সোমবার, নভেম্বর ১৮

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা থেকেই কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন: সঞ্জয় রাউত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষ পর্যন্ত এনসিপি-কংগ্রেসের সমর্থন নিয়েই সরকার গড়ছে মহারাষ্ট্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল শিবেসেনা? দলের নেতা সঞ্জয রাউতের মন্তব্য সেই জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে।  তিনি বলেছেন, সরকার গড়া নিয়ে বিজেপির সঙ্গে তাঁদের কোনও কথা হয়নি।  যদি শিবসেনা মনে করে তা হলে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা তারা জোগাড় করে ফেলবে।

সাংবাদিকদের কাছে এ দিনও তিনি দাবি করেন যে মহারাষ্ট্রে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শিবসেনার থেকেই।

মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি নিয়ে আজ কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার কথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বালাসাহেব থোরাট, ও প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী অশোক চহ্বান এবং পৃথ্বিরাজ চহ্বানের। এ জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই দিল্লিতে পৌঁছেছেন তাঁরা।

মহারাষ্ট্রে ২৮৮ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ১০৫টি আসনে। শিবসেনা ৫৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। কংগ্রেস-এনসিপি জোট পেয়েছে ৯৮টি আসন।

বিজেপির সরকার গঠনের চেষ্টা রুখে দিতে এমন চেষ্টার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করলে ক্ষমতাসীন দল বা জোটের কাছে ১৪৫ জন বিধায়কের সমর্থন দরকার। শিবসেনাকে বাইরে থেকে কংগ্রেস এনসিপি সমর্থন জানালে মোট ১৫৪ জন বিধায়কের সমর্থন থাকবে তাঁদের সঙ্গে। এ ছাড়া আরও ৬ জন নির্দল বিধায়কের সমর্থন জুটিয়ে ফেলেছে শিবসেনা।

অনেকের মতে, গতকাল শরদ পওয়ারের সঙ্গে সঞ্জয় রাউতের বৈঠকে অবধারিত ভাবেই এই সব সাত সতেরো অঙ্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার পর পওয়ারের ইঙ্গিত পেয়েই দিল্লিতে সনিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন পৃথ্বীরাজ চহ্বানরা।

মহারাষ্ট্রে ভোটের ফল প্রকাশের পরেই শরদ পওয়ারের এনসিপি জানিয়ে দেয় যে, তারা কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধী আসনেই বসবে। ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। তখন শিবসেনাও জানিয়ে দিয়েছিল যে তারা বিজেপির সঙ্গেই সরকার গড়বে। কিন্তু মহারাষ্ট্রে একক ভাবে সরকার গড়ার ক্ষমতা নেই বিজেপির, এই বিষয়টি স্পষ্ট হতেই দর কষাকষি শুরু করে দেয় শিবসেনা। তারা জানিয়ে দেয়, মুখ্যমন্ত্রীর আসনটি তাদের চাই।

বিজেপির তুলনায় অর্ধেক আসন পেলেও শিবসেনা দাবি করেছে, লিখিত ভাবে বিজেপিকে জানাতে হবে, অর্ধেক মেয়াদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবে শিবসেনার কেউ। তাদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকেরও ৫০ শতাংশ তাদের চাই। বিজেপি জানিয়ে দেয়, কোনও ভাবেই তারা মুখ্যমন্ত্রীর আসন ছেড়ে দেবে না ছোট শরিক শিবসেনাকে।

তবে এরই মধ্যে শরদ পওয়ার জানিয়ে দেন যে শিবসেনা কোনও অন্যায্য দাবি করছে না। তারপর থেকেই নানা ধরনের জল্পনা শুরু হয়েছে।

কর্নাটকে সবচেয়ে বড় দল হয়েও মাত্র কয়েক দিনের জন্য সরকার গড়়ে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশেও তারা সরকার গড়তে পারেনি। এবার যদি মহারাষ্ট্রেও তা হয়, তা হলে বিজেপি আরও একবার হতাশ হবে। কারণ মহাারাষ্ট্রেও বিজেপিই সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। অনেকে মনে করছেন, মারাঠা মুলুকে গত পাঁচ বছর বিজেপি যে বিগ ব্রাদার আচরণ করেছে, তারই খেসারত দিতে হচ্ছে এখন।

পড়ুন দ্য ওয়ালের পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯-এ প্রকাশিত গল্পপ্রতিফলন

http://www.thewall.in/pujomagazine2019/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%b2%e0%a6%a8/

Comments are closed.