বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

জনস্বাস্থ্যের নিরিখে জারি জরুরি অবস্থা, দিল্লিকে গ্যাস চেম্বার বললেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে জরুরি অবস্থা জারি হল, তবে রাজনৈতিক কারণে নয়, জনস্বাস্থ্যের কারণে।  সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনেই তা করেছে পরিবেশ কর্তৃপক্ষ।  ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ মাস্ক বিলি করার সময় দিল্লিকে গ্যাস চেম্বারের সঙ্গে তুলনা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

দীপাবলির পর থেকে ক্রমেই বাড়ছে দিল্লির দূষণের মাত্রা, এখন তা উদ্বেগজনক অবস্থাও ছাড়িয়ে গেছে।  এখন দিল্লির দূষণের মাত্রা ‘সিভিয়ার প্লাস’ বা ’ইমার্জেন্সি’ শ্রেণিতে পড়ছে।  তাই আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লিতে কোনও রকম নির্মাণকাজ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে এনভায়রনমেন্ট পলিউশন (প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল) অথরিটি।  শীতকালে দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকায় বাজি ফাটানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর এই অবস্থার জন্য প্রতিবেশী পঞ্জাব ও হরিয়ানাকে দুষেছেন কেজরিওয়াল।  তিনি মনে করেন প্রতিবেশী দুই রাজ্যে বছরের এই সময় নাড়া পোড়ান কৃষকরা।  তার জন্যই ধোঁয়ায় ভরে যায় দিল্লি।  দূষণের মাত্রা একটাই বেড়ে গেছে যে প্রাতঃভ্রমণকারীদের পর্যন্ত সকালে মাস্ক পরে হাঁটতে বেরতে হচ্ছে।

প্রতেবেশী রাজ্যের ঘাড়ে মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল যে দোষ চাপিয়েছেন, তার প্রতিবাদ করেছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর।  তিনি বলেছেন,  অন্য রাজ্যের উপরে বা অন্য শহরের উপরে দোষ চাপিয়ে দিয়ে দূষণের মাত্রা কমবে না।  তাঁর কথায়,  “পঞ্জাব ও হরিয়ানার উপরে দোষ না চাপিয়ে আমাদের তাঁর উচিত মোদীজি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) যে পাঁচ রাজ্যে (দিল্লির নিকটবর্তী পাঁচ রাজ্যে) দূষণ সৃষ্টিকারী কারখানার সংখ্যা কমাতে বলেছেন, সে বিষয়ে তাঁর চিন্তা করা উচিত।”

এক আধিকারিক বলেছেন, দূষণের মাত্রা ‘সিভিয়ার প্লাস’ হলে তখনই বেশ কযেকটি পদক্ষেপ করতে হয়, এর মধ্যে রয়েছে একজিন জোড় ও পরের দিন বিজোড় সংখ্যার নাম্বার প্লেটের গাড়ি চালানো, ট্রাক ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া, নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া ও স্কুল বন্ধ করে দেওয়া।

এর আগে দিল্লিতে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন অসুস্থ বোধ করেন শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ক্রিকেটার। তাঁরা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান।  সামনেই অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ভারত-বালংলাদেশ টি-২০ ম্যাচ।  সেই ম্যাচের আগেও দূষণ নিয়ে চিন্তায় আয়োজকরা।

রোটেশনের নিয়ম মেনেই ম্যাচ পেয়েছে দিল্লি, কিন্তু দূষণের এমন মাত্রাছাড়া অবস্থায় ম্যাচের ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ক্রীড়ামহলে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯-এ প্রকাশিত গল্প: প্রতিফলন

http://www.thewall.in/pujomagazine2019/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%b2%e0%a6%a8/

Comments are closed.