সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়লেও চিন্তা নেই, বুদ্ধিমান মোদীর হাতে রয়েছে আরও বড় অস্ত্র

নরেন্দ্র মোদীর মতো সোশ্যাল মিডিয়া ভক্ত রাজনীতিক পৃথিবীতে সম্ভবত এমন আর কেউ নেই। সোমবার পর্যন্ত এটাই যাঁর পরিচয় ছিল তিনি কেন রাত ন'টা নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার কথা বললেন? 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদীর মতো সোশ্যাল মিডিয়া ভক্ত রাজনীতিক পৃথিবীতে সম্ভবত এমন আর কেউ নেই। সোমবার পর্যন্ত এটাই যাঁর পরিচয় ছিল তিনি কেন রাত ন’টা নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার কথা বললেন?

    বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম‌ ব্যবহারে তিনি অনেকের থেকেই শত শত যোজন এগিয়ে। তাঁর সঙ্গে বরং তুলনা চলে বিশ্বের তাবড় বিনোদন বা জগতের ক্রীড়া জগতের খ্যাতদের। তিনি এতটাই সোশ্যাল মিডিয়া আসক্ত। না, আসক্ত বলাটা ঠিক হবে না, তিনি নিজে হাতে কিছুই করেন না। বিজেপির মতো তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া সামলানোর জন্য পেশাদাররা নিয়োজিত। অনেকে বলেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা নিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া। তাঁকে এমনও কটাক্ষ শুনতে হয়েছে যে, তিনিই ভারতের প্রথম ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ প্রধানমন্ত্রী।

    সেই তিনি কিনা সব ছেড়ে দেবেন আগামী ৮ মার্চ। কোনও অনুপ্রেরণাদায়ী নারীর হাতে তুলে দেবেন সোশ্যাল মিডিয়া সম্পদ। হ্যাঁ, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার যা ব্যাপ্তি তা রীতিমতো সম্পদই বটে। সবেতেই কোটি কোটি ফলোয়ার। মোদীর এই স্বেচ্ছায় দানের কথাও তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেই ফলাও করে জানিয়েছেন। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের যে গুণ তাঁর মধ্যে রয়েছে সেটা এক্ষেত্রেও সফল ভাবে ব্যবহার করলেন। আপাতত নতুন খোঁজে ব্যস্ত থাকবে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত।

    কিন্তু তারপর? এই তারপর নিয়ে যারা চিন্তিত তাদের জানা দরকার নরেন্দ্র মোদী অত্যন্ত বুদ্ধিমান। আর তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ছেড়ে দেওয়ার আগেই তৈরি করে রেখেছেন অনেক শক্তিশালী এক অস্ত্র। তার নাম– নমো অ্যাপ।

    প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পরে পরেই এই অ্যাপ তৈরি করেছিলেন তিনি। দিনটা ছিল ১১ জুন, ২০১৫। গত পাঁচ বছরে ইতিমধ্যেই সেই অ্যাপ ডাউলোড হয়েছে দেড় কোটির কাছাকাছি। মোট ১৩টি ভাষায় ব্যবহার করা যায় এই অ্যাপ। গত লোকসভা নির্বাচনের সময়ে অন্যান্য ভাষার সঙ্গে উর্দুও যুক্ত হয়েছে।

    গত সাধারণ নির্বাচনের আগে বিজেপি যে সমীক্ষা চালিয়েছিল তাতেও মূল ভূমিকা ছিল এই অ্যাপের। সেই সময়ে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, দেশের ৫০২ লোকসভা আসনে ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ওই সমীক্ষায় অংশ নেয়। আর তার সবটাই নমো অ্যাপের মাধ্যমে।

    শুধুই কি মোদীর বার্তা পৌঁছে দোওয়া? মোটেও তা নয়। ওই অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের কাজও করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোনও সেবামূলক কাজের জন্যই হোক বা দলীয় তহবিলের জন্য সাধারণ মোদী ভক্তদের থেকে ওই অ্যাপের মাধ্যমেই অল্প অল্প করে অনেক অর্থ সংগ্রহ করা যায়। এখানেই শেষ নয়, ওই অ্যাপের মাধ্যমে জিনিসপত্র বিক্রির সুযোগও রয়েছে। তথ্য বলছে, নমো মার্চেন্ডাইসের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৫.২ কোটি টাকার বিক্রিবাটা হয়। সারা বছরই সেখানে মোদী পোশাক থেকে মোদীর ছবি, মুখোশ, জ্যাকেট, বই ইত্যাদি বিক্রি হয়ে থাকে। গত ভ্যালেন্টাইনস ডের সময়েই নরেন্দ্র মোদী স‌ফট টয় বিক্রি করা হয়েছে ওই অ্যাপের মাধ্যমে।

    এই অ্যাপ আবার একবার তৈরি হয়েই থেমে নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আপডেটেড হয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর গত জন্মদিন মানে ২০১৯ এর ১৭ সেপ্টেম্বরের ঠিক আগে শেষবার আপডেট করে অ্যাপটি আরও স্লিক ও ফার্স্ট হয়। সেটা খোদ মোদীই টুইট করে জানিয়েছিলেন। শেষ আপডেশনের পরে এই অ্যাপটিতে একটি নতুন ফিচার তৈরি হয় যার নাম– নমো এক্সক্লুসিভ। সেখানে গেলেই প্রতিদিন তিনি কোথায় কী করছেন থেকে তাঁর ভাষণ, তাঁর অতীত কাহিনি সব পাওয়া যায়। শুধু নিজের নয় বিজেপির বড় কর্মসূচির মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন এক ক্লিকে চলে আসে মোবাইলে। চাইলেও পাওয়া যায় তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের যে কোনও এপিসোড।

    এখান‌েও শেষ নয়। ওই অ্যাপে যে কেউ প্রশ্ন পাঠালে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর থেকে তার জবাব পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর তরফে আসে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা।

    সুতরাং, মোদীর সোশ্যাল সন্ন্যাস নিয়ে যাঁরা চিন্তিত তাঁরা জেনে রাখুন, একটা বড় প্লাটফর্ম তৈরি করার পরেই অন্যান্য সোশ্যাল প্লাটফর্ম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বলা যায় না, এবার নমো অ্যাপের মাধ্যমেই নতুন কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম তিনি বানিয়ে ফেলবেন কিনা। বলা যায় না শিগগিড়িই তিনি সামনে নিয়ে আসবেন একেবার ‘স্বদেশী’ ফেসবুক। তাতে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে আম আদমিও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More