সংকটাপন্ন কোভিড রোগীদের প্লাজমা থেরাপি শুরু হচ্ছে কলকাতায়, ট্রায়াল টিমের প্রস্তুতি তুঙ্গে

মেডিক্যাল কলেজের ইমিউনো হেমাটোলজি ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের এই ঐতিহাসিক কাজের প্রথম যোদ্ধা হাবরার তরুণী মনামী বিশ্বাস। তিনি এ রাজ্যের তৃতীয় করোনা আক্রান্ত ছিলেন। স্কটল্যান্ডের এই পড়ুয়া দেশে ফিরে আক্রান্ত হন। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। তিনিই প্রথম প্লাজমা দিলেন এই চিকিৎসায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ মাসের গোড়ার দিকেই কয়েকটি হাসপাতালকে আরও বড় স্তরে প্লাজমা থেরাপির ট্রায়েলের অনুমোদন দিয়েছে আইসিএমআর। এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চরম সংকটাপন্ন কোনও রোগীর চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের কাজ শুরু হয়ে গেল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

    মেডিক্যাল কলেজের ইমিউনো হেমাটোলজি ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের এই ঐতিহাসিক কাজের প্রথম যোদ্ধা হাবরার তরুণী মনামী বিশ্বাস। তিনি এ রাজ্যের তৃতীয় করোনা আক্রান্ত ছিলেন। স্কটল্যান্ডের এই পড়ুয়া দেশে ফিরে আক্রান্ত হন। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। তিনিই প্রথম প্লাজমা দিলেন এই চিকিৎসায়।

    আরও পড়ুন

    মহারাষ্ট্রে করোনার কবলে দু’হাজারের বেশি পুলিশকর্মী, একদিনেই কোভিড পজিটিভ ১৩১ জন

    জানা গেছে, এ মাসের ১৮ তারিখেই মনামীর রক্তের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় মেডিক্যাল কলেজে। ১৯ তারিখে জানানো হয়, তাঁর রক্ত প্লাজমা থেরাপির জন্য উপযুক্ত। ২০ তারিখ হাবরা থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইমিউনো হেমাটোলজি ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগে এসে রক্ত দিতে বলা হয় তাঁকে। প্রস্তুতি পুরো সারা হলেও, উমফান বিপর্যয়ে ভেস্তে যায় সব। ফলে ২৫ তারিখ ফের যোগাযোগ করা হয়। ২৭ তারিখ একটি গাড়ি ভাড়া করে কলকাতায় এসে শেষমেশ রক্ত দেন মনামী।

    ইমিউনো হেমাটোলজি ব্লাড ট্রান্সফিউশন ডিপার্টমেন্টের বিভাগীয় প্রধান ও এই পুরো প্লাজমা থেরাপি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রিন্সিপ্যাল ইনভেস্টিগেটর প্রসূন ভট্টাচার্য জানান, ৪১০ মিলিলিটার রক্তরস বা প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়েছে মনামীর দেহ থেকে। মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়েছে সেটি। এভাবে এক বছর পর্যন্ত রাখা যাবে প্লাজমা। তিনি আরও জানান, দু’জনের শরীরে এই রক্তরস প্রয়োগ করা যাবে।

    অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম নিয়ে যে করোনা রোগীরা ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছেন, তাঁদের শরীরেই প্রয়োগ হবে এই থেরাপি। বেলেঘাটা আইডি-তে ভর্তি থাকা দুই রোগীকে বেছেও নেওয়া হয়েছে। ট্রায়ালের প্রস্তুতি সারা। এর আগে দেশে যতগুলি প্লাজমা থেরাপির ট্রায়াল হয়েছে, তা প্রয়োগ করা হয়েছে সামান্য উপসর্গ থাকা রোগীদের উপর। সংকটাপন্ন রোগীদের উপর এই থেরাপি এই প্রথম প্রয়োগ করা হবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে।

    দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও নার্সদের দল রয়েছেন এই ট্রায়ালের পেছনে। ইমিউনো হেমাটোলজি ব্লাড ট্রান্সফিউশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান প্রসূন ভট্টাচার্য এই ট্রায়ালের প্রিন্সিপ্যাল ইনভেস্টিগেটর। রয়েছেন ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ভাইরোলজিস্ট, প্রফেসর ও ডক্টর বিভূতি সাহা। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্লিনিক্যাল বায়োলজির প্রিন্সিপ্যাল সায়েন্টিস্ট ডক্টর দীপ্যমান গাঙ্গুলি এবং
    বেলেঘাটা আইডির মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডক্টর বিশ্বনাথ শর্মাসরকার রয়েছেন এই দলে। এছাড়াও আছেন রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা– ডক্টর যোগী রাজ, ডক্টর দুর্বা বিশ্বাস, ডক্টর চিকম মাইতি, ডক্টর সৌম্যরূপা মাঝি, ডক্টর সুমন হালদার, ডক্টর সায়ন্তন সাহা, ডক্টর মহম্মদ আজহারউদ্দিন প্রমুখ।

    আসন্ন এই ট্রায়াল সফল হওয়ার ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংকটাপন্ন করোনা রোগীরা যদি এই প্লাজমা থেরাপিতে সাড়া দেন, তবে তা দেশের কোভিড মোকাবিলাকে একধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে দিতে পারে। সেদিকেই এখন তাকিয়ে সকলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More