টালা ব্রিজ দিয়ে বাস চলবে না, বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি: জানিয়ে দিলেন মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর মুখে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টালা ব্রিজ বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষের যে বিপুল দুর্ভোগ, তা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। আলোচনা করেন রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও।

    মমতা এ দিন বলেন, টালা ব্রিজে যে কাজ চলছে, তার জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সুবিধা-অসুবিধা মেনে নিয়েই সাধারণ মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে এই কাজ জরুরি। তিনি বলেন, “রেল আমাদের কথা শোনে না। ওদের অনেক দিন আগেই আমরা একাধিক রেল ব্রিজ নিয়ে জানিয়েছিলাম। যেখানে টালা ব্রিজ ছিল। কিন্তু, তারা আমাদের কথা গুরুত্ব দেয়নি রেল। আমি চাই এ বিষয়ে রেল আর রাজ‍্য একটা মৌ (মেমরেন্ডাম অফ আনডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষর করুক, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে এই ব্রিজগুলোর মনিটর করা যায়।”

    মমতা জানিয়ে দেন, এই মুহূর্তে টালা ব্রিজে ছোট গাড়ি চললেও, বাস বা অন্য বড় গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। “টালা ব্রিজে ৩ টন পর্যন্ত গাড়ি চলাচল করবে আপাতত। তিন তারিখে এক জন বিশেষজ্ঞ আসছেন। তাঁর মতামত নিয়ে, এই বিষয়ে ফের ১২ তারিখ বৈঠক করা হবে।”

    তবে সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, আগামী ডিসেম্বরেই মাঝেরহাট ব্রিজে গাড়ি চলাচল শুরু হয়ে যেতে পারে।

    রাজ্য জুড়ে বন্যা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ডিভিসি জল ছাড়ার কারণেই মালদা, মুর্শিদাবাদ ও হাওড়া জেলার কিছু অংশে বন‍্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা কী করে সামাল দেওয়া যায়, তা আলোচনা করার জন্য এবং পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য একটি মনিটরিং টিমও তৈরি করা হয়েছে।

    মমতা বলেন, “বাংলা অনেকটা নৌকার মতো। নেপালে বৃষ্টি হলে, ভুটানে বৃষ্টি হলে, ঝাড়খণ্ডে বেশি বৃষ্টি হলে, সব জল এখানে চলে আসে। আমাদের এখানে বন‍্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি জল নিকাশির ব্যবস্থা করে না, ফলে ভুগতে হয় আমাদের। বন্যা নিয়ে একটা মনিটরিং কমিটি তৈরি করা হয়েছে। যারা রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখবে। যেখানে সব দফতরের প্রতিনিধিরা থাকবেন। মন্ত্রীদের এলাকা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা সেইমতো এলাকায় নজর রাখবেন।”

    আপাতত খবর, হাওড়ায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরুপ রায়, হুগলিতে ববি হাকিম, মালদায় জাভেদ খান ও গোলাম রব্বানি, মুর্শিদাবাদে শুভেন্দু অধিকারী ও গোলাম রব্বানি এবং মেদিনীপুরে সুব্রত মুখার্জি ও শুভেন্দু অধিকারী বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। মমতার দাবি, এ রাজ্যে বেশি বৃষ্টির জন্য বন্যা হয় এমনটা নয়। কিন্তু অন্য রাজ্যের অতিবৃষ্টি এবং তার জেরে বেশি বৃষ্টির জল ছাড়ার কারণেই এখানে বন্যা হয়।

    সাংবাদিক বৈঠকে এনআরসি-র প্রসঙ্গও ওঠে। পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবে কিনা, বা কবে হবে– এ প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, এনআরসি নিয়ে অহেতুক ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এ বিষয়ে কোনও তথ্য বা নির্দেশ এখনও আসেনি। ফলে এ নিয়ে কোথাও কোনও ‘প্যানিক’ না করার কথা বলেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More