Latest News

রহস্যময় কালিঞ্জর দূর্গ, এখানেই প্রয়াত হয়েছিলেন শের শাহ সুরি

এই দূর্গের প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে ইতিহাস। দূর্গের প্রতিটি দেওয়াল একটি নতুন গল্প শোনায়। ধর্ম,ভালবাসা,লোভ, লালসা আর বিশ্বাসঘাতকতার গল্প।

উত্তর প্রদেশের বান্দা জেলায় অবস্থিত এই দূর্গ। কাছেই মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহো।বিন্ধ পর্বতের প্রান্তে থাকা একটি পাথুরে পাহাড়ের ওপরে ১২০৩ ফুট উচ্চতায় দূর্গটির অবস্থান।
‘কাল’ কথার অর্থ সময় এবং ‘জর’ কথার অর্থ ধ্বংস। স্থানীয় মানুষরা বলেন, মহাদেব হলাহল পান করে নীলকণ্ঠ হওয়ার এই এলাকায় আসেন। যেখানে তিনি কাল বা সময়কে পরাজিত করেন। সেই থেকেই এই দূর্গের তথা এলাকার নাম কালিঞ্জর।

এই অঞ্চলে রাজত্ব করেছেন  চান্ডেলা, সোলাঙ্কি , গুপ্ত রাজবংশ। পরবর্তীকালে বিভিন্ন মুসলিম শাসকদের অধীনে চলে যায় এই দূর্গ। ষোড়শ শতাব্দীতে পেশোয়া বাজিরাও মুঘলদের হারিয়ে এই দূর্গের দখল নিয়েছিলেন।

১৫৪৫ খ্রীষ্টাব্দের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে এখানেই মৃত্যু হয় শের শাহ সুরির।

এই দূর্গের ভেতর দর্শকরা দেখতে পাবেন গুহা ,মন্দির থেকে রাজপ্রাসাদ। পাথর খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে এগুলি।

চান্দেলা রাজবংশের রাজারা কালিঞ্জরাধিপতি উপাধি ব্যবহার করতেন। এর সাহায্যে বোঝা যায় সেই যুগে এই দূর্গের। প্রতিপত্তি।

দূর্গের ভেতর আছে মহাদেবের মন্দির, নীলকণ্ঠের মন্দির নামে খ্যাত। স্থানীয় মানুষ আজও পুজা করেন নিষ্ঠাভরে।

দূর্গের সর্বত্র ভগ্নদশায় অযত্নে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেবদেবীর মূর্তি। কারা গড়েছিলেন,কারা ভেঙেছিলেন তার সাক্ষী  এই কালিঞ্জর দূর্গ।

দুর্গের ভেতরে রাজকীয় স্নানাগারে আজও জল আছে। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কত ইতিহাস। কোথা থেকে আসছে এই জল তা আজও রহস্য।

 ভ্রমণবিলাসী হলে ঘুরে আসুন পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে। আর হ্যাঁ, অবশ্যই ক্যামেরা নিয়ে।ছবি তোলার আদর্শ জায়গা এই কালিঞ্জর দূর্গ।

রেলপথে গেলে, আতারা নামুন সেখান থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে কালিঞ্জর দূর্গ। সড়ক পথে খাজুরাহো থেকে কালিঞ্জর দূর্গের দূরত্ব ১৩০ কিলোমিটার এবং এলাহাবাদ থেকে ২০৫ কিলোমিটার। চিত্রকূট থেকে ৭৮ কিলোমিটার। খাজুরাহো বিমানবন্দর থেকে কালিঞ্জর দূর্গ ১০০ কিলোমিটার। বাস,টুরিস্ট ট্যাক্সি ও ভাড়া গাড়ি পাবেন কালিঞ্জর দূর্গে আসার জন্য।

ছবি: সুরজিৎ শীল

You might also like