শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

বিশপ ও ফাদারেরা সন্ন্যাসিনীদের যৌন হেনস্থা করেন, স্বীকার করে নিলেন পোপ ফ্রান্সিস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশপ এবং প্রিস্টরা সন্ন্যাসিনীদের যৌন হেনস্থা করেন, স্বীকার করে নিলেন ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কেন্দ্র ভ্যাটিক্যানের প্রধান, পোপ ফ্রান্সিস নিজে! মঙ্গলবার তাঁর এই স্বীকারোক্তির পরেই তোলপাড় হয়ে গিয়েছে ক্যাথলিক মহল তথা সারা বিশ্ব।

পোপ ফ্রান্সিস আরব সফরে ছিলেন। সেখানেই এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন বিশপদের কাছে সন্ন্যাসিনীদের হেনস্থা হওয়ার অভিযোগ নিয়ে। পোপ উত্তর দেন, “কিছু প্রিস্ট এবং বিশপ তো আছেনই, যাঁরা এমন করেছেন।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ভ্যাটিক্যানের একটি নারীবাদী মহিলা পত্রিকার বিশেষ সংখ্যার বিষয় ছিল, বিশপদের হাতে সন্ন্যাসিনীদের ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বিশপেরা সন্ন্যাসিনীদের ধর্ষণ করেন, তার পরে তাঁদের জোর করে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। আর তা না হলে অচেনা-অজানা শিশু হিসেবে সন্তানদের বড় করতে হয়,  পিতৃপরিচয় গোপন রেখে।

গত বছর জুন মাসে কেরলের এক সন্ন্যাসিনীকে একাধিক বার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে জলন্ধরের এক বিশপের বিরুদ্ধে। ওই সন্ন্যাসিনী মুখ খোলার পরে তোলপাড় পড়ে যায়। তবে অসংখ্য জেরার শেষে গ্রেফতার করার পরেও মুক্তি পান অভিযুক্ত বিশপ, ফাদার ফ্র্যাঙ্কো। এমনকী তিনি জামিন পাওযার পরে তাঁকে ফুলমালা দিয়ে বরণ করেন তাঁর অনুগামীরা। অন্য দিকে ফাদারের বিরুদ্ধে প্রধান সাক্ষী হিসেবে যিনি মুখ খুলেছিলেন, সেই বিশপের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়।

এই ঘটনাটি ভ্যাটিক্যান অবধি গড়িয়েছিল। ভ্যাটিক্যানের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিচারের আবেদন করেছিলেন অভিযোগকারিণী সন্ন্যাসিনী। তার পরে পোপ ফ্রান্সিসের নির্দেশে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন অভিযুক্ত ফ্র্যাঙ্কো।

পোপ ফ্রান্সিস মঙ্গলবার জানান, এই সমস্যা যে কোনও জায়গাতেই রয়েছে। কিন্তু কোনও কোনও জায়গায় যেন এর তীব্রতা একটু বেশিই। “কিন্তু একই সঙ্গে আমার মনে হয়, এটা হতেই থাকবে, কারণ এটা এমন একটা বিষয়, যেটা এরকম আপনাআপনিই মিলিয়ে যাওয়ার জিনিস নয়।”– বলেন পোপ ফ্রান্সিস।

তিনি আরও জানান, এই বিষয়টা নিয়ে ভ্যাটিক্যান দীর্ঘ দিন ধরেই কাজ করছে। বিভিন্ন অভিযোগে অনেককে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি শুনতে চাই না, যে চার্চ নিজের সমস্যার কথা স্বীকার করে না।” ফ্রান্সিস মেনে নেন, “এগুলো কিন্তু বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, নারীজাতিকে নিচু চোখে দেখারই ফল এগুলো।”

১৯৯০ সাল থেকে ভ্যাটিক্যানের কাছে প্রথম খবর আসতে শুরু করে আফ্রিকা থেকে। অভিযোগ, সন্ন্যাসিনীদের যৌন হেনস্থা করছেন ফাদার ও বিশপেরা। তার পরে থেকেই চলছে একই ধারা। ‘উইমেন চার্চ ওয়ার্ল্ড’ পত্রিকার ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় এ বিষয়ে লেখা হয়, বিতাড়িত হওয়ার ভয়ে দশকের পর দশক ধরে চুপ করে এই হেনস্থা সহ্য করে চলেছেন সন্ন্যাসিনীরা।

পত্রিকার সম্পাদক লুসেটা স্কারাফিয়া লেখেন, “যদি এই গুরুতর ব্যাপারে চার্চ চোখ বুজে থাকে, তা হলে সেটা খুবই খারাপ একটা বার্তা দেয়। মনে করা হয়, চার্চ এই হেনস্থা এবং ঢালাও গর্ভপাত মেনে নিচ্ছে। সব চেয়ে মুশকিল হয় সেই বাচ্চাদের যারা বাধ্য হয়ে ‘অনাথ’ হিসেবে বড় হচ্ছে। এ সব দেখলে মনে হয় মহিলাদের উপর চার্চের অত্যাচার কোনও দিন বদলাবে না।”

তবে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য অভিযোগ এত দিন থাকলেও, ভ্যাটিক্যানের তরফে তা কখনওই এমন প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়নি। পোপ ফ্রান্সিস যেমন বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ছক ভাঙেন, এ ক্ষেত্রেও তেমনই বড় ব্যতিক্রমের পরিচয় দিলেনষ সত্যিটা সর্বসমক্ষে স্বীকার করে নিলেন।

Shares

Comments are closed.