম্যের টানে পুজোর চার দিন বহু দূরদূরান্ত থেকেও আসেন দর্শনার্থীরা।

Comments are closed.