গাফিলতিতে মৃত গর্ভবতী! অভিযুক্ত ডাক্তারকে মালা পরিয়ে, ‘বরণ’ করে, চাঁদা তুলে দিল প্রতিবাদী জনতা

তিনি পাঁচ ঘণ্টা ধরে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকলেও কোনও চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসা করেননি বলে অভিযোগ। 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: এক আসন্নপ্রসবা গর্ভবতী তরুণীর মৃত্যু ঘিরে শনিবার দিনভর এক বিরল প্রতিবাদের সাক্ষী হল মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমা হাসপাতাল। তবে প্রতিবাদ বললেই যে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের চিত্র ভেসে ওঠে, এ প্রতিবাদ তেমন নয়। শান্তিপূর্ণ ভাবে অথচ চরম প্রত্যাখ্যানের মোড়কে অভিনব এক প্রতিবাদের নজির তৈরি করলেন রোগীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

    স্থানীয় সূত্রের খবর, মৃত ওই তরুণীর নাম শতাব্দী দত্তহালদার। তিনি মারা যাওয়ার পরেই অভিযোগ ওঠে, চিকিৎসকের গাফিলতিতে ঘটেছে বিপর্যয়। তাঁর মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তবে কোনও অশান্তি না করে অভিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বাসব সাহাকে মৃতদেহের সামনে এনে দাঁড় করান পরিবারের সদস্যরা। তার পরে তাঁর গলায় মালা পরিয়ে, উপস্থিত সকলে মিলে চাঁদা তুলে, সেই টাকা তুলে দেন ওই চিকিৎসকের হাতে!

    এর পাশাপাশি অবশ্য দিনভর হাসপাতাল সুপার অভিজিৎ দেওঘরিয়াকেও আটকে রেখেও বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিবারের লোকজন। তবে উত্তেজিত জনতা শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের কোনও রকম ক্ষয়ক্ষতি করেননি। অভিযুক্ত চিকিৎসককে হাতের নাগালে পেয়েও মারধরও করেননি। পরে সন্ধে হলে, আসন্নপ্রসবার মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

    স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার গভীর রাতে প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে জিয়াগঞ্জ গ্রামীন হাসপাতালে ভর্তি হন শতাব্দী দত্ত হালদার। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় শনিবার লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁকে। অভিযোগ, সেখানে তিনি পাঁচ ঘণ্টা ধরে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকলেও কোনও চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসা করেননি বলে অভিযোগ।

    জানা গেছে, সে সময়ে কর্তব্যরত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হিসেবে হাসপাতালে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাসব সাহার। কিন্তু তিনি ছিলেন না। প্রসূতির পরিস্থিতির কথা ভেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ, নার্সরা একাধিক বার ডাক্তাবাবুকে কল করলেও আসেননি ওই চিকিৎসক। বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের ফোনেই কিছু ওষুধ এবং অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দেন বাসব সাহা। নার্সরা ডাক্তারবাবুর পরামর্শ মেনে রোগীর চিকিৎসা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।

    তার পরেই হাসপাতাল জুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। দাবি করা হয়, অভিযুক্ত চিকিৎসককে আসতে হবে। সারাদিন অপেক্ষা করে জনতা। শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেলে হাসপাতালে উপস্থিত হতে বাধ্য হন ওই চিকিৎসক। এর পরেই তরুণী প্রসূতির মৃতদেহর মতোই অভিযুক্ত চিকিৎসককেও মালা পরিয়ে উপযুক্ত শিক্ষা দেন।

    জানা গেছে, বছর খানেক আগেই শতাব্দীর বিয়ে হয়েছিল লালগোলা থানার উত্তর সুদর্শনগঞ্জ এলাকায়। তাঁর মৃত্যুর খবরে স্বাভাবিক ভাবেই শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। মৃতের দাদা বাবুসোনা দত্ত অভিযুক্ত চিকিৎসকের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করে মুর্শিদাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। তিনি বলেন, “এক জন মানুষের কর্তব্যে গাফিলতির কারণে দু-দুটো প্রাণ নষ্ট হয়ে গেল। আমরা এর সুবিচার চাই।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More