Latest News

ফোটোগ্রাফারদের মতে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর গ্রামটির নাম ‘হলস্ট্যাট’

১৮৪৬ থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত এই এলাকায় খনন চালিয়েছিলেন একদল প্রত্নতাত্বিক। আবিষ্কৃত হয়েছিল এক অজানা সভ্যতা ও সংস্কৃতি। জানা গিয়েছিল আল্পসের প্রত্যন্তে লুকিয়ে থাকা এই এলাকাটিতেই ব্রোঞ্জ যুগের সমাপ্তি ও লৌহ যুগের সূত্রপাত ঘটেছিল। তাই, ব্রোঞ্জ ও প্রাথমিক লৌহ যুগের সংস্কৃতির নাম হলস্ট্যাট সংস্কৃতি।

ভিয়েনা-সালসবার্গ লাইনের ট্রেনে উঠে নামতে হবে Attnang-Puchheim স্টেশন। সেখান থেকে Bad Ischl -Obertraun লাইনের ট্রেন ধরে হলস্ট্যাট স্টেশনে নামুন। Hallstättersee হ্রদের পূর্ব তীরে এই স্টেশন। স্টেশন থেকে বেরিয়ে ঢালু রাস্তা দিয়ে নেমে দাঁড়ান গিয়ে হ্রদের ধারে। এখান থেকে হলস্ট্যাট যাওয়ার বোট ছাড়ছে।

দু দিকে পাহাড়। তাদের মধ্যে দিয়ে বহুদূর পর্যন্ত চলে গেছে ৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের হ্রদটি। লেকের ওপারে আশ্চর্য গ্রাম হলস্ট্যাট। এক ঝলক দেখেই গ্রামটিকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে মাতামাতির কারণটা অনুভব করতে পারবেন আপনি।

উত্তর অস্ট্রিয়ার সালসকামার্গাট লেক জেলার পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে আছে এই ছোট্ট গ্রামটি। ৩৫০০ বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বুকে নিয়ে বাঁচছে হলস্ট্যাট ভিলেজ।

এখানকার প্রতিটি বাড়ি, দোকান, ক্যাফে, রেস্তোরাঁগুলি সবুজ অর্কিড আর নানা রঙের মরশুমি ফুলে মুড়ে রাখা হয়। দেখলে মনে হবে সেগুলি যেন ফুলেরই দোকান।

১৯৯৭ সালে হলস্ট্যাট এবং ডাশ্চটেইন সালসকামার্গাট অঞ্চলকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট বলে ঘোষণা করে UNESCO। তারপর থেকে যেন পর্যটকদের ঢল নেমেছে এই কয়েকশো লোকের গ্রামটিতে। অস্ট্রিয়ার অন্যতম ট্যুরিস্ট আকর্ষণ আজ হলস্ট্যাট।

কেউ বলেন, বিশ্বের সুন্দরতম গ্রাম। কেউ বলেন ‘হিমবাহের বাগান শহর‘। কেউ বলেন ‘অস্ট্রিয়ার মুক্তো‘, কেউ বলেন ছবি তোলার শ্রেষ্ঠ গ্রামের নাম হলস্ট্যাট।

শুধুমাত্র অর্থ থাকলেই আস্ত একটা পাহাড়ি গ্রামকে ছবির মত সাজিয়ে যায় না। এখানকার বাসিন্দাদের উন্নতমানের নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গীই হল হলস্ট্যাটের সৌন্দর্যের গোপন রহস্য। তাই, পাহাড়ের যত উঁচুতে উঠবেন তত রূপসী হয়ে উঠবে হলস্ট্যাট।

শীতকালে প্রবল তুষারপাত অস্ট্রিয়াকে সাদা চাদরে মুড়ে দেয়। গ্রীষ্মে বরফ গলে গেলে, শ্বাসরোধকারী সৌন্দর্য নিয়ে জেগে ওঠে ইউরোপের সবচেয়ে পুরনো গ্রাম। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর জনপদ। যেখানে সময় থেমে গেছে অতিপ্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে।

You might also like