বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

হাসপাতাল এবং চিকিৎসক সূত্রে যতদূর জানা গিয়েছিল জেটলি ভুগছিলেন সফ্ট টিস্যু সার্কোমায়। কী এই রোগ, সে সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিত ভাবে

অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। চিকিৎসার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন সুদূর নিউ ইয়র্কে। হাসপাতাল এবং চিকিৎসক সূত্রে যতদূর জানা গিয়েছিল তিনি ‘সফ্ট টিস্যু সার্কোমা’য় আক্রান্ত। কী এই ‘সফ্ট টিস্যু সার্কোমা’ তা নিয়ে চলতি বছর জানুয়ারি মাসে (১৭ জানুয়ারি, ২০১৯) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল দ্য ওয়াল। এই জটিল রোগ সম্পর্কে ধারনা দিয়েছিলেন ডঃ গৌতম মুখোপাধ্যায় (সার্জিকাল অঙ্কোলজিস্ট)। 

কী এই রোগ, সে সম্পর্কে আরও একবার বিস্তারিত ভাবে জেনে নিন।

ডঃ গৌতম মুখোপাধ্যায় (সার্জিকাল অঙ্কোলজিস্ট)

এটি একটি ‘রেয়ার ভ্যারাইটি ক্যানসার’।  এটিকে অ্যাগ্রেসিভ ক্যানসার বলা হয়।  মূলত ফুসফুস এবং লিভারে ছড়িয়ে যায় খুব দ্রুত।  লো গ্রেড, ইন্টারমিডিয়েট গ্রেড, হাই গ্রেড এই তিনটি গ্রেড থাকে ক্যান্সারের ক্ষেত্রে।  স্বাভাবিক ভাবেই লো-গ্রেড হলে লেস অ্যাগ্রেসিভ হয় , আর হাই হলে ঠিক তার উল্টোটা।  সাধারণত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় এই ক্যানসার।  তাই খুব কম সময়েই ফুসফুস এবং লিভারে ছড়াতে পারে এই মারণরোগ।

প্রথমে থাকে একটি টিউমার, যাতে কোনও ব্যথা, যন্ত্রণা থাকে না।  তাই সহজে বিষয়টায় কেউ গুরুত্ব দেয় না।  কিন্তু তার পরেই ছড়াতে থাকে এটি।  আস্তে আস্তে সাইজে বাড়তে থাকে এই টিউমার।  শরীরের যে কোনও টিস্যু থেকেই হতে পারে এই রোগ।  ফ্যাট টিস্যু, নার্ভ, মাসল্ যে কোনও জায়গা থেকেই হতে পারে এর সূত্রপাত।  প্রথমে মাংসপিণ্ড অবস্থায় ব্যথাহীন হলেও, পরে ওই মাংসপিণ্ডের চার পাশের কোষ এবং নার্ভগুলোয় প্রভাব পড়ে এবং ব্যথা হয়।  তাই শরীরের কোথাও টিউমার হলেই, তাতে ব্যথা থাক বা না থাক, পরীক্ষা করানো উচিত।  শুরুতেই ধরা পড়লে কষ্ট ও বিপদ কম।

একটি মোটা নিডলের মাধ্যমে ওই মাংসপিণ্ডের কিছুটা টিস্যু নিয়ে বায়োপসি করা হয়। এটিকে ‘কোর বায়পসি’ বলা হয়, ডাক্তারি পরিভাষায়। এই বায়পসির মাধ্যমে বোঝা যায়, এই ক্যনসারের ভ্যারাইটি সম্পর্কে এবং কোন গ্রেডে রয়েছে এবং তার চরিত্র সম্পর্কে।  অর্থাৎ ছড়িয়ে না পড়লে তা সারিয়ে ফেলা সম্ভাবনাও বেশি থাকে। না ছড়িয়ে পড়লে তার অপারেশন করে ফলোআপ করা হয়।  এ ক্ষেত্রে সারিয়ে ফেলা সহজ।  কিন্তু ছড়িয়ে গেলে আর অপারেশন করা হয় না, কেমোথেরাপি দেওয়া হয়।  রেডিয়েশনও কাজ করে না তখন।  বায়োপসি করার পরে লোকাল এমআরআই করা হয় চিকিৎসার আগে। তার পরে চলে চিকিৎসা।

অর্থাৎ মোদ্দা কথা, শুরুতেই সচেতনতা সব চেয়ে জরুরি কাজ।  সেই সচেতনতাই ডাক্তারবাবুদেরও যুদ্ধ মোকাবিলায় সাহায্য করে।  পরিস্থিতি দেখে ডাক্তার হিসেবে আমার আন্দাজ, জেটলিজি হয় তো গোড়ার দিকে এই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি।  আমরা আশা করব মার্কিন চিকিৎসকরা তাঁকে আরোগ্যে ফিরিয়ে আনবেন।

Comments are closed.