বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

সন্ধিপুজোয় মেলে পাঁচ বিশেষ ফল, জানুন এই তিথি সম্পর্কে ১০ তথ্য

অনির্বাণ

১। সন্ধিপুজো দুর্গাপুজোর অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়। অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিট সময়কে ‘সন্ধি মুহূর্ত’ বলা হয়।

২। এই সময়ের পুজোতে মহাফল লাভ হয়। কারণ, সন্ধিপুজোর মহাক্ষণে দশভুজারূপিনী চিন্ময়ী দুর্গা পূজিতা হন মুণ্ডমালিনী চতুর্ভুজা চামুণ্ডারূপে। তার কারণ, শুম্ভ-নিশুম্ভের সঙ্গেযুদ্ধে দেবী দুর্গার ললাট থেকে ওই সন্ধিক্ষণেই চামুণ্ডার আবির্ভাব হয়েছিল। তিনিই বধ করেছিলেন শুম্ভ ও নিশুম্ভকে।

৩। ‘জ্যোতিষতত্ব’ গ্রন্থে অষ্টমীর সন্ধিকালে পরিবারের সকলের সঙ্গে দেবীর সাত্বিক ভাবে পুজো করতে বলা হয়েছে। ‘মৎস্যসূক্ত’-এ বলা হয়েছে, অষ্টমী ও নবমীর সম্মিলন রাত্রিকাল হলে দিবাপেক্ষা অধিক ফলদায়ক। এই সম্মিলন মাঝ রাতে ঘটলে পুজোয় দশগুণ ফল হয়।

৪। দুর্গাপুজো পৌরাণিক পুজো হলেও সন্ধিপুজো করতে হয় তন্ত্র মতে। সে কারণেই সন্ধিপুজোর পৃথক সঙ্কল্পের কথা বলেছেন স্মার্ত রঘুনন্দন তাঁর ‘দুর্গোৎসব তত্ত্ব’ গ্রন্থে।

৫। সন্ধিক্ষণে চামুণ্ডার পুজো না করলে দুর্গোৎসব সম্পূর্ণ হয় না। সন্ধিপুজো দুর্গাপুজোর অঙ্গ না হলেও ভীষণ ভাবে দুর্গোৎসবের সঙ্গে সংযুক্ত। কারণ সন্ধিক্ষণেই কেবল দেবী স্বয়ং মূর্তিতে আবির্ভূতা হন। তাই সন্ধিপুজোয় ১০৮ পদ্ম ও ১০৮ প্রদীপ উৎসর্গ করা হয়।

৬। সন্ধিপুজোর মহাক্ষণে দশভূজারূপিনী চিন্ময়ী দুর্গা পূজিতা হন মুণ্ডমালিনী চতুর্ভুজা চামুণ্ডা রূপে। সন্ধিপুজোর সময়ে মা সর্ব আভরণ বিবর্জিতা।

৭। ‘স্মৃতি সাগর’ নামক স্মার্তগ্রন্থে সন্ধিপুজো সম্বন্ধে বলা হয়েছে— অষ্টমী তিথির শেষ দণ্ড ও নবমী তিথির প্রথম দণ্ডে “অত্র যা ক্রিয়তে পূজা বিজ্ঞেয়া সা মহাফলা” অর্থাৎ এই সময়ের পুজোতে মহাফল হয়।

৮। এনিয়ে প্রবাদেও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে— “যা হয় না ধনে জ্ঞানে, তা হয় ক্ষণের গুণে”। সন্ধিপুজো এরকমই একটি ক্ষণ।

৯। দেবীশক্তি তখন বধ করছেন অশুভ শক্তিকে। অন্যায়কে অপসারিত করে ন্যায়কে প্রতিষ্ঠার সন্ধিক্ষণ এই মুহূর্ত। আবার এই অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণেই শ্রীরামচন্দ্র রাবণের দশমুন্ড ছিন্ন করেছিলেন।

১০। সন্ধিপুজোর সন্ধিক্ষণে দেবী স্বয়ং মূর্তিতে আবির্ভূতা হন। তাই সন্ধিপুজো দর্শন ও এই সময়ে পুষ্পাঞ্জলি প্রদানে মেলে ৫টি অলৌকিক ফল। দেবী চামুণ্ডা ভক্তদের আয়ু দান করেন, সন্তান দান করেন, যশদান করেন, অর্থ সম্পদ দান করেন, কাম ও বিজয় দান করেন।

Comments are closed.