বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

মাঝ আকাশে বিগড়ে গেল প্লেনের ইঞ্জিন, বাইরে ছিটকে এল কমলা অগ্নিপিণ্ড! তার পর…

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিমান তখন কয়েক হাজার মিটার উচ্চতায়। আচমকা বিকট শব্দ। কেঁপে গেল প্লেন। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল মুহূর্তে। আর এর মধ্যে, প্লেনের চার দিক দিয়ে ঘুরতে শুরু করল একটি উজ্জ্বল কমলা রঙের ধাতব গোলক!

ইতিমধ্যেই ঘোষণা হচ্ছে, বিমানটির একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। ওই ধাতব অগ্নিপিণ্ডের মতো বস্তুটি ইঞ্জিনেরই টুকরো। স্বাভাবিক ভাবেই তোলপাড় পড়ে যায় যাত্রীদের মধ্যে। ভয়ে, আতঙ্কে অস্থির হয়ে তাঁরা ধরেই নেন, এই বোধ হয় শেষ মুহূর্ত। গরম হয়ে যেতে থাকে প্লেনের ভেতরটা। পরে অবশ্য পাইলটের দক্ষতায় নিরাপদে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

বুধবার আটলান্টা থেকে বাল্টিমোর যাচ্ছিল একটি ডেল্টা ফ্লাইট। ১৪৮ জন যাত্রী ছিলেন তাতে। ওই বিমানেই ঘটে এই দুর্ঘটনা। মাঝ আখাশে আচমকাই বিগড়ে যায় বিমানটির একটি ইঞ্জিন। ফলে নর্থ ক্যারোলিনার রেলেইগ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। নিরাপদেই নামতে পারেন সকলে।

যাত্রীরা জানান, আচমকা খুব জোরে একটি শব্দ শোনা যাক ককপিট থেকে। ধোঁয়াও বেরোতে শুরু করে। “তখনই আমরা সকলে খুব ভয় পেতে যাই। আমর ভেবেছিলাম, বড় কোনও বিপদ হয়েছে।”– বলেন এক যাত্রী অ্যাভেরি পর্চ। আর এক যাত্রী টাইলার ক্রিউগার বলেন, “আচমকাই বিমানটির গতি কমে গেল। ভেতরটা গরম হয়ে যাচ্ছিল। আমি ফোনটা বার করলাম। জানতাম, কাজ করছে না, তব মাকে আর বাবাকে একটা টেক্সট করলাম। লিখলাম, ‘আই লাভ ইউ’। তখন ভেবেছিলাম, আর কখনও বলার সুযোগ পাব না।”

ডেলটা এয়ার সূত্রের খবর, ১৪২৫ নম্বর বিমানটির এখটি ইঞ্জিন আচমকাই বিগড়ে যায় মাঝ আকাশে। নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলে সেটি। ইঞ্জিনটি পুড়ে যায়, টুকরোগুলো ছড়িয়ে পড়ে আকাশেই। খুব বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত, যদি না অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পাইলট জরুরি অবতরণ করতে পারতেন।

নর্থ ক্যারোলিনায় বিমানটি নামার পরে তার ইঞ্জিন বদলানো হয়। যাত্রীরা অপেক্ষা করেন, তাঁদের রিফ্রেশমেন্টের ব্যবস্থা করে ডেলটা। তার পরে বিমানটি ভাল করে ফের পরীক্ষা করার পরে সেটি উড়ে যায় গন্তব্যে।

Comments are closed.