স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগুন, রোগীদের প্রাণ বাঁচিয়ে ঝলসে গেল অন্তঃসত্ত্বা কুকুর! তার চিকিৎসায় টাকা তুলছেন নেটিজেনরা

৯৮৯

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার জন রোগীকে প্রাণে বাঁচিয়ে নিজে ঝলসে গেল সে। তারই চিকিৎসার জন্য এখন টাকা তুলছেন ভালবাসার মানুষরা। সে আর কেউ নয়, একটি পোষ্য কুকুর। নাম তার ম্যাটিল্ডা। রাশিয়ার লেনিনগ্রাদের এই ঘটনায় কৃতজ্ঞতা ও প্রার্থনার বন্যা বয়ে গিয়েছে ম্যাটিল্ডার জন্য।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রাতে লেনিনগ্রাদের একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। কেউ কোথাও ছিলেন না গভীর রাতে, নিঃশব্দে বাড়তে থাকে আগুন। চার বয়স্ক রোগী বন্দি হয়ে পড়েন। বিপদের মুখে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে সকলকে সতর্ক করে ম্যাটিল্ডা। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেরই পোষ্য সে। শেষমেশ তার জন্যই প্রাণে বেঁচে যান চার বয়স্ক রোগী।

ম্যাটিল্ডা এখন অন্তঃসত্ত্বা। সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এসেছে তার। সে জন্যই হয়তো একটু দেরি হয়ে যাওয়ায় নিজেকে আর আগুন থেকে বাঁচাতে পারেনি সে। অন্যদের প্রাণ রক্ষা করতে পারলেও, তার নিজের শরীরের অনেকটা অংশই পুড়ে গিয়েছে!

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পরে ম্যাটিল্ডার চিৎকার শুনে কর্তৃপক্ষ সতর্ক হন। সঙ্গে সঙ্গে দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স এসে আটকে পড়া চার জন বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এর পরে সকলে আগুন নেভাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও কুকুরটির কথা সবাই ভুলে যায়।

কিছু পরে এক সাংবাদিকের ক্যামেরায় ধরা পড়ে, কুকুরটি আগুনে পুড়ে গিয়েছে, যন্ত্রণায় ছটফট করছে। এর পরে এই খবর সম্প্রচারিত হতেই পিটার্সবার্গের পশুপ্রেমী সংগঠন ও সমাজকর্মী আলেক্সজান্ডার ও এলিনা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। তাঁরাই কুকুরটিকে উদ্ধার করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। ম্যাটিল্ডার মুখ, ঘাড়, পেট অনেকটাই পুড়ে গিয়েছিল। তার উপর জানা যায় সে সন্তানসম্ভবা। তবে ভাল করে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত বিপন্মুক্ত ম্যাটিল্ডা। তার গর্ভের সন্তানেরাও ভাল আছে, সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই মা হবে ম্যাটিল্ডা।

ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পরেই ম্যাটিল্ডার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন সাধারণ মানুষজন। পশুপ্রেমী সংগঠনগুলোও এগিয়ে আসে। তার চিকিৎসার খরচ জোটাতে চলছে অর্থ সংগ্রহের কাজ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ম্যাটিল্ডা বহুদিন ধরেই সকলের সঙ্গে বেশ আদরেই থাকত সেখানে। খুবই দায়িত্ববান পাহারাদার হিসেবে তার বিশেষ সুখ্যাতিও ছিল। সেদিনও ম্যাটিল্ডাই প্রথম তারস্বরে চিৎকার করে সতর্ক করে দিয়েছিল সকলকে।

ফলে এমন একটি প্রাণীকে যে সকলেই ভালবাসবেন, সেটাই স্বাভাবিক। পশু ক্লিনিকের চিকিৎসকরা নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে জানাচ্ছেন, চিকিৎসায় সে কেমন সাড়া দিচ্ছে, কেমন আছে, খাওয়াদাওয়া করছে কিনা। ম্যাটিল্ডার ‘হেল্থ বুলেটিন’-এর অপেক্ষায় থাকেন অনেকেই। এখন সকলেরই একটাই প্রার্থনা, তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে উঠুক ম্যাটিল্ডা, নিরাপদে জন্ম দিক সন্তানদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More