রবিবার, মার্চ ২৪

পুলিশ-পশুপ্রেমী ধস্তাধস্তি, লাঠির বাড়ি ও ধাক্কাধাক্কিতে আহত অনেকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা এন আর এস নার্সিং ট্রেনিং হস্টেলে কুকুরছানা পিটিয়ে মারার ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার পশুপ্রেমীদের জমায়েতে পুলিশের বিরুদ্ধে বেধড়ক লাঠি চালানোর অভিযোগ উঠল।  জমায়েতকারীদের অভিযোগ, পুলিশের লাঠি এবং ধাক্কাধাক্কিতে অনেকেরই কোমর ও কাঁধে গুরুতর চোট লেগেছে।  পুলিশ অবশ্য লাঠি চালিয়ে আহত করার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।  তাদের বক্তব্য বিষয়টিতে অযথা রঙ চড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন #Breaking: সেই এনআরএস হাসপাতালেই পাঁচ বছরের শিশুর মাংস খুবলে নিল কুকুর

সল্টলেকের করুণাময়ীতে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জমায়েতের পর প্রতিবাদীরা পৌঁছন স্বাস্থ্যভবনের সামনে।  কয়েকশো পশুপ্রেমীর মধ্যে থেকে কয়েকজন স্বাস্থ্যভবনের ভিতরে  গিয়ে কথা বলেন স্বাস্থ্য কাউন্সিলের প্রধান অজয় চক্রবর্তীর সঙ্গে।  পশুপ্রেমীদের মধ্যে অভিনেতা তথাগত মুখার্জি এবং দেবলীনা দত্ত মুখার্জীও ছিলেন।  তথাগত বলছেন, অজয় চক্রবর্তীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল আইন অনুযায়ী যাদের জামিনে ছাড়া হয়েছে, নির্দোষ প্রমাণিত হয়নি, তারা কীকরে সরকারি জায়গায় ক্লাস করছেন? অজয়বাবু তাঁদের বলেছেন ঘটনার ‘ম্যাগনেচিউড’ বুঝে এর ব্যবস্থা করা হবে।  জামিনের ঘটনার পরে এন আর এস থেকে চিঠি দিয়ে কাউন্সিলকে সবটাই জানানো হয়েছে।  তারপরেও ৭-৮ দিন কেটে গেছে, আর কতদিন লাগবে এই প্রশ্নে অজয়বাবু সন্ধ্যায় জমায়েতে উপস্থিত তথাগত এবং বাকিদের বলেন আরও এক দুদিন লাগবে।

এরপরে জমায়েত থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যতক্ষণ না এবিষয়ে সঠিক তথ্য জানানো হবে তাঁরা স্বাস্থ্যভবনের সামনেই থাকবেন।  আইন অনুযায়ী ২৩ তারিখ অবধি স্বাস্থ্যভবন এলাকায় ১৪৪ ধারা চলছে, একথা মাথায় রেখেই প্রতিবাদীরা রাস্তার একপাশে জমা হয়ে অপেক্ষায় ছিলেন।  পুলিশ বারবারই তথাগত এবং দেবলীনাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলে।  তাঁরা জানিয়ে দেন তাঁদের প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব না পেলে তাঁরা সেখান থেকে নড়বেন না।  পরে পুলিশের অনুরোধ উপরোধে তাঁরা ঠিক করেন ভোরের দিকে তাঁরা চলে যাবেন।  পুলিশ যখন জানতে পারে ভোরে প্রতিবাদীরা চলে যাবেন সেখান থেকে, তখন প্রস্তাব দেওয়া হয় যারা যারা দূর থেকে এসেছে তখনই তাদের পুলিশভ্যানে তুলে শিয়ালদা বা হাওড়ায় ছেড়ে দেওয়া হবে।  রাতের কথা ভেবেই মহিলারা রাজি হননি এই প্রস্তাবে।  গান, স্লোগান চলতেই থাকে।  প্রতিবাদীদেরই একজন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাত ১টা নাগাদ অশ্রাব্য গালিগালাজ শুরু করে পুলিশকর্মীদের একাংশ।  অনেককে চড় থাপ্পরও মারা হয়।  এমনকি মহিলা কন্স্টেবল থাকা সত্ত্বেও তারা না এসে উর্দিধারী পুরুষ পুলিশরা মহিলাদের পাঁজাকোলা করে নর্দমায় ফেলে দেয়।  ঘটনায় প্রান্তিক, রুপাঞ্জনা, কোয়েলের মতো একনিষ্ঠ পশুপ্রেমীরা গুরুতর আহত হয়েছেন।  উত্তেজনা যখন চরমে পৌঁছয় তখন দেবলীনা বিধাননগর ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্সের ওসির অনুরোধেই মহিলা প্রতিবাদীদের শান্ত করতে এগোলে তাঁকেও এক মহিলা কন্স্টেবল ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।  আপাতত দেবলীনা হাতে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে বাড়িতে, তাঁর হেয়ার লাইন ক্র্যাক ধরা পড়েছে।  প্রান্তিক , রুপাঞ্জনা , কোয়েলের মতো যাঁরা আহত তাঁদেরও মঙ্গলবার শেষরাতেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  এঁদের অভিযোগ, বিচার চাইতে এসে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হলেন কেন তাঁরা?

এই প্রশ্ন যখন করা হল ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানার ওসি নির্মল মাঝিকে, প্রথমে তিনি জানান “প্রতিবাদীরাই নানা অঙ্গভঙ্গী করেছে।  পুলিশ কিছু করেনি”।  তবে কি মারধোর বা চোট লাগার সব অভিযোগ মিথ্যে ? নির্মলবাবু জানান “এবিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।  তবে পুরো ঘটনার সময়েই আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম!” পুলিশের বক্তব্য, জমায়েতের উপর লাঠি চালানোই যদি তাদের উদ্দেশ্য হত, তাহলে রাত ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হত না।  প্রতিবাদীরা রাতে ড্রাম বাজানোয় এবং মহিলা কন্স্টেবলদের উদ্দেশে খারাপ কথাবার্তা বলায় যেটুকু ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের পর্ব চলছে।  প্রতিবাদীরা বলছেন কালকের ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকেই, তাই তাদের সেরে ওঠার অপেক্ষা শুধু।  আন্দোলন কখনওই থামবে না।  তাঁরা শুধু চান দোষীদের শাস্তি।  এই ঘটনায় আগামীদিনে তাঁদের আন্দোলন আরও অনেক জোরদার হবে বলে জানিয়ে রাখছেন তাঁরা।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন  

Shares

Comments are closed.