শনিবার, অক্টোবর ১৯

মন্ত্রীও হয়েছেন প্রশান্ত কিশোর, মোদী থেকে মমতার মাঝে আছে আরও দল-রং-পার্টি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাঁটছড়া ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ইতিমধ্যেই ঘাসফুলের হয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে টিম পিকে। রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে কাজ করলেও প্রশান্ত কিশোরের একটা রাজনৈতিক পরিচয়ও রয়েছে। তিনি নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেডের সহ সভাপতি। আগে নরেন্দ্র মোদী, রাহুল গান্ধীদের সঙ্গে কাজ করাই শুধু নয়, নীতীশ মন্ত্রিসভার সদস্যও থেকেছেন প্রশান্ত।

বছর সাতেক রাষ্ট্রসঙ্ঘে কাজ করার পরে দেশে ফিরে প্রশান্ত তৈরি করেন তাঁর রাজনৈতিক প্রচার সংস্থা, সিটিজেন ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স (ক্যাগ)। তখন তৃতীয় বার গুজরাটের ক্ষমতায় আসার লড়াই নরেন্দ্র মোদীর। প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া সামলে মোদীকে গুজরাটে জেতানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সফলও হন।

মোদী এর পরেও প্রশান্ত কিশোরের হাত ছাড়েননি। নরেন্দ্র মোদীকে জাতীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চ্যালেঞ্জও নেয় প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা। দেশজুড়ে ভোটপ্রচারে যোগ করা হয় নয়া মাত্রা। মণিশঙ্কর আইয়ার চাওয়ালা বলে কটাক্ষ করেছিলেন মোদীকে। সেটাকেই হাতিয়ার করে ‘চায়ে পে চর্চা’ শুরু করেন মোদী। শোনা যায়, এর পিছনে ছিল প্রশান্ত কিশোরের মাথা।

মোদী দিল্লির মসনদে বসার পরে সংগঠনের নাম বদলান প্রশান্ত। ক্যাগ হয়ে যায় আই প্যাক। ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি। নতুন নাম নিয়ে পরের বছর নীতীশ কুমারের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন প্রশান্ত। লালু-নীতিশের জোটেরে হয়ে এবার নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামেন প্রশান্ত কিশোর। তৈরি করলেন নতুন রণনীতি। ‘বিহারি বনাম বাহারি’ স্লোগান তৈরি করে বিহারে থামিয়ে দিলেন অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদীদের ঝড়।

কথা রেখেছিলেন নীতীশ কুমার। প্রশান্ত কিশোরকে দফতরহীন মন্ত্রী বানান নীতীশ। কিন্তু, সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এর পরে কংগ্রেসের শিবিরে যান প্রশান্ত। প্রথমে পঞ্জাবে এবার ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন। সেবার অবশ্য সাফল্য পায়নি আই প্যাক। যদিও বলা হয় রাহুল গান্ধী প্রশান্ত কিশোরের সব পরামর্শ মানেননি। এরপর কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করেন প্রশান্ত।

২০১৮ সালে ফের নীতীশের কাছাকাছি। ১৬ সেপ্টেম্বর জনতা দল ইউনাইটেডে যোগ দেন প্রশান্ত কিশোর। সহ-সভাপতির দায়িত্বও নেন। এর পরে দলের সহ-সভাপতি পদ পান। শোনা যায়, গত লোকসভা নির্বাচনের আগে জনতা দল ইউনাইটেডের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগের মাধ্যম ছিলেন প্রশান্ত।

গত লোকসভা নির্বাচেনর সঙ্গে সঙ্গেই হয় অন্ধ্রপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। ১৭৫টি বিধানসভার মধ্যে ১৫০টি আসনই জিতেছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস। জগনের নির্বাচনী কৌশলের পিছনেও ছিলেন প্রশান্ত কিশোর।

এবার বাংলা। বিজেপির উত্থান ঠেকিয়ে তৃণমূলকে ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরাতে নতুন লড়াই।

Comments are closed.