বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

১০৮ প্রদীপ জ্বাললে অনেক ফল, নিভে গেলে কুফলও মিলতে পারে, জানুন শাস্ত্রের ৮ বিধান

অনির্বাণ

সন্ধিপুজোর সন্ধিক্ষণে দেবী স্বয়ং আবির্ভূতা হন। এমনটাই শাস্ত্রের বিধান ও লোক বিশ্বাস। বলা হয় সেই সময়ে ১০৮ প্রদীপ দিয়ে তাই দেবীকে আহ্বান করা উচিত। বলা হয়, যে ব্যক্তি ঘৃত প্রদীপ দ্বারা দেবীর পুজো করেন তিনি অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল পান আর তৈল প্রদীপ দ্বারা দেবীর পুজো করলে বাজপেয় যজ্ঞের ফললাভ হয়।

১। ভক্তরা মন্ত্রের মাধ্যমে দীপ জ্বালনোর সময়ে বলেন, সংসারের অন্ধকার নাশের জন্য পরলোকে জ্যোতি প্রাপ্তির জন্য এই দীপমালা দিচ্ছি। হে দেবি, তুমি কৃপা পূর্বক গ্রহণ কর। বলা হয়, ১০৮টি প্রদীপের আলো অজ্ঞতার ও অশুদ্ধতা বিনাশ করে। প্রদীপের আলো ভক্তের সব অজ্ঞতা পুড়িয়ে জ্ঞানের উজ্জ্বল দীপশিখায় আলোকিত করে হৃদয়।

২। শাস্ত্রে বলা হয়েছে— “দেবং ভূত্বা দেবং যজেৎ”, অর্থাৎ দেবতা হয়ে তবে দেবতার পুজো করতে হয়। ১০৮টি প্রদীপের আলো আমাদের মনকে দেবত্বে প্রতিষ্ঠিত করে।

৩। ১০৮টি প্রদীপের আলো আমাদের হিংসা, দৈহিক বাসনা ও ভোগের আকাঙ্ক্ষাকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। মনে বৈরাগ্য এনে দেবতার আশীর্বাদ মেলার যোগ্য করে তোলে।

৪। ‘শিবসংহিতা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, হৃদয়ে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলো জ্বালাতেই ১০৮টি প্রদীপের ব্যবস্থা। উপনিষদও একই কথা বলে।

৫। দীপ দানের দ্বারা স্বর্গাদি লোকজয় হয়। “দীপ তেজোময় এবং চতুর্বর্গপ্রদ”। তাই দেবীকে ১০৮ প্রদীপ দান।

৬।‘কালিকা পুরাণ’-এর মতে, প্রদীপের পাত্র মৃন্ময় হলেই ভালো এবং শ্রীবৃদ্ধির জন্য সর্বদা তুলো দিয়েই সলিতা পাকাতে বলা হয়েছে।

৭। সর্বংসহা বসুমতী অকারণ পদাঘাত ও দীপতাপ সহ্য করেন না সুতরাং পৃথিবী যাতে তাপ না পান, সেভাবে প্রদীপ স্থাপন করতে হয়।

৮। দেবতার উদেশ্যে নিবেদিত প্রদীপ কখনও নির্বাপিত করতে নেই। তাতে দীপ হরণকারী অন্ধ হয় এবং দীপ নির্বাপক কাণা হয়।

Comments are closed.