মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

কিশোরীর কাটা মুণ্ড উদ্ধার, উত্তাল গয়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২৮ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিল গয়ার এক ১৬ বছরের কিশোরী। ৬ জানুয়ারি উদ্ধার হয় তার মুণ্ডহীন দেহ। তার মুণ্ডটি অ্যাসিডে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়েটির পরিবারের দাবি, ধর্ষণ করে বীভৎসভাবে খুন করা হয়েছে তাকে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, মেয়েটিকে সম্মান রক্ষার্থে খুন করা হয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধারের পর কয়েকদিন কেটে গেলেও পুলিশ অপরাধীদের ধরতে সক্রিয় হয়নি বলে অভিযোগ। সেজন্য গত মঙ্গলবার থেকে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে গয়ায়। বৃহস্পতিবারও অশান্ত রয়েছে গয়া।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বাড়ির কাছেই মেয়েটির পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। তার পরিবারের অভিযোগ, পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার চার দিন বাদে থানায় জানানো হয়েছিল। ৩১ ডিসেম্বর মেয়েটির মা ও বোন থানায় জানায়, সে বাড়ি ফিরে এসেছে। ওই দিন রাত ১০টা নাগাদ এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে মেয়েটির বাবা তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছে।

পুলিশ পরে সেই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। সে খুনের ব্যাপারে কিছু জানে না। কিন্তু তার মোবাইলে কল রেকর্ডে জানা যাচ্ছে, কয়েকজন সন্দেহভাজনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। পুলিশ ময়না তদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। তাতে বোঝা যাবে সে ধর্ষিত হয়েছিল কিনা। দোষীদের গ্রেফতার করার দাবিতে মঙ্গল ও বুধবার মোমবাতি নিয়ে মিছিল করেছেন গয়ার মানুষ।

পুলিশ পরোক্ষে খুনের জন্য দায়ী করছে মেয়েটির পরিবারকেই। কোনও মেয়ের আচরণে যদি পরিবার সম্মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করে তাহলে অনেক সময় খুন করে ফেলে তাকে। এর নাম ডিসঅনার কিলিং। অর্থাৎ সম্মান রক্ষায় খুন। এক্ষেত্রে মেয়েটি ধর্ষিতা হয় না।

মেয়েটির পরিবার ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছে ঠিকই কিন্তু তারাও স্পষ্ট করে বলছে না, কেন তাকে একটি লোকের সঙ্গে রাতে পাঠিয়েছিল। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, হত্যাকারীরা চেয়েছিল, খুনের কথা যেন জানাজানি না হয়। মৃতদেহটি যাতে চেনা না যায়, সেজন্য তার মুণ্ড কাটা হয়েছিল। মুণ্ডটি যাতে না চেনা যায়, সেজন্য অ্যাসিডে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

খুনি যেই হোক, গয়ার মানুষ চান, সে দ্রুত শাস্তি পাক। পুলিশ যেভাবে ঢিলেঢালা মনোভাব দেখাচ্ছে, তাতে তাঁরা ক্ষুব্ধ। সেজন্যই গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে শহরে।

Shares

Comments are closed.