জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুজো সর্বমঙ্গলা মন্দিরে

৩০৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: হাইকোর্টের নির্দেশে এবং কোভিড বিধিকে মান্যতা দিয়ে বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী সর্বমঙ্গলা দেবীর মন্দিরে এবছর জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মন্দির কমিটির তরফে দেবীপক্ষের শুরুতেই এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। বিধিনিষেধের জাঁতাকলে এই পুজোয় তাই মন ভালো নেই মা সর্বমঙ্গলার ভক্তদের।

দেবী সর্বমঙ্গলার পুজো শুরু হয় প্রতিপদে। পুজো চলে নবমী অর্থাৎ নবরাত্রি অব্দি। রাজার আমল থেকে চলে আসা পুজো-প্রথায় আজ পর্যন্ত কোনও লাগাম টানা হয়নি। এবছরও পুরোনো আচার-নিয়ম মেনেই পুজো নেবেন বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা। তবে ‘স্বাস্থ্য আগে; শাস্ত্র পরে’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে দর্শক সমাগমে এ বছর বিধিনিষেধ এনেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পুজো হবে বর্ধমানের মঙ্গলাবাড়িতে।

পূর্ব বর্ধমানের সবচেয়ে প্রাচীন আর জনপ্রিয় মন্দির দেবী সর্বমঙ্গলার। রাজা তেজচন্দের আমলে এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। মন্দির ঘিরে রয়েছে অনেক উপকথা। জনশ্রুতি বলে, বর্ধমানের উত্তরে সর্ব্বমঙ্গলা পল্লী। সেখানেই এক বাগদি বাড়িতে ছিল দেবী বিগ্রহটি। বাগদিরা ছোট এক টুকরো পাথরখণ্ডের ওপর গেঁড়ি, গুগলি, ঝিনুক ভাঙত। স্থানীয় চুনোলিরা পরে এসে খোলগুলো কুড়িয়ে নিয়ে যেত চুন তৈরি করার জন্য। একদিন গুগলি, ঝিনুকের সাথে পাথরখণ্ডটিও নিয়ে যায় চুনোলিরা। খোলগুলো পোড়ানোর সময় পাথরখণ্ডটিকেও আগুনে দেয় তারা। আগুনে বাকি সব পুড়ে গেলেও অবিকৃত থেকে যায় কালো রঙের পাথরখণ্ডটি। পরে স্বপ্নাদেশ পেয়ে রাজা স্বয়ং গিয়ে উদ্ধার করে দেবীকে, এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে নিত্যপূজার ব্যবস্থা করেন।

বর্ধমানের এই মন্দির বেশ কিছুদিন আগেই পেয়েছে হেরিটেজের মর্যাদা। নতুন করে সংস্কারও হয়েছে মন্দিরের। দেবী দুর্গা এখানে সর্বমঙ্গলা রূপে পূজিতা হন। সারাবছরই ভক্তের কল্যাণে মন্দিরে বিরাজ করেন তিনি। দুর্গাপুজো সহ সমস্ত উৎসব সেই রাজ-আমল থেকেই মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে এই মন্দিরে।

পুজোর চারদিন ষোড়শোপচারে দেবী আরাধনা চলে এ মন্দিরে। আগে নবমী পুজোয় মহিষ ও পাঁঠা বলি দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। পূর্বতন জেলাশাসকের উদ্যোগে এখন বলির প্রথা বন্ধ। প্রতিবছর সন্ধিপুজোর মহালগ্নে কামান ফাটানো হত মন্দিরে। ১৯৯৭ এ কামান বিস্ফোরণের পর থেকে তাও বন্ধ। তবু পুজোর পাঁচদিন এখনও তিলধারণের জায়গা থাকেনা। হাজারে হাজারে ভক্ত সমবেত হন। মাছের টক সহ নানা উপাচারে ভোগ দেওয়া হয় মা’কে। মালসাভোগ নিতে ভক্তরা ভিড় করেন।নবমীতে প্রতিবছর কয়েকহাজার মানুষকে বিনাশুল্কে ভোগ বিতরণ করা হয়।

এবছর অবশ্য পরিস্থিতি আলাদা। করোনা আবহে বেশ কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর কিছুদিন আগেই মন্দির খুলেছে। জনসমাগমও খুব কম। পুজোর আগে মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাকে পাশের ঘরে নিয়ে যাওয়ায় আরও সঙ্কটে পড়েন ভক্তেরা। ভিড় ও প্রণামী কমে যাওয়ায় অর্থাগম কম। তাই ভাঁড়ারে টান পড়েছে মায়েরও।

প্রধান পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য এদিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানান, ১৭অক্টোবর প্রতিপদের দিন বিধি অনুসারে ঘটত্তোলন হয় রাজার প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণসায়রে। ঘট প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাঢ়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর আরাধান শুরু হয়ে গেছে। তবে এবছর শাস্ত্রের বিধানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির নিদানও মেনে চলছেন পুরোহিতেরা। গোল দাগের মধ্য থেকে দূরত্ব মেনে পুজো দিতে হবে সাধারণ ভক্তদের। নির্দিষ্ট স্থানে পুরোহিতের হাতে ডালা দিতে হবে। মন্দিত চত্বরে ভক্তদের প্রবেশ নিষেধ। ভোগও এবছর খুব সীমিত সংখ্যায় বিতরণ করা হবে। পুজোর দিনগুলোয় এত বিধিনিষেধে যথারীতি অখুশি সর্বমঙ্গলার ভক্তরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More