সোমবার, ডিসেম্বর ৯
TheWall
TheWall

চিকিৎসকেরা যেন ভগবান, প্রাণে বাঁচিয়ে সুস্থ করে তুুললেন ২৬ সপ্তাহে জন্মানো শিশুকে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন অসাধ্য সাধন! অসম্ভবের লড়াইয়ে অদ্ভুত ভাবে জিতে যাওয়া! হার নিশ্চিত জেনেও যে লড়়াই লড়ে গিয়েছিলেন একদল চিকিৎসক! আজ তাঁদের লড়াইয়ের ফসল কিশলয়ের মতো বেড়ে উঠেছে তিলে-তিলে। দু’মাস পরে তাকে দেখে স্বস্তির শ্বাস ফেলছেন যোদ্ধারা।

বর্ধমানের প্রসূতি স্বাগতা ঘোষ পাঁজা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর স্বামী কাজ করেন আমেরিকায়। প্রসবের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই গর্ভস্থ ভ্রূণের বয়স যখন মাত্র ২৬ সপ্তাহ, তখনই আচমকা প্রসব-যন্ত্রণা ওঠে স্বাগতার। ওয়াটার ব্রেক করে হঠাৎ। ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে পড়ে স্বাগতার পরিবার। বর্ধমানের যে স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞ স্বাগতাকে দেখছিলেন, তিনি একটি হাসপাতালে রেফার করে দেন স্বাগতাকে।

বর্ধমানেরই একটি বেসরকারি শিশু হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসকেরা জানান, স্বাগতার পেটের শিশুটিকে বাঁচানো কার্যত অসম্ভব। কোনওরকমে মায়ের প্রাণ বাঁচতে পারে। শিশুকে রাখতে গেলে মায়ের অবস্থাও সঙ্কটজনক হবে। স্বাগতার পরিবার সবটাই ছেড়ে দিয়েছিলে চিকিৎসকদের উপরেই।

চিকিৎসকেরা জান লড়িয়ে দেন। আট জন চিকিৎসকের মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি হয়। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল একটি অস্ত্রোপচার করে বার করে আনা হয় স্বাগতার গর্ভের শিশুকে। তার ওজন মাত্র ন’শো গ্রাম। ৩৮-৪০ সপ্তাহে যেখানে স্বাভাবিক প্রসব হওয়ার কথা, তার অনেক আগে মাত্র ২৬ সপ্তাহে শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখেছিল।

ফলে ঝুঁকি থেকে গিয়েছিল অনেক। তবু হাল ছাড়েননি চিকিৎসকেরা। ইনকিউবেটরে কৃত্রিম সাপোর্ট দিয়ে তাকে তিলে তিলে বড় করেন তাঁরা। দীর্ঘ দু’মাস ধরে এই নতুন প্রাণকে টিকিয়ে রেখে চিকিৎসক আশরাফুল মির্জা জানিয়েছেন, আর তার প্রাণসংশয় নেই। তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ-ও পরিণত হচ্ছে স্বাভাবিক ভাবেই। যদিও এখনও চিকিৎসা চলবে বেশ কিছু দিন। তবে শিশুটি এখন নিরাপদে আছে। সে এখন তৈরি, বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার জন্য।

স্বাভাবিক ভাবেই খুশি বাধ মানছে না মা স্বাগতা এবং বাবা সৌমেন্দুর। তাঁদের বর্ধমান শহরের জগৎবেড়ের বাড়িতেও খুশির ছোঁয়া। পুজোর আগে আগেই সুখবর পেয়ে মন ভরে গেছে তাঁদের। এই বিরল চিকিৎসা করে সাফল্য পেয়ে খুশি চিকিৎসকদের দলও। কলকাতা থেকে অনেক দূরে বর্ধমান জেলার বুকেও এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরে আনন্দিত তাঁরা।

বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসকদের দলে রয়েছেন ডক্টর এসপি নাগ, দেবদূত বন্দ্যোপাধ্যায়, এমএস রায়, সুদীপ্তা দাস, আশরাফুল মির্জা, সৌরভ কুমার, পল্লব মুখার্জী ও মেহেবুব আলম। এ ছাড়াও রয়েছে চিকিৎসাকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া বাচ্চাকে বাঁচিয়ে তোলাই একটা চ্যালেঞ্জ। অনেক সময়ে বাঁচলেও, সুস্থতার সম্ভাবনা কমে যায়। কিন্তু এই ঘটনাটি ব্যতিক্রম। বর্ধমানের চিকিৎসকেরা মিরাকেল ঘটিয়েছেন।

Comments are closed.