বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি শুরু মায়াবতীর, দাবি বিএসপি সূত্রে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তরপ্রদেশে ভোট ১১ এপ্রিল। কিন্তু তার আগে রাজ্যে প্রচারে দেখাই যাচ্ছে না বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীকে। তিনি প্রচার করে বেড়াছেন অন্য রাজ্যে। কেন তিনি নিজের রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে প্রচারে গিয়েছেন? বিএসপি সূত্রে খবর, সর্বভারতীয় নেত্রী হয়ে ওঠার লক্ষে এগোচ্ছেন মায়াবতী। লোকসভা ভোটের পরে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ পরিষ্কার করছেন।

৮০ টি লোকসভা আসন বিশিষ্ট উত্তরপ্রদেশে দলিত নেত্রীর দল জোট বেঁধেছে অখিলেশ সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে একটি জনসভাতেও তাঁকে দেখা যায়নি। গত সপ্তাহে তিনি প্রচার করেছেন ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং মহারাষ্ট্রে। আগামী দিনে তিনি আরও কয়েকটি জনসভা করবেন উত্তরাখণ্ড, ছত্তিসগড়, কর্ণাটক, কেরল ও তামিলনাড়ুতে।

বিএসপি সূত্রে জানানো হয়েছে, ভোটের পরে আরও বড় ভূমিকা নিতে চান তাদের নেত্রী। সম্ভবত তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের এক বড় দাবিদার হতে চাইছেন।

ভোটের পরে তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিজেও উড়িয়ে দিচ্ছেন না মায়াবতী। দু’দিন আগে তিনি অন্ধ্রের বিশাখাপত্তনমে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি প্রধানমন্ত্রী হতে চান? তিনি প্রথমে বলেন, আমি আপনাদের একটা কথাই বলতে চাই। ভোটপ্রক্রিয়া সবে শুরু হয়েছে।

এর পরে দলিত নেত্রী বলেন, আমার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা যদি জিজ্ঞাসা করেন, আমি বলব, ভোটের ফলের জন্য অপেক্ষা করুন। আমরা যদি কেন্দ্রে একটা সুযোগ পাই, উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে সারা দেশের উন্নতি করার চেষ্টা করব। এসব কাজ আমার পক্ষে নতুন নয়। আমি চারবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। আমার অভিজ্ঞতা আছে। ভোটের ফল বেরক, তারপর দেখা যাবে। মায়াবতী এর আগেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে চান। উত্তরপ্রদেশের বাইরে কোনও আসন থেকেও তিনি দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

২০১৪ সালে বিএসপি ৫০৩ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কিন্তু একটিও জিততে পারেনি। পেয়েছিল মাত্র ৪.১৯ শতাংশ ভোট। ২০০৯ সালে তাদের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৬.১৭ শতাংশ। সেবার তারা ৫০০ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। জিতেছিল ২১ টি আসন। তার মধ্যে ২০ টি উত্তরপ্রদেশে। বাকি একটি মধ্যপ্রদেশে।

উত্তরপ্রদেশেও বিএসপির ফল ক্রমশ আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। ২০০৯ সালে উত্তরপ্রদেশে তাদের প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৭.৪২ শতাংশ। ২০১৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৯.৮২ শতাংশ। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোটেও ৪০৩ টি আসনের মধ্যে বিএসপি পায় মাত্র ১৯টি।

Comments are closed.