হরিয়ানায় ত্রিশঙ্কু হচ্ছে বিধানসভা, সরকার গড়ার চাবিকাঠি দুষ্মন্ত ও নির্দলদের হাতে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    সুমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    ত্রিশঙ্কু ফল হল ৯০ আসনের হরিয়ানা বিধানসভার।  লোকসভা ভোটে রাজ্যের দশটি আসনের মধ্যে দশটিতেই জিতে প্রত্যয়ী বিজেপি জানিয়ে দিয়েছিল, এ রাজ্যে এবার ৭৫টি আসন নিয়ে তারাই পরবর্তী সরকার গঠন করবে।  ভোট গণনা শুরু হওয়ার পরে গতিপ্রকৃতিও তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছিল।  কিন্তু বেলা গড়াতেই ছবি বদলাতে শুরু করে।  ত্রিশঙ্কু হওয়ার দিকে এগোতে থাকে বিধানসভা।

    ২০১৪ সালে ৪ থেকে এক লাফে ৪৭টি আসন পেয়ে পর পর দু’বারের কংগ্রেস সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি।  ৪০ থেকে ২৫-এ নেমে যায় কংগ্রেস।  তখন মোদী-হাওয়া তীব্র।  ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও রাজ্যের সবক’টি লোকসভা আসন পেয়ে বিরোধীদের ধর্তব্যের মধ্যে আনেনি বিজেপি।  প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের অবস্থা ছিল ছন্নছাড়া।  হরিয়ানায় প্রচারে যাবেন বলেও যাননি কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী।  প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী যেন থেকেও নেই।  তাঁর আক্রমণেও তেমন ঝাঁঝ ছিল না।  যেটুকু আক্রমণ তিনি করেছেন, তাকে পাত্তা দেয়নি শাসকদল।

    বিজেপির হয়ে হরিয়ানায় প্রচারে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে।  সেখানে গিয়ে বলেছেন সেনাদের জন্য তাঁর সরকার কী করেছে।  তুলেছেন কাশ্মীর প্রসঙ্গ।  কারণ হরিয়ানায় অনেকেই সেনাবাহিনীতে কর্মরত।  এহেন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের হয়ে একাই হাল ধরেন গতবার মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারানো কংগ্রেসের ভূপিন্দর সিং হুডা।  হরিয়ানায় বিজেপি বিরোধী রাজনীতিতে যে নেতার দাপট ও গ্রহণযোগ্যতা সব থেকে বেশি।  প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে প্রচার কৌশল নির্ধারণের জন্য সনিয়াও তাই তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছিলেন।

    ভোটগ্রহণ পর্ব মেটার পরে সবক’টি বুথফেরত সমীক্ষার ফলই জানিয়ে দেয়, বিপুল ভাবে ক্ষমতায় ফিরছে বিজেপি।  যদিও পরের দিন একটিমাত্র সমীক্ষা জানায়, হরিয়ানায় ত্রিশঙ্কু বিধানসভা গঠনের পথে।

    সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় আসন না থাকলেও বিজেপি মাঝপথেই জানিয়ে দেয় যে দুই রাজ্যেই (মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা) সরকার গড়ছে তারা।  হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন অমিত শাহ।  এখনও পর্যন্ত যা অবস্থা তাতে দুষ্মন্ত চৌটালা জননায়ক জনতা পার্টি (জেজেপি) এবং নির্দলদের হাতেই থাকছে সরকার গড়ার চাবিকাঠি।

    জেজেপি নেতা দুষ্মন্ত চৌটালা এখনই অবস্থান স্পষ্ট করতে রাজি নন।  তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার দলের সদ্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে তিনি বৈঠক করবেন।  গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে সেখানে নেতা নির্বাচন করা হবে।  দলের ইস্তাহারে যা বলা হয়েছিল, যে দল তা মেনে নেবে, হরিয়ানার মানুষের কথা ভেবে সেই দলকেই তাঁরা সমর্থন করবেন সরকার গড়ার জন্য।

    তবে চৌটালার সামনেও এখন অগ্নিপরীক্ষা।  ‘জাঠ বিরোধী’ বিজেপি-র হাত ধরবেন, নাকি হুডার হাত? যে হুডা তাঁর দাদু ওমপ্রকাশ চৌটালাকে গ্রেফতার করেছিলেন।

    মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর

    এ দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কখনও কখনও বিজেপির সঙ্গে সমান আসনে এগিয়ে থেকেছে কংগ্রেস, বিজেপিকে ছাপিয়েও গেছে অপ্রত্যাশিত ভাবে।  যদিও দিনের শেষে কিছুটা হলেও এগিয়ে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে বিজেপিই।

    ভোটের আগে এই রাজ্যে কোনও দলই জোট করে লড়াই করেনি।  তাই সরকার গড়ার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে মনোহরলাল খট্টরকে ডেকে তাঁকে সময় দিতে পারেন রাজ্যপাল।  তবে এ বার তার আগে পাটিগণিতের হিসাব মিলিয়ে রাখতে চাইবে বিজেপির যাতে কর্নাটকের মতো তাদের মুখ না পোড়ে।

    হরিয়ানার ফলাফলে দু’টো ব্যাপার স্পষ্ট হয়ে গেছে।  কংগ্রেসের ক্ষেত্রে: সোনিয়া-রাহুল-প্রিয়াঙ্কার উপরে নয়, তাদের এখন ভরসা করতে হবে স্থানীয় নেতাদের উপরে।  বিজেপির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্যরকম: মোদী ম্যাজিকে তেমন কাজ হচ্ছে না, তাই তাঁদেরও ভরসা করতে হবে স্থানীয় নেতাদের উপরেই, তবে প্রচারের ক্ষেত্রে এখনও মোদীকে তাদের লাগবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More