মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

সেনাবাহিনী অরাজনৈতিক, প্রচারে সেনার ছবি ব্যবহার করা চলবে না, জানাল নির্বাচন কমিশন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সেনাবাহিনী একটি অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ বাহিনী, যা আধুনিক গণতন্ত্রের একটি অঙ্গ। কোনও রাজনৈতিক দল প্রচারে সেনাবাহিনীর ছবি ব্যবহার করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকা পৌঁছে গেছে সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয়েই।

সম্প্রতি দিল্লির কিছু জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের সঙ্গে বায়ুসেনা অফিসার অভিনন্দন বর্তমানের ছবি দিয়ে হোর্ডিং টাঙানো হয়েছিল। হোর্ডিংয়ে অভিনন্দন ও দুই বিজেপি নেতার ওই ছবির সঙ্গে স্লোগান মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়, যা বিজেপি-র নির্বাচনী স্লোগান।

পুলওয়ামা-কাণ্ডের পরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। তারই মধ্যে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিমান ভেঙে পাকিস্তানে ধরা পড়েন বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন। পাক সেনারা তাঁর উপর অত্যাচার করলেও দুদিনের মধ্যেই তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে দেয় ইসলামাবাদ। বিজেপি-র দাবি, অভিনন্দনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্যই। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানী একটি টুইটও করেন। যদিও পাকিস্তান জেনিভা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে আন্তর্জাতিক চাপ পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উপর ছিলই।

নির্বাচন কমিশন নোটিসে আগের একটি চিঠিকে উদ্ধৃত করেছে। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বরের সেই চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে সেনাবাহিনী দেশের সীমান্ত রক্ষার অভিভাবক। বাহিনী দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থারও অভিভাবক। তারা আধুনিক গণতন্ত্রের অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ একটি অঙ্গ। অতএব, সেনাবাহিনীর কোনও উল্লেখ রাজনৈতিক প্রচারের কাজে করতে হলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তা করতে হবে।

এই নোটিসটিকে উদ্ধৃত করে শনিবার কমিশন বলেছে, সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রার্থীদের এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রচারের জন্য কোন সেনা অফিসারের ছবি, বা বাহিনীর কোনও অনুষ্ঠানের ছবিকে ব্যবহার করা চলবে না।

Shares

Comments are closed.