ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা মোদীর, আলোচনায় ভারত-চিন সীমান্ত উত্তেজনা

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়েছে, দুই দেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ‌পরিস্থিতি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংস্কার ইত্যাদি বিষয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন মোদী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করলেনপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে শুধু সীমান্ত উত্তেজনাই নয়, আমেরিকায় পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর কারণে তৈরি হওয়া অশান্তি-সহ অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে এই আলোচনার কথা জানানো হয়েছে।

    কেন্দ্রের ওই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে চলা আগামী জি-৭ সম্মেলন যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এদিন আমন্ত্রণও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, “সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যাতে ভারত-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশকে এই সম্মেলনের অন্তভুর্ক্ত করা যায়।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আমেরিকায় চলা অশান্তি নিয়ে এদিন টেলিফোনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সঙ্গে আমেরিকা দ্রুত এর সমাধান বের করে ফেলবে বলে আশা প্রকাশও করেছেন।

    তবে মনে ক‌রা হচ্ছে মূল আলোচনাই ছিল চিনের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা। তবে পূর্ব লাদাখে ভারত ও চিনেরা সেনার মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, তা বিশদে জানানো হয়নি ওই বিবৃতিতে।

    আরও পড়ুন

    বৃদ্ধির পথে ফিরবে ভারত, বিশ্বাস করুন, এটা কঠিন নয়: সিআইআইয়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী

    সীমান্ত সমস্যা নিয়ে ভারতের বক্তব্য, লাদাখ ও সিকিমে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনাবাহিনীর টহলদারীতে বাধা দিচ্ছে চিন। এই পরিস্থিতিতে সোমবার আমেরিকার হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের বিদেশ সংক্রান্ত কমিটির প্রধান এলিয়ট এঞ্জেল বলেন, “ভারত সীমান্তে আগ্রাসন চালাচ্ছে চিন। তারা শান্তিপূর্ণ পথে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ মেটাতে আগ্রহী নয়। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার দায় নেই তাদের। তারা প্রতিবেশী দেশের ওপরে হামলা করতেই পছন্দ করে।” ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান এঞ্জেল আরও বলেন, “প্রতিটি দেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলতে হবে। সব ব্যাপারে গায়ের জোর ফলালে চলবে না। আমি চিনের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন কূটনীতির পথে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা মেটাতে চেষ্টা করে।”

    আমেরিকার এই রকম বক্তব্যের পরের দিনই প্রধানমন্ত্রী মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়েছে, দুই দেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ‌পরিস্থিতি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংস্কার ইত্যাদি বিষয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন মোদী।

    ভারত ও চিনের মধ্যে ৩৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। সীমান্ত সমস্যা নিয়ে দুই দেশের আলোচনা চলছে দুই দশক ধরে। তার পরেও কোনও গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যায়নি। এই ভাবেই চলছে দীর্ঘদিন। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর মধ্যেই মে মাসের শুরুতে লাদাখে সীমান্ত লঙ্ঘন করে চিনা সৈনিকরা। এরপরে ওই অঞ্চলে সেনা সমাবেশ ঘটায় ভারতও। প্রায় এক মাস ধরে লাদাখে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দুই দেশের বাহিনী মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। ভারতের অভিযোগ, লাদাখ ও সিকিম সীমান্তে তাদের সেনাকে টহল দিতে বাধা দিচ্ছে চিন। এর আগে চিন অভিযোগ করেছিল, ভারতের সেনা তাদের দেশে ঢুকে পড়েছে। সেই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে ভারত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More