কড়া হাতে লকডাউন সামলাবে পুলিশ, তাদের নিরাপত্তা নিয়েও ফাঁক রাখছে না নবান্ন

কেউ সরকারি আদেশ ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই লকডাউন হয়ে যেতে বসেছে গোটা রাজ্য। যদিও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই লকডাউন ঘোষণা হওয়ার আগেই কয়েক দিন ধরেই মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে সব মহল থেকে। কিন্তু তার পরেও বহু মানুষের গা-ছাড়া মনোভাব বারবারই সামনে এসেছে। এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও পুলিশি অ্যাকশন শুরু না হলেও, জানা গেছে, আজ বিকেল ৫টা থেকে ‘অফিসিয়াল’ লকডাউন শুরু হতেই পুলিশ দায়িত্ব নেবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই দেশের সব রাজ্যের কাছেই বার্তা দিয়েছেন, লকডাউন ভাঙলে কড়া অবস্থান নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনকেই কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এই রাজ্যে সেই কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন। বলা হয়েছে লকডাউন ভাঙলে বা কেউ কোয়ারেন্টাইনে যেতে না চাইলে, প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হবে। নবান্নের তরফে নির্দেশিকা দিয়ে স্পষ্ট বলা হয়, মহামারী নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ীই কিছু পরিষেবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। কেউ সরকারি এই আদেশ ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    এই অবস্থায় পরিস্থিতি কড়া হাতে দমন করার প্রস্তুতি নিয়েই পথে নামতে চলেছে পুলিশ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশের নিরাপত্তা কী হবে এই সময়ে? জানা গেছে, প্রতিটি পুলিশের নিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য দু’লক্ষ কিট কিনেছে রাজ্য সরকার। প্রতিটি কিটে থাকছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-অনুমোদিত মাস্ক, গ্লাভস ও স্যানিটাইজার। ৭০০ টাকা করে দাম এই প্রতিটি কিটের। এই জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথাও আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও ভাবেই কোনও আপস করা যাবে না বলেই জানা গিয়েছে সরকারি তরফে।

    পুলিশর মধ্যে আলাদা করে সচেতনতা প্রচারও করা হয়েছে। তাঁরা কতটা দূর থেকে কথা বলবেন, নিজেদের জন্য কী কী নিরাপত্তা অবলম্বন করবেন, কীভাবে বিশেষ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা দেবেন, কীভাবেই বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দেবেন– এই সবটা নিয়েই সচেতন ও প্রশিক্ষিত করা হয়েছে পুলিশকর্মীদের।

    ২৭ তারিখ মধ্যরাত পর্যন্ত এই লকডাউন ঘোষিত হয়েছে। জানা গেছে, পুলিশি প্রহরায় গোটা সময়টা জুড়ে কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে লকডাউন। কিন্তু প্রশাসনের একটি সূত্রের মতে, আদতে অন্যান্য রাজ্যের মতোই এ রাজ্যেও ৩১ মার্চ পর্যন্তই লকডাউন চলবে, তবে পরবর্তী চার দিনের নোটিস ২৭ তারিখের পরে ঘোষণা করা হবে। এর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, একসঙ্গে বেশি দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করলে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা তৈরি হতে পারে। কেনাকাটা করে জিনিস মজুত করার ধুম পড়ে যেতে পারে। তাই ধীরে ধীরে, দফায় দফায় মানুষকে লকডাউনের সঙ্গে অভ্যস্ত করানোর চেষ্টা করছে সরকার।

    শুধু তাই নয়, আজ সোমবার যে লকডাউন শুরু হবে, সেটাও বিকেল পাঁচটা থেকে এই কারণেই শুরু করার কথা বলা হয়েছে, যাতে একটা গোটা বেলা রাজ্যবাসী প্রস্তুতির সময় পান। যাঁদের খুব জরুরি প্রয়োজন তাঁরা যাতে কাজ সেরে নিতে পারেন, যাঁদের খুব বেশি আগে থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা সম্ভব হয়নি, তাঁরা যাতে একটু গুছিয়ে নিতে পারেন। গ্রামীণ এলাকাতেও স্কুলপড়ুয়াদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ যাতে যতটা সম্ভব সেরে ফেলা যেতে পারে, সেটাও দেখার বিষয়।

    এর পরে পুরোটাই প্রশাসন ও আইনের হাতে চলে যাবে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করার জন্য প্রযোজ্য হবে ধারা ১৮৮। জামিন অযোগ্য ২৬৯ ধারা কোনও সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর বিরুদ্ধে। এই ধারায় কমপক্ষে ছ’মাসের জেল ও জরিমানা হতে পারে। জামিন অযোগ্য ২৭০ ধারা জীবনের পক্ষে বিপজ্জনক এমন সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর বিরুদ্ধে। এতে দু’বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। জরিমানা তো আছেই। এছাড়া রয়েছে আইপিসি ২৭১। কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভাঙলে এই আইন প্রযোজ্য। এতে কমপক্ষে ছ’মাসের জেল হতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More