Latest News

ঊনবিংশ শতাব্দীর ফটোগ্রাফারদের তোলা ছবিতে মানুষেরা হাসতেন না কেন!

ব্যাপারটি বিস্ময়কর মনে হলেও, এর পিছনে আছে নানা কারণ।

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঊনবিংশ শতাব্দীর ফটোগ্রাফারদের তোলা খুব কম ছবি পাওয়া যাবে, যে ছবিতে মানুষটি হাসছেন বা হাসিহাসি মুখে চেয়ে আছেন ক্যামেরাম্যানের দিকে। ব্যাপারটি বিস্ময়কর মনে হলেও, এর পিছনে আছে নানা কারণ। জেনে নিন ঊনবিংশ শতাব্দীর ছবিগুলিতে মানুষের হাসিমুখ না থাকার প্রধান দশটি কারণ।

(১) সে যুগের ক্যামেরায় একটি ছবি তুলতে সময় লাগতো প্রায় ১৫ মিনিট। পনেরো মিনিট ধরে ক্যামেরার সামনে হাসিহাসি মুখে বসে থাকা কোনও মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। নীচের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ক্যামেরার সামনে থাকা মানুষটির মাথা পাছে নড়ে যায়, তাই মাথার পিছনে লাগানো হয়েছে ধাতব ফ্রেম। ওই অবস্থায় মুখে হাসি আনা আদৌ কি সম্ভব ছিল!

(২) তখন ছবি তোলাটা এখনকার মতো সহজ ছিল না। ছবি তুলতে যাওয়া মানুষদের বুকে কাঁপন ধরাতো স্টুডিওর অন্ধকার ও ভুতুড়ে পরিবেশ। মানুষ ঘাবড়ে যেতেন ক্যামেরার সামনে। তাই তাঁদের মুখে হাসি আসত না। নীচের ছবিতে ফুটে উঠেছে স্টুডিয়োর ভুতুড়ে পরিবেশ।

(৩) অনেকে চাইতেন না নিজের মানসিক অবস্থা ফুটে উঠুক ছবিতে। তাই ভাবলেশহীন মুখে তাকিয়ে থাকতেন। যেমন নীচের ছবিটিতে থাকা ব্যক্তিটি।

(৪) সে যুগের ফটোগ্রাফাররা বেশিরভাগ সময়ে, ঠোঁট কিছুটা গুটিয়ে রাখতে বলতেন। ছবিতে পুরো ঠোঁট এলে নাকি মুখটা বড় দেখায়। ছোট ঠোঁট ছবিতে দেখতে সুন্দর লাগে। নীচের ছবির নারীটিকে তাই ঠোঁট কিছুটা গুটিয়ে রাখতে হয়েছে। তিনি হাসবেন কীভাবে!

(৫) ঊনবিংশ শতাব্দীর মানুষেরা আজকের মতো দাঁতের যত্ন নিতেন না। তাই ছবিতে হাসলে দাঁতের সমস্যা ধরা পড়ার ভয় ছিল। সে যুগের চিত্রশিল্পীরা তাঁদের আঁকা মানুষের পোট্রেটে, নষ্ট হওয়া দাঁত তুলি দিয়ে এঁকে দিতেন। কিন্তু সে যুগের ফটোগ্রাফিতে ভাঙা দাঁত লুকানো সম্ভব ছিল না। তাই মুখ বন্ধ রাখতে বলা হতো।

(৬)  দাঁত দেখিয়ে হাসাকে, সে যুগে মাতাল আর পাগলদের লক্ষণ বলে ভাবা হতো। ছবিতে মুখের কোনও অভিব্যক্তি ধরা পড়লেই মনে করা হতো ব্যক্তিটির মানসিক স্থিরতা নেই। তাই মন চাইলেও হাসা যেতো না ছবি তোলার সময়। এমনকি শিশুদেরও ভাবলেশহীন মুখে ছবি তুলতে বাধ্য করা হতো।

(৭) সে যুগে ছবি তোলাটা ছিল বিরল একটা ঘটনা এবং বেশ খরচ সাপেক্ষ্য। সেই যুগে এমন মানুষই বেশি ছিলেন, যাঁদের সারাজীবনে একটাও ফটো ওঠেনি। তাই ছবি তোলার সময় মানুষ খুব সিরিয়াস হয়ে যেতেন।

(৮) অনেক সময়ে নিজের আভিজাত্য প্রকাশ করার জন্যই ক্যামেরার সামনে গম্ভীর থাকতেন সে যুগের মানুষেরা।

(৯) সে যুগের ফটোগ্রাফারা চাইতেন, হাতে আঁকা ছবির মতোই সুন্দর হোক তাঁদের তোলা ছবি। তাঁরা বলতেন, ছবিকে সুন্দর করে তোলার জন্য হাসার দরকার নেই। দ্য ভিঞ্চির আঁকা মোনালিসাও তো হাসেননি। তাই বলে কি তাঁর পোট্রেট  বিশ্ববিখ্যাত হয়নি! এই ছবিটি তোলা হয়েছে কিছুটা মোনালিসার স্টাইলেই। 

(১০) অনেক সময়ে মানুষ মারা যাওয়ার পর, তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে জীবনের প্রথম ও শেষ ছবি তোলা হতো। তাই মৃত মানুষটির ছবি স্বাভাবিকভাবেই ভাবলেশহীন হতো।

তবে ঊনবিংশ শতাব্দীতেই ছবিতে হাসি রাখার সাহস দেখিয়েছিলেন এক ফটোগ্রাফার। ন্যাশনাল লাইব্রেরী অফ ওয়েলসের বিশেষজ্ঞেরা খুজে পেয়েছিলেন সেই ছবি। ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৮৫৮ সালে। উইলি নামে আঠেরো বছরের একটি ছেলের ছবি। তাঁদের মতে সেটিই বিশ্বের প্রথম ছবি, যে ছবিতে কোনও মানুষকে প্রথমবার হাসতে দেখা গিয়েছিল। অবশ্য মুখ টিপে।

সেই ছবি। যে ছবিতে সাবজেক্টকে প্রথম হাসতে দেখা গিয়েছিল।

You might also like