‘বৃদ্ধ কবিকে জেলের ভিতরে মেরে ফেলবেন না!’ ভারাভারা রাওয়ের শরীর আরও খারাপ, মুক্তির দাবি আরও জোরালো

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলবন্দি কবি-সমাজকর্মী-সাংবাদিক ভারাভারা রাওয়ের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার সোশ্যাল মিডিয়া। এলগার পরিষদ মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় প্রায় দু’বছর ধরে জেলবন্দি হয়ে রয়েছেন অশীতিপর তেলুগু কবি ভারাভারা রাও। তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ। রীতিমতো অসঙ্গত কথা বলছেন তিনি। ধুঁকছেন অসুস্থতায়। এই চরম অসুস্থতার জেরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মৃত্যু না হলেও, তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

    এক মাস আগেই বিশেষ আদালতে খারিজ হয়ে গেছে কবি ভারাভারা রাওয়ের জামিনের আবেদন। বম্বে হাইকোর্টে আবারও আবেদন করা হলেও তা এখনও এজলাসে ওঠেনি। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ভিমা-কোরেগাঁও এলাকায় এক দলিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে ছড়িয়েছিল অশান্তি। দক্ষিণপন্থী একটি গোষ্ঠী এবং দলিতদের সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছিল মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

    এই ঘটনার পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ন’জন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধেই এলগার পরিষদ মামলা রুজু হয়। তার চার্জশিটে পুলিশ অভিযোগ করে, ওই কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে কোনও সাক্ষ্যপ্রমাণ এখনও হাজির করতে পারেনি পুলিশ।

    অথচ মিলছে না জামিনও। ২০১৮ থেকে বারবার অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য আবেদন করেছেন কবি নিজে। ২৭ জুন খারিজ হয়ে গেছে তা। করোনা আশঙ্কার কথাও ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি বিচারক। শুধু তাই নয়, জামিন দূরের কথা, পরিবারের দাবি অসুস্থ ও বৃদ্ধ ভারাভারা রাওয়ের চিকিৎসাটুকুও করাচ্ছে না হাসপাতাল। অভিযোগ, তাঁকে জেলেই মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    কবি ভারভারা রাওয়ের ভগ্নিপতি এন বেণুগোপাল জানিয়েছেন, ৮০ বছরের কবির শরীর খুবই খারাপ। তালোজা জেল কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করেও হাসপাতালে ভর্তি করানো হচ্ছে না তাঁকে। এ যেন কবিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, “শনিবার ফোনে কথা হয়েছে ওঁর সঙ্গে। মনে হল উনি ভুল বকছেন। আমাদের কথাগুলো ঠিক ধরতে পারছিলেন না। ওঁর বাবার শেষকৃত্যের কথা বলছিলেন, কিন্তু তিনি যখন মারা যান, তখন ভারাভারার বয়স মাত্র তিন বছর। বোধহয় সোডিয়াম-পটাশিয়াম লেভেল নেমে গিয়েছে। ওঁর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। ওঁকে ধরে ধরে হাঁটাতে হয়, এমনকি দাঁতটাও মাজিয়ে দিতে হয়। অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার। দয়া করে ওঁকে জেলে মেরে ফেলবেন না।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More