বিশ্ববাণিজ্যে বসতি নতুন নারদ ডোনাল্ড ট্রাম্প  

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

রানা আইচ

ইদানিং বিশ্ব বাণিজ্যে মা লক্ষ্মী আস্তে আস্তে পর্দার অন্তরালে চলে যাচ্ছেন – ধীরে ধীরে তার জায়গা দখল করে নিয়েছেন নারদ মুনি। অবশ্য, এ কথাও অনস্বীকার্য যে নারদ মুনি নিজে ঠিক ঝগড়ায় অংশগ্রহণ করেন না – তিনি দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা পাকিয়ে দূরে বসে মজা দেখেন। তাই মাঝে মাঝেই মনে হয় নারদমুনি নিজেই ঝগড়া করতে নেমে পড়লে কেমন হত ব্যাপারটা। বেশিদিন আর অপেক্ষা করতে হলো না। কলি কালের নারদের সন্ধান আমরা পেয়ে গেছি – যিনি পুরাণের নারদ মুনির উন্নততর সংষ্করণ। ইনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প – সবার সঙ্গে পায়ে পা বাঁধিয়ে ঝগড়া করতে যার জুড়ি নেই। উদ্দেশ্য খুবই মহৎ এবং সোজাসাপটা – ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’। তাঁর রাজনীতির একটাই মন্ত্র – ‘আমেরিকা ফার্স্ট’, তাতে যদি সমগ্র বিশ্ব চুলোয় যায় তাতে তার কিছু এসে যায় না। কার প্রতি যে তিনি খড়গহস্ত নন সেটা বরঞ্চ বলা সোজা – কারণ এই ফ্রি ট্রেডের চক্করে দুনিয়ার প্রায় সব দেশের ওপরেই উনি ভীষণ চটে আছেন। চিনকে তো বটেই, প্রতিবেশী কানাডা ও মেক্সিকো, দীর্ঘদিনের বন্ধু জাপান ও ইউরোপকেও  তুলোধুনো করছেন নিয়মিত। সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যক্রমে ভারতও ঢুকে পড়েছে ট্রাম্পের এই ব্যাড বুকে।

২০১৬ র মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় থেকেই ট্রাম্প কিন্তু হুমকি দিয়ে রেখেছিলেন প্রেসিডেন্ট হলেই সে সব দেশ যারা আমেরিকার সঙ্গে বিপুল পরিমাণে বাণিজ্য করে – তাদের তিনি কড়া দাওয়াই দিতে বাধ্য হবেন। জানিয়েছিলেন যে মুক্ত বাণিজ্য (Free Trade) নয়, তিনি ন্যায্য বাণিজ্যের (Fair Trade) পক্ষপাতী।

আমেরিকার রাস্ট বেল্ট

একথা আগেভাগেই স্বীকার করে নেওয়াই ভালো কথাটা কয়েকটা দেশের জন্য কিছুটা হলেও সত্যি। বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্প বিশেষ করে মুখর হয়েছিলেন চিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করেছিলেন যে চিন কৃত্তিম ভাবে তাদের মুদ্রা অবমূল্যায়ন করে রেখেছে যার ফলে সস্তা চিনা পণ্য খুব সহজেই সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। চিনের এই আগ্রাসী রফতানি নীতির বলি হচ্ছে আমেরিকার শিল্প। উত্তর পূর্বের রাস্ট বেল্টে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক  কারখানা – ফলে আমেরিকার শ্রমিক শ্রেণীর জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের করাল ছায়া এবং তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হলে এর শেষ দেখে ছাড়বেন।

 

সবাই ভেবেছিলো মার্কিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি হয়তো এই ব্যাপারে আর কঠোর হবেন না, আমদানি করা কোনো কোনো পণ্যের ওপর নামমাত্র লোক-দেখানো শুল্ক বসিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবেন। কিন্তু তিনি যে ডোনাল্ড ট্রাম্প – কথা দিয়ে কথা রাখেন। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তিনি বলেছিলেন গরীবদের জন্য ওবামাকেয়ার তুলে দেবেন (শুনে অবাক হবেন অনেক গরীব লোক হৈ হৈ করে ভোটও দিয়েছিলেন) এবং ক্ষমতায় এসেই তিনি তিন বার চেষ্টাও করেছেন এই হেলথকেয়ার তুলে দেওয়ার, যদিও মার্কিন কংগ্রেসের বিরোধিতায় সেই স্বাস্থ্যবীমা ব্যাবস্থা এখনও অনেকাংশেই চালু আছে। তাই, ক্ষমতায় আসীন হয়ে যখন এই গত মার্চ মাসে তাঁর প্রশাসন চিনা পণ্যের ওপর প্রথমে ৩০০ কোটি আর তারপর দেড় বছরের মাথায় গত ৬ জুলাই প্রায় তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলারের চিনা স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর যথাক্রমে ২৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক ঘোষণা করে তখন কেউই প্রায় অবাক হয়নি। ছাড় পায়নি কানাডা, মেক্সিকো, ও ইউরোপের থেকে আমদানি করা স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যও।

