শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

অধিকৃত কাশ্মীর আর আকসাই চিনও ভারতের অংশ, লোকসভায় বললেন অমিত

দ্য ওয়াল ব্যুরো : জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই অংশ। তার মধ্যে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও আকসাই চিনও পড়ে। মঙ্গলবার লোকসভায় বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জম্মু-কাশ্মীরের জন্য মরতেও রাজি। সোমবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ করার জন্য রাজ্যসভায় প্রস্তাব দেন। সেই সঙ্গে ওই রাজ্যটিকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার জন্য বিল পেশ করেন।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যসভায় বলেন, কাশ্মীর নিয়ে আমরা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিইনি। সংসদ সারা দেশের জন্যই আইন করতে পারে। ভারত ও জম্মু-কাশ্মীরের সংবিধান, উভয়েই সংসদকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে।

এর পরে অমিত বলেন, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। একটা ব্যাপার স্পষ্ট করে দিতে চাই, যখনই আমি জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বলি, তখন পাক অধিকৃত কাশ্মীর (গিলগিট-বালটিস্তান সহ) এবং আকসাই চিনের কথাও বোঝাতে চাই। এ সম্পর্কে যেন কোনও দ্বিধা না থাকে। পুরো জম্মু-কাশ্মীরই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরির মন্তব্যের জবাবে অমিত শাহ ওই মন্তব্য করেন। অধীরবাবু বলেন, সরকার বিধি না মেনে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বানাতে চাইছে। কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলে তিনি মন্তব্য করেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা থাকবে কিনা, তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়।

তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, আমার মনে হয় না, আপনি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কথা বোঝাতে চাইছেন। আপনারা বিধি ভেঙে একটি রাজ্যকে রাতারাতি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বানিয়ে দিচ্ছেন। ওই মন্তব্য করার সময় তাঁর পাশেই ছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী।

অধীরবাবু বলেন, আমি একটা কথা জানতে চাই। আপনি বলছেন, এটা অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু ১৯৪৮ সাল থেকে রাষ্ট্রপুঞ্জ কাশ্মীর সীমান্তে নজর রাখে। একে কি অভ্যন্তরীণ বিষয় বলা যায়?

সিমলা চুক্তি ও লাহোর ঘোষণার কথা তুলে তিনি বলেন, কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েকটি চুক্তি হয়েছে। এর পরেও কি কাশ্মীরকে অভ্যন্তরীণ বিষয় বলা যায়?

অধীরবাবু এদিন অমিত শাহকে কটাক্ষ করে বলেন, আপনি আমার প্রশ্নের জবাব দিলে আমি অনেক কিছু জানতে পারব। পুরো কংগ্রেস দলই অনেক কিছু জানতে পারবে।

সঙ্গে সঙ্গে অমিত শাহ বলেন, কাশ্মীর কে সীমা মে পিওকে ভি আতা হ্যায়… জান দে দেঙ্গে ইসকে লিয়ে! কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাও ৩৭০ ধারা বিলোপের পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন। পরোক্ষে সেকথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, কংগ্রেস আগে ঠিক করুক ৩৭০ ধারা নিয়ে তারা কী অবস্থান নেবে।

মঙ্গলবার কংগ্রেসের সাংসদরা সনিয়া গান্ধী ও প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা জানতে চান, সংসদে ৩৭০ ধারা নিয়ে কী অবস্থান নেবে? সনিয়া তাঁদের বলেন, আমরা ওই বিলের বিরোধিতা করব। কারণ তা সংসদে পেশ করার আগে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা অথবা জনগণের পরামর্শ নেওয়া হয়নি।

Comments are closed.