সোমবার, আগস্ট ১৯

এখনও শূন্যপদ ১৩ হাজার, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি আরও সরল হবে: পার্থ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যখন বারবার প্রশ্ন উঠছে, তখন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সোমবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সরকারও এই ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তিত। প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সরল করা হবে। পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতিতে বদল আনতে চলেছে সরকার।

বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আট বছরের শাসন কালে ইতিমধ্যে প্রাথমিক স্কুলগুলির ৪২ হাজার শূন্যপদ পূরণ করেছে সরকার। সে জন্য লিখিত পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ হয়েছে। কিন্তু নিয়োগ পদ্ধতি কতটা স্বচ্ছ ছিল, সে বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ গোড়া থেকেই সন্দিহান। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। ইদানীং বিরোধীরা এ-ও বলছেন, প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জেলায় জেলায় শাসক দলের বহু নেতা মোটা টাকা তুলেছেন।

সোমবার বিধানসভায় এ প্রসঙ্গ ফের উত্থাপন করেন বাম বিধায়ক আনিসুর রহমান। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে কেন, তার উত্তর শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।

জবাবে পার্থবাবু বলেন, রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে এখনও মোট ১৩ হাজার ২৯৫টি শূন্যপদ রয়েছে। ওই শূন্যপদগুলি সরকার দ্রুত পূরণ করতে আগ্রহী। তবে পার্থবাবু জানান, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার আদালতে যে মামলা হয়েছে তাতেই গোটা ব্যাপারটাই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়া সরল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতার কিছুটা দায় পূর্বতন বাম সরকারেরও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, চৌত্রিশ বছরের জঞ্জাল সাফাই করতেই বর্তমান সরকারের অনেকটা সময় চলে গিয়েছে।

শুধু প্রাথমিক নয়, মাধ্যমিক- উচ্চ মাধ্যমিক ও কলেজ স্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও ইদানীং বিভিন্ন মহল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহু সময়ে দেখা যাচ্ছে মেধা তালিকা প্রকাশ না করেই ইন্টারভিউতে ডাকছে নিয়োগ বোর্ড। এই পদ্ধতি অস্বচ্ছ। কে কত নম্বর পেলেন, কীসের ভিত্তিতে প্যানেল তৈরি করা হচ্ছে তা জানার পূর্ণ অধিকার রয়েছে পরীক্ষার্থীদের।

সরকার এই পথে অনড় থাকলে মামলা মোকদ্দমা করা ছাড়া তাদের কাছেও উপায়ন্তর থাকছে না। সুতরাং মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে– এই কথাটি অর্ধসত্য। আসলে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলেই মামলা হচ্ছে। সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করলেই মামলার সম্ভাবনাও কমে যাবে।

Comments are closed.