মহারাষ্ট্র-হরিয়ানা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঝাড়খণ্ডে ‘লোকাল’ থাকতে পারে বিজেপি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছরের প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়াকে ধামাচাপা দিতে জাতীয়তাবাদের কড়া দাওয়াই দিতে চেয়েছিল বিজেপি।  কিন্তু মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানা দেখিয়ে দিয়েছে, ৩৭০ ধারা বিলোপ ও কাশ্মীর দেখিয়ে রাজ্যের ভোটে জেতা মুশকিল।  দুই রাজ্যেই আসন কমেছে বিজেপির।  ঝাড়খণ্ডেও এখন তাদের সরকার।  তাই এই রাজ্যের ভোট নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু করেছে বিজেপি।

এ মাসের ৩০ নভেম্বর শুরু হচ্ছে পাঁচ দফা ভোটগ্রহণের প্রথম দফা।  শেষ দফায় ভোটগ্রহণ হবে ২০ ডিসেম্বর।  ফল প্রকাশ ২৩ ডিসেম্বর।

হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের ভোটের আগে অনেকেই মনে করেছিলেন, কার্যত ওয়াকওভার পেতে চলেছে বিজেপি।  বিজেপি নিজেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল।  তাই বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা প্রচার করেছে জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ (এনআরসি), সংবিধান থেকে অস্থায়ী ৩৭০ ধারা বিলোপ, অনুপ্রবেশ সমস্যা এমনকি এক পদ এক পেনশন নীতি কার্যকর করা নিয়েও।  ঝাড়খণ্ডে তারা তা করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

ঝাড়খণ্ডে প্রতিটি কেন্দ্র ধরে প্রচার করার নীতি নিতে চলেছে বিজেপি।  প্রতিটি কেন্দ্রে কী সমস্যা রয়েছে, সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে কে প্রার্থী হয়েছেন, সেই প্রার্থী কেমন – এসব নিয়েই তারা প্রচার করবে বলে শোনা যাচ্ছে।  মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার মতো এই দুই রাজ্যেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া।  এখানেও ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি।

ঝাড়খণ্ডে বিজেপির বড় সমস্যা হল আদিবাসী সমস্যায় গুরুত্ব না দেওয়া।  অভিযোগ, আদিবাসীদের সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরেই পাত্তা দিচ্ছিলেন না বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস।  তিনি নিজে আদিবাসী নন, তাই আদিবাসীদের আন্দোলনের বিরোধিতাই করেছেন।  আদিবাসীদের আন্দোলন ভোঁতা করে দিতে ছোটনাগপুর টেনান্সি অ্যাক্ট এবং সাঁওতাল টেনান্সি অ্যাক্ট বদল করতে চেয়েছিলেন।  তাতে আদিবাসীরা তাঁর উপর ক্ষুব্ধ।  নিজে আদিবাসী হলেও, ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন মুণ্ডাও তাল মিলিয়ে ছিলেন রঘুবর দাসের সঙ্গে।  এবার প্রচারে অবশ্য অর্জুন মুণ্ডাকে বেশি করে কাজে লাগিয়ে আদিবাসী ভোট টানার চেষ্টা করছে বিজেপি।

প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল রেজি ডুংডুংকে দলে নিতে তৎপর বিজেপি। আদিবাসী হওয়ায় তিনি ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চায় যোগ দেওয়ার কথা ভাবছিলেন, না  হলে নিদেনপক্ষে কংগ্রেস।  তবে বিজেপি তাঁকে দলে চাইছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রঘুবর দাসের বিরুদ্ধে তেমন কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই, যদিও তাঁর দল বিজেপিরই এক সদস্য অভিযোগ তুলেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রীকে আট শতাংশ কমিশন না দিলে কোনও টেন্ডারই পাস হয় না।  তা সত্ত্বেও রঘুবর দাসকেই প্রচারে সামনে রাখতে পারে বিজেপি।

ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম), কংগ্রেস ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) জোট গড়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।  এই জোটে সামিল হতে পারে বাম দলগুলিও।  হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে বিজেপির অবস্থা দেখে এখন বিরোধীরাও ফাঁকা মাঠ ছাড়বে না বিজেপিকে।  কংগ্রেসও তেড়েফুঁড়ে প্রচারে নামতে পারে এই রাজ্যে।

প্রতিটি বিষয় মাথায় রেখেই এখন ভোটের কৌশল ঠিক করতে হচ্ছে বিজেপিকে।

ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় ৮২টি আসন, ভোট হবে ৮১টি আসনে।  সরকার গড়ার জন্য চাই ৪২টি আসন।  ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই রাজ্যে ৪৩টি আসন পেয়েছিল বিজেপি ও তার জোটসঙ্গীরা।  প্রধান বিরোধী ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা পেয়েছিল ১৯টি আসন।  কংগ্রেস পেয়েছিল ৬টি আসন।   ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা ৮টি আসন পেলেও পরে ৬ জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More