আনলকে ‘বেপরোয়া’ মনোভাব অনেকের, প্রশাসনকে কড়া হতে নির্দেশ মোদীর

মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, করোনভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউনে মানুষের যোগদান খুব ভাল ছিল। দেশ সঠিক সময়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে বলেও প্রশংসা করেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের সময়ে সবাই যতটা নিয়ম মেনে চলেছেন আনলক পর্বে দেখা যাচ্ছে সেটা হচ্ছে না। অনেকেই ‘বেপরোয়া’ মনোভাব দেখাচ্ছেন। এতে বিপদ বাড়বে। তাই এখন প্রশাসনকে এনিয়ে কড়া অবস্থান নিতে হবে। ১ জুলাই থেকে আনলক টু শুরু হওয়ার ঠিক আগে দেশবাসীকে সতর্ক করার পাশাপাশি প্রশাসনকে কড়া হওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, করোনভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউনে মানুষের যোগদান খুব ভাল ছিল। দেশ সঠিক সময়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে বলেও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “করোনার সংকটকালে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ভারতের পরিস্থিতি ভাল। কিন্তু এখন আরও বেশি সতর্ক থাকার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কোনওরকম বেপরোয়া মনোভাব খুবই উদ্বেগের ব্যাপার। বিশেষ করে, দেশ যখন আনলক পর্বে প্রবেশ করেছে।”

    আরও পড়ুন

    বেসরকারি বাস না চললে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেব, বাসগুলি সরকার নিজে চালাবে: মুখ্যমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বলেন, মৃত্যুর হারের ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ভারত অনেকটাই ভাল জায়গায় রয়েছে। এটা হয়েছে সঠিক সময়ে লকডাউন ও অন্যান্য সিদ্ধান্তের ফলে। এর জন্য দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। সেই সতর্কতা এখনও অবলম্বন করতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই এখনও চলছে। ভারত দীর্ঘ লকডাউন কাটানোর পরে এখন আনলক পর্বে প্রবেশ করেছে। এখন আবার দেশে বর্ষাকাল চলছে। এই সময়ে ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি-কাশি-জ্বরের ঘটনা বেড়ে যায়। তাই এখন বেশি করে সাবধানে ও সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে।

    নরেন্দ্র মোদী এদিন কিছুটা ক্ষোভের সঙ্গেই বলেন, দেশে আনলক পর্ব শুরু হওয়ার পরে অনেকেই ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যবহারে ‘বেপরোয়া’ মনোভাব দেখাচ্ছেন। প্রথম দিকে সবাই মাস্ক, দু’গজ দূরত্ব বজায় রাখা বা দিনে বারবার ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান জলে হাত ধুয়ে নেওয়ার ব্যাপারে খুবই সতর্ক ছিলেন নাগরিকরা। কিন্তু আনলক পর্বে সেটা কমছে। এটা খুবই বিপজ্জনক হতে পারে বলেও সতর্ক করেন মোদী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যাঁরা বেপরোয়া মনোভাব দেখাচ্ছেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন না যে, তাঁরা করোনার বিরুদ্ধে দেশের লড়াইকেই আসলে দুর্বল করছেন। এ ধরনের মানুষদের বেপরোয়া মনোভাবে রাশ টানতে হবে এবং নিয়ম পালন করাতে হবে। তাঁর কথায়, “টোকনা হ্যায়, রোখনা হ্যায়, সমঝানা হ্যায়।” এর পাশাপাশি মোদী প্রশা‌সনকেও‌ এই ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে যে এটা ১৩০ কোটি ভারতবাসীর জীবন রক্ষার বিষয়।

    এই প্রসঙ্গে তিনি বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কথা উল্লেখ করেন। বলেন, একটি দেশে প্রধানমন্ত্রী নিয়ম ভেঙে মাস্ক না পরার জন্য তাঁকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই দেশেও মনে রাখতে গ্রামের প্রধান থেকে দেশের প্রধান নিয়ম সবার জন্যই এক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More