Latest News

রবীন্দ্রনাথের শশুরবাড়ি, দেখতে হলে যেতে হবে খুলনা জেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশের খুলনা (Khulna) জেলার দক্ষিণডিহির গ্রামের ছিল অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের স্ত্রী দিগম্বরীদেবী ছিলেন দক্ষিণডিহির মেয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) মা সারদাসুন্দরী দেবীও এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এমনকি রবীন্দ্রনাথের কাকিমা ত্রিপুরাসুন্দরী দেবীও এই গ্রামেরই মেয়ে ছিলেন।

দক্ষিণডিহি গ্রামেরই বেণীমাধব রায়চৌধুরী ও দাক্ষায়ণী দেবীর একমাত্র কন্যা ভবতারিণী বা ‘ফুলি’র সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বিবাহ ঠিক হয়েছিল। ফুলির বাবা বেণীমাধব রায়চৌধুরী ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের সেরেস্তার কর্মচারী। ১২৯০ বঙ্গাব্দের ২৪ অগ্রহায়ণ বিবাহ হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ও ভবতারিণীর মধ্যে। ঠাকুরবাড়ির প্রথা অনুসারে ভবতারিণীর নাম রাখা হয়েছিল ‘মৃণালিনী’। এখন আমরা যাব খুলনা জেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে। যেখানে আছে রবীন্দ্রনাথের শশুরবাড়ি।

খুলনা থেকে যশোহরগামী সড়ক ধরে, উত্তর পশ্চিমে ১৯ কিমি এগিয়ে গেলে আসবে ফুলতলা উপজেলার বেজের ডাঙ্গা বাসস্টপ। বাসস্টপ থেকে রিক্সা বা অটোতে আরও ৩ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে গেলে এগিয়ে আসবে একটি  গ্রাম। নাম দক্ষিণডিহি।
গ্রামের  কেন্দ্রস্থলে আছে একটি সাদা দোতলা বাড়ি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শশুরবাড়ি।
বাড়িটির একতলায় ৪টি এবং দোতলা ২টি ঘর রয়েছে। দোতলা বাড়িটির উপর একটি চিলেকোঠা আছে।বাড়িটির স্থাপত্যে বৃটিশ প্রভাব সুস্পষ্ট।
রবীন্দ্রনাথের শশুরবাড়ির সামনে বাংলাদেশ সরকারের লাগানো ফলকে দেখা যাচ্ছে বাড়িটির নকশা।
রবীন্দ্রনাথের শশুর বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ও মৃণালিনীদেবীর আবক্ষ মূর্তি। যদিও বাংলাদেশের রবীন্দ্রপ্রেমীদের অভিযোগ, মূর্তিটি রবীন্দ্রনাথের বলে বোঝা যায় না।
রবীন্দ্রনাথের শৈশব থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত, বিভিন্ন সময়ের আলোকচিত্র দিয়ে সাজানো আছে বাড়িটি।একতলায় আছে একটি লাইব্রেরিও।
দর্শকদের জন্য, ভবনটি খোলা থাকে মঙ্গল থেকে শনি, সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা। সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। রবিবার বন্ধ থাকে।
প্রবেশমূল্য ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৫ টাকা, বাকিদের ১০ টাকা। বিদেশিদের প্রবেশমূল্য ২০০ টাকা।
বাবা মায়ের হাত ধরে আসা শিশুটিও হারিয়ে যায় রবীন্দ্রনাথে।
‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স ‘প্রাঙ্গণ। প্রতিবছর ২৫শে বৈশাখ ও ২২শে শ্রাবণ, এই ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’ প্রাঙ্গণে লোকমেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রবীন্দ্র কমপ্লেক্স ভবনের পূর্বদিকের প্রাঙ্গণে সফেদা গাছের নীচে আছে মৃণালিনী মঞ্চ।
১৯৪০ সাল নাগাদ রবীন্দ্রনাথের শ্বশুর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর পরিবারের সবাই ভারতে চলে এসেছিলেন। বেদখল হয়ে গিয়েছিল বাড়িটি। প্রায় ৫০ বছর পর, ১৯৯৫ সালের ১৪ নভেম্বর জনগণের দাবিতে বাংলাদেশ সরকার বাড়িটি অধিগ্রহণ করেছিল।রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি ও লাগোয়া ৭ একর ৮ শতক জমি নিয়ে গড়ে উঠেছিল ‘দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স’।

বিশ্বের প্রথম চর্বিমুক্ত সাবান বানিয়েছিল গোদরেজ, একটি সাবানের বিজ্ঞাপনে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ

You might also like