সোমবার, নভেম্বর ১৮

কর্তারপুর করিডোর উদ্বোধনে ৩৭০ ধারা বিলোপ, নাগরিকত্ব বিলের প্রসঙ্গ টানলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুলে গেল কর্তারপুর করিডোর।  গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্মদিন উপলক্ষে ভারতের দিক থেকে এই করিডোর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “উনি কর্তারপুর নিয়ে ভারতের ভাবনা বুঝেছেন, ভারতের ভাবনাকে সম্মান করেছেন, সেই মতো কাজ করেছেন।”

পাকিস্তানের দিক থেকেও এই করিডোর উদ্বোধন করবেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।  সেখানে তারা পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

কর্তারপুরকে শুধু ঐতিহ্য নয়, মানবতার প্রেরণা বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  তিনি শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটিকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার গত পাঁচ বছরে শিখদের জন্য কী করেছে।  একই সঙ্গে জানান, গুরু নানকের ৫৫০ তম জন্মদিন উপলক্ষে সারা বিশ্বে ভারতের দূতাবাসগুলিতে উৎসব হচ্ছে, আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রা প্রকাশ করছে, এর আগে গুরু গোবিন্দ সিংহের ৩৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষেও বিশেষ ৩৫০ টাকার স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করা হয়েছিল বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম তীর্থযাত্রী হিসাবে শিখ তীর্থস্থান কর্তারপুরে যাবেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং, অভিনেতা-রাজনীতিক সানি দেওল এবং দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরী ও হরসিমরত কৌর বাদল।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের উদ্বোধন করেন। এটিই ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট। উদ্বোধনের আগে সুলতানপুর লোধীতে দরবার সাহিব গুরুদ্বারে পুজো দেন প্রধানমন্ত্রী।

গুরু নানকের আদর্শের কথা, তাঁর দূরদর্শিতার কথা এ দিনের বক্তৃতায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। জল ও প্রকৃতিক সম্পদে গুরুত্ব দেওয়ার যে কথা গুরু নানক বলেছিলেন তা এখনও সত্যি। উৎপন্ন ফসল নিজেদের মধ্যে ভাগযোগ করে খাওয়ার কথাও বলেছিলেন গুরু নানক। তাঁর আদর্শে অবিচল থাকলে দেশ সমৃদ্ধশালী হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছিলেন। এই করিডোরও সেই সম্প্রীতির বার্তাই বহন করছে বলে মনে করেন মোদী।

সংবিধান থেকে অস্থায়ী ৩৭০ ধারা বিলোপ করার ফলে শিখরাও কাশ্মীরে সমান অধিকার পাবেন বলে উল্লেখ করেন। নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা হলে প্রতিবেশী দেশ থেকে যে সব শিখ ধর্মাবলম্বী ভারতে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব পেতে সুবিধা হবে, সে কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাসপোর্ট থাকলে বিনা বাধায় কর্তারপুরে যেতে পারবেন ভারতীয়রা, শুধু কর্তারপুরে যাওরার জন্য অনুমতি (পারমিট) নিতে হবে। অক্টোবর মাসেই কর্তারপুর করিডোর নিয়ে চুক্তি হয় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। সীমান্তে জিরো পয়েন্টে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একটি চুক্তিতে সই করেছিলেন।

সাড়ে চার কিলোমিটার কর্তারপুর করিডোর পঞ্জাবের গুরদাসপুরে শিখদের পবিত্র তীর্থস্থান ডেরা বাবা নানক মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত করছে পাকিস্তানের গুরদ্বার দরবার সাহিবকে। ডেরা বাবা নানক পাকিস্তানের পঞ্জাবের নারোওয়াল জেলায় অবস্থিত। শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক জীবনের শেষ ১৮ বছর সেখানে কাটিয়েছিলেন। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দফতরের সচিব সিএল দাস বলেছিলেন, ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভুত সব ধর্মের মানুষ এখন থেকে কর্তারপুর করিডোর ব্যবহার করতে পারবেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে, লঙ্গরের ব্যবস্থা করা হবে। গুরুদ্বার চত্বরে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

করিডোর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকবে। যে তীর্থযাত্রীরা সকালে রওনা হবেন, তাঁদের ফিরতে হবে সেদিনের মধ্যেই। সারা বছরই করিডোর খোলা থাকবে। যদি কোনও দিন বন্ধ থাকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে আগে। প্রতিদিন ভিসা ছাড়া অন্তত পাঁচ হাজার তীর্থযাত্রী ওই করিডোর দিয়ে যেতে পারবেন।

Comments are closed.