এর পালটা হিসেবে এই সব দেশগুলোই মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসানোর কথা ঘোষণা করে। এতে বিন্দুমাত্র দমে না গিয়ে চার দিন পরে আরও ২০ হাজার কোটি ডলারের চিনা পণ্য যেমন মোটর গাড়ির যন্ত্রাংশ, রেফ্রিজারেটর, ইলেকট্রনিক্স এমনকি বেসবল গ্লাভস ও হ্যান্ডব্যাগের ওপর মাসুল বসানোর কথা ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন – যা সামনের অগস্ট মাস থেকে লাগু হওয়ার কথা। ফলস্বরূপ একবিংশ শতাব্দীর প্রথম বিশ্ব বাণিজ্য যুদ্ধের একদম মুখোমুখি আমরা সকলেই।

চিন, ইউরোপ, মেক্সিকো ও কানাডা এই মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক বসাচ্ছে সেই সমস্ত পণ্যগুলোর ওপরেই যার ওপর ট্রাম্পের ভোটব্যাঙ্ক ভীষণভাবে নির্ভরশীল। উদাহরণে বলা যেতে পারে চিন মাসুল বসিয়েছে গাড়ি, কেমিক্যাল, সোয়াবিন, পর্ক, ওয়াইন ও ফলের ওপর। পিছিয়ে থাকেনি মেক্সিকোও – তারা এর মধ্যেই প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক বসিয়েছে যার মধ্যে আছে পর্ক, স্টিল, চিজ ও আপেল। ইউরোপের মাসুলের তালিকায় আছে ডেনিম, অরেঞ্জ জুস, মোটর সাইকেল, মোটরবোট ও সিগারেট। একবার আমেরিকার নির্বাচনী ম্যাপটা খুলে চোখ বুলিয়ে নিলেই দেখতে পাবেন যে যে রাজ্যগুলো গত নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিল এই মাসুল যুদ্ধে সেই সব জায়গার কৃষক ও শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে ট্রাম্প তো বলেই দিয়েছেন বাণিজ্য যুদ্ধটা শুরু হলেই হয় – জেতাটা শুধু সময়ের অপেক্ষা! যদিও অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা বলছেন ব্যাপারটা অত সোজা নয়। কেউ বলছেন দু’পক্ষেরই ক্ষতি হবার সমূহ সম্ভাবনা – আবার কেউ কেউ বলেছেন মার্কিন অর্থনীতি এক জোরদার অবস্থায় আছে বলে এই ঝাপটা কোনওমতে সামলিয়ে নেওয়া যাবে। এই অবস্থায় একটা বড় প্রশ্ন হচ্ছে – আসন্ন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের নির্বাচনে রিপাবলিকানেরা কি এই ঝড় সামলাতে পারবেন?

গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্পের নতুন হুমকি যে তিনি সমস্ত চিনা পণ্যের (প্রায় ৫০হাজার কোটি ডলার মূল্যের) ওপর শুল্ক বসিয়েই ছাড়বেন। রিপাবলিকান নেতারা, যাঁরা নাকি চিরকাল ফ্রি ট্রেডের সমর্থন করে এসেছেন, ট্রাম্পের এই আগুন নিয়ে খেলা মোটেই পছন্দ করছেন না। কিছু কট্টরপন্থী অবশ্য আনন্দে আত্মহারা – যেমন ট্রাম্পের পুর্বতন পরামর্শদাতা স্টিভ ব্যানন। ইনি তো গর্ব করে বলেই দিয়েছেন যে ট্রাম্প টেবিলের ওপর যে বন্দুকটা রেখেছেন তার সব কটা চেম্বারেই গুলি ভরা!

আমেরিকায় সয়াবিন চাষ

রাজায় রাজায় যুদ্ধে এরমধ্যেই উলুখাগড়া হয়েছেন আমেরিকার আইওয়া রাজ্যের সয়াবিন চাষিরা। প্রতি বছর এরা জাহাজ ভরে ভরে শুধু চিনদেশেই পাঠাতেন তাঁদের মোট রফতানির ৬০ শতাংশ। কিন্তু এই বছর ট্রাম্পের কল্যাণে রফতানি প্রায় একলাফে ২২% পড়ে গেছে। শুধু তাইই না – এখন এইসব চাষিরা ভয় পাচ্ছেন যে ভবিষ্যতে চিন দেশ থেকে আর কোনদিনই এরা সোয়াবিন রফতানির অর্ডার পাবেন না। তাদের ভয় এরপর থেকে চিন আমেরিকান সোয়াবিনের বদলে ব্রাজিলের থেকেই সোয়াবিন কেনা পছন্দ করবে।

একই অবস্থা উপকূলবর্তি আরেক রাজ্য আলাস্কার। এখানকার মৎসজীবীরা তো এই ট্রেড ওয়ারের ভয়ে ঠক ঠক করে কাঁপছেন। প্রতি বছর আলাস্কার থেকে টন টন স্যামন মাছ চিনদেশে রফতানি হয়। এখন তাঁদের চিন্তা, চিন যদি কুপিত হয়ে এই স্যামন মাছের ওপর শুল্ক বসিয়ে দেয় – তাহলেই তো চিত্তির! এক লহমায় ১৬,০০০ লোকের জীবিকা নিয়ে টানাটানি শুরু হবে – যার অধিকাংশই সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের সাথে যুক্ত।

কেনটাকি ও টেনেসি রাজ্যের তৈরি হুইস্কি জগৎ বিখ্যাত। একটু খেয়াল করে দেখবেন কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপ ও চিন এই চার দেশই এই হুইস্কির ওপর নতুন শুল্ক ঘোষণা করেছে। ওদিকে টেক্সাস, মিসিসিপি ও আলাবামা রাজ্যে – আমেরিকার গাল্ফ কোস্ট বরাবর প্রচুর অপরিশোধিত তেল উৎপাদন হয়ে থাকে। এর প্রায় ৮০% বাইরে রফতানি হয়ে যায়। ২০১৫ নাগাদ মার্কিন কংগ্রেস এই তেল রফতানির অনুমতি দেয়, এবং বিদেশে এই তেলের ভালো চাহিদা থাকায় এই অঞ্চলের তেল ও তার অনুসারি শিল্পগুলি কিছুটা হলেও আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এখন এই ক্রুডের ওপর মাসুল দিতে হলে উপকূলবর্তী অনেক শহরে নেমে আসবে দুর্দিনের করাল ছায়া। উপরে উল্লিখিত সব রাজ্যগুলোই বেশ অনেক বছর ধরে রিপাবলিকান পার্টিকে ভোট দিয়ে আসছে – এখন এটাই দেখার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই সাম্প্রতিক খেয়োখেয়ি সামনের নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচনে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে।

 

সৌজন্য: ওয়াশিংটন টাইমস

ওদিকে চিনের অর্থনীতি এখন চলছে পরিকাঠামোগত সংস্কার। চিনা কর্তৃপক্ষ এখন খুব চেষ্টা করছেন গত চার দশকের রফতানি নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার। এই কয়েক দশকে সে দেশে তৈরি হয়েছে এক বিশাল মধ্যবিত্ত শ্রেণী, ফলে অভ্যন্তরীণ বাজার এখন আগের তুলনায় অনেক গুণ বড়। নীতি নির্ধারকেরা এখন তাই আস্তে আস্তে অর্থনীতিকে অভ্যন্তরীণ বাজার অভিমুখী করে তোলার চেষ্টা করছেন। ভারতের মত চিনা ব্যাংকগুলোও অনাদায়ী ঋণের ভারে জর্জরিত। ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া এখন আগের মত অত সহজ নয়। এতদিন পরিবার-পিছু-এক-সন্তান নীতির ফলে হঠাৎ করে সমাজে বয়স্ক লোকের সংখ্যাও বেড়ে গেছে, তুলনায় কমেছে কর্মক্ষম লোকের যোগান। বাৎসরিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে নামতে নামতে ৬.৭ শতাংশ এসে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞই বলেছেন হঠাৎ করে নেমে আসা খাঁড়ার ঘা মতো এই মার্কিন শুল্কের ফলে চিনের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরিমাণ কম করে আরও ০.৫ – ০.৭  শতাংশ মতো হ্রাস পাবে। এই সূত্রে আরও একটা কৌতূহলোদ্দীপক খবর হচ্ছে এই মার্চ মাস পর্যন্ত চিনের মুদ্রা রেনমিনবির মূল্য একটু একটু করে শক্তিশালী হচ্ছিল – ট্রাম্পের এই ধামাকায় হঠাৎ করে সেই রেনমিনবির মূল্য  আবার ৮% পড়ে গেছে! সাধে কি আর ট্রাম্প সাহেব এমনি এমনি রেগে যান! আবার অন্যদিকে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প ছাড়া মার্কিন অর্থনীতিও যে খুব লাভবান হবে তাও বুক ঠুকে বলা যাচ্ছে না – অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরিমাণ কমতে পারে প্রায় ০.২৫ থেকে ০.৫ শতাংশ। অনেক উৎপাদন শিল্পসংস্থা যারা বিদেশ থেকে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম এতোদিন রফতানি করে এসেছে, যথা মোটর গাড়ির ও বিমানের যন্ত্রাংশের কারখানা – এখন মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছে – কেননা এতোদিন ধরে তিল তিল করে গড়ে ওঠা কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাবস্থাটা চোখের সামনে ভেঙে পড়ছে।

ঘুম ছুটেছে রিপাবলিকান পার্টির কর্মকর্তাদেরও  – চার মাস পরে আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচনে যেনতেন প্রকারেণ রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতেই হবে। বিভিন্ন দেশের পাল্টা শুল্কের গুঁতোয় মার্কিন জনসাধারণের যে অংশ সবচেয়ে বেশি অসহায় বোধ করছেন তারা অধিকাংশই ট্রাম্পের সমর্থক। অথচ কিছুদিন আগেই ঢাকঢোল পিটিয়ে সকলকে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে – আশার বাণী শোনানো হয়েছে যে এতে আর্থিক বৃদ্ধি আরও ত্বরাণ্বিত হবে। কিন্তু বিশ্ব বাণিজ্যে এই ঠোকাঠুকির বাতাবরণে সেই বৃদ্ধিও বোধহয় এ যাত্রা ফসকে যায় যায় অবস্থা। সবচেয়ে আশ্চর্য করেছে মার্কিন কংগ্রেস – যার কাছে নাকি আমেরিকান সংবিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে আইন পাশ করার অধিকার ন্যস্ত আছে, অথচ এই কংগ্রেস প্রতিনিধিরাই ট্রাম্পের কাছে পুরো আত্মসমর্পণ করেছেন। অতি সম্প্রতি ৮৮-১১ ভোটে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের এই বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করেছেন অথচ তার সঙ্গে মিনমিন করে এও জুড়ে দিয়েছেন যে এই প্রস্তাব মার্কিন প্রশাসনের জন্য শিরোধার্য নয়! এদিকে এদেশে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনের প্রচার – যেখানে এই ক্ষেপে যাওয়া ভোটারদের টাউন হল মিটিং এ মুখোমুখি হতে হবে রিপাবলিকান নেতাদেরই। যত বেশি দিন এই ঠান্ডা যুদ্ধ গড়াবে, নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তত বাড়বে। প্রখ্যাত পরিসংখ্যানবিদ নেট সিলভারের সাইটে ঠিক এই মুহূর্তে বিভিন্ন ওপিনিয়ন পোলে দেখা যাচ্ছে যে নভেম্বরের আসন্ন কংগ্রেসের ভোটে ডেমোক্র‍্যাট্ররা রিপাবলিকানদের থেকে প্রায় দশ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। বলাই বাহুল্য – একমাত্র ট্রাম্পের কাছেই আছে এই সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। খুব তাড়াতাড়ি এর সুরাহা না হলে নভেম্বরের ভোটে ব্যালট বাক্সে এর প্রভাব পড়তে পারে। আর কে না জানে – একবার ডেমোক্র‍্যাট্ররা কংগ্রেসে ক্ষমতায় ফিরে এলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কিন্তু তাঁর পূর্বসুরী বরাক ওবামার মত ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকতে হবে।  পুণশ্চ: এই লেখা শেষ হওয়ার মুখে খবর পাওয়া গেলো – প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প  জানিয়েছেন যে আমেরিকায় রফতানিকৃত সমস্ত চিনা পণ্যের (প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলার) ওপর তিনি শুল্ক বসাতে তৈরি। এর ফলে শেয়ার মার্কেটে যদি ধস নামে তো নামবে – তাঁর কিছু করার নেই। তিনি দাবি করেছেন বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে তার নেওয়া পদক্ষেপগুলোতে কোনো রাজনীতি নেই – তিনি যা করছেন আমেরিকার ভালোর জন্যই করছেন।

মতামত লেখকের ব্যক্তিগত

ফাইল চিত্র 

লেখক সিলিকন ভ্যালিতে কর্মরত 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More