বিভাজনের বিষ যেন কিছুতেই এই দেশের মাটিকে ধ্বংস করতে না পারে: প্রণব

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ আলাদা হলেই তাকে ভয় পেতে হবে – গোটা দেশেই যেন এমন একটা পূর্বনির্ধারিত ধারনা চলে আসছে। অথচ আমাদের পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে সহনশীল হতে, অন্য মতের মানুষের সঙ্গে একত্রে বাস করতে। তাঁদের থেকে শিখতে, নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে।

    দেশজুড়ে চলা অসহিষ্ণুতা ও বিভাজনের রাজনীতির এই ভাবেই নিন্দা করলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। দিল্লিতে ক্যাথলিক বিশপদের এই সভায় এমনটাই বলেন তিনি।

    তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, এই অসহিষ্ণুতার আবহাওয়া বেশী দিন চলতে পারে না। বরং এর বিরুদ্ধে দেশের মানুষ প্রতিবাদ করে আমাদের সংবিধানের ‘বৈচিত্রের মধ্যে এক্যের’ ঐতিহ্যকেই শেষ পর্যন্ত তুলে ধরবে।

    মঙ্গলবারেই তিন রাজ্যে বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে কংগ্রেস। বিধানসভা ভোটের আগে, মেরুকরণের উদ্দেশ্যে বিজেপির অনেক নেতারাই তাঁদের বক্তৃতায় উগ্র হিন্দুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন। ভোটের ঠিক আগেই, গোহত্যার অভিযোগ থেকে শুরু হওয়া জন অসন্তোষে প্রাণ হারিয়েছেন দু’জন। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। পাঁচ রাজ্যে ভোটের এই ফলাফলকে উগ্র হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে মানুষের রায় বলেই মনে করছেন অনেকে। এই অবস্থায়, রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে আজীবন কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত প্রণবের এই কথাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    এই প্রসঙ্গে প্রণব তুলে আনেন স্বামী বিবেকানন্দের উদাহরণ। যীশুর সময়ের প্যালেস্তাইনে জন্মালে, চোখের জল নয়, হৃদয়ের রক্ত দিয়ে তাঁর পদসেবা করতাম। এমনটাই বলেছিলেন স্বামীজি।

    রামরাজ্য হোক বুদ্ধের ধর্ম  কিংবা ক্রিশ্চানদের পবিত্র রাজত্ব – সব ধর্মই সব সময় মানুষকে শিখিয়েছে সত্যি, সহানুভূতি আর ন্যায়নিষ্ঠার কথা। কিন্তু ধর্মীয় কারণে মেরুকরণ বা অসহিষ্ণুতা আসলে ধর্মের সেই শিক্ষার পরিপন্থী। তাই সহিষ্ণুতা এবং সহানুভূতির পথেই চলতে হবে আমাদের। দেখতে হবে বিভাজনের বিষ যেন কিছুতেই এই দেশের মাটিকে ধ্বংস করতে না পারে।

    তবে একই সঙ্গে যীশুর প্রসঙ্গ টেনে সবাইকে ক্ষমার করার কথাও বলেন প্রণব বাবু।

    ভোটে জেতার পর নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, বিজেপি যতই কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিন না কেন, কংগ্রেস কাউকে বাদ দিয়ে দেশ চালাতে চায় না। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণববাবুও কি আসলে সেই বার্তাই দিলেন? এমন প্রশ্নও তুলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

    এর আগে নাগপুরে আরএসএসের সদর দফতরে গিয়েও একই ভাবে এই দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে এক্যর ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেছিলেন প্রণব বাবু। কিন্তু নাগপুরে আরএসএসের সভায় গিয়ে আসলে তাদের রাজনীতিকেই মান্যতা দিয়েছেন তিনি, এমন সমালোচনাও হয়েছিল সেই সময়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